মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সিলেটে রাজনীতির আতঙ্ক টিলাগড় ছাত্রলীগ



বিশেষ প্রতিনিধি:: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেটের নেতাকর্মী ও তাদের অভ্যান্তরীণ কোন্দলে আতঙ্ক বিরাজ করছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

ছাত্রলীগ’র একের পর এক সংর্ঘষে টিলাগড়ে খুন হচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা। ঐ টিলাগড়েই আরো তিন ছাত্রলীগ কর্মী খুন হন। যার ফলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কমিটি বাতিল করা হয়।

তবুও টিলাগড়ে থামেনি রক্তের হুলিয়া খেলা। আর এই রক্ত খেলায় মরিয়া টিলাগড় কেন্দ্রিক দুই গ্রুপ। এই দুই গ্রুপের প্রধানরা জেলা আ’লীগের রয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ পদে তবুও তাদের গ্রুপিং।

সর্বশেষ রবিবার (৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ টায় সিলেট জেলা আওয়ামীলীগ নেতা কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের অফিসের সামনে এডভোকেট রনজিত সমর্থিত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তানিম খানের গ্রামের বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের নিজ বুরুঙ্গা গ্রামে। তার বাবার নাম ইসরাইল খান। সে সিলেট শহরতলীর মেজরটিলা এলাকায় একটি মেসে থাকত। এ ঘটনায় এলাকায় ছাত্রলীগকর্মী তানিম খাঁন খুনের ঘটনায় ‘ফাইটার’ খ্যাত ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন ডায়মন্ডসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর প্রকাশ্য দিবালোকে টিলাগড় মসজিদ সংলগ্ন রাস্তার সামনে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে ছাত্রলীগের খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী ওমর আহমদ মিয়াদ। নিহত মিয়াদ সিলেট এমসি কলেজে বিএসএস এবং লিডিং ইউনিভার্সিটিতে আইন বিষয়ের ছাত্র ছিলেন। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে প্রকাশ্যেই ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় তোফায়েল নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। মিয়াদের বাবার করা মামলায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীকে প্রধান আসামী করা হয়। এরপর কেন্দ্রের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বাতিল করা হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। যা এখনো পুনর্গঠনে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এর আগে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বিকালে শিবগঞ্জে জাকারিয়া অহমদ মাসুমের উপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। আগের দিন রাতে

নগরীর সোবহানীঘাটে আলী আহমদ মাহিন নামের এক ছাত্রলীগকর্মীকে মারধর করে মাসুমসহ ছাত্রলীগের আরো কয়েকজন কর্মী। এর জের ধরেই পরেরদিন হামলায় খুন হন মাসুম। হামলাকারী মাহিন ও তার সঙ্গীরা টিলাগড়কেন্দ্রীক ছাত্ররাজনীতির সাথে জড়িত। মাহিন ও তার সঙ্গীরা মাসুমকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে ফেলে গিয়েছিল। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ তিন খুনই শুধু নয়।

এর আগেও প্রায় ১৭ বছর পূর্বে ২০১০ সালের ১২ জুলাই অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে টিলাগড়ে খুন হন এমসি কলেজের গণিত বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রলীগ কর্মী উদয়েন্দু সিংহ পলাশ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৮ জনের নাম উলেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন পলাশের বাবা বীরেশ্বর সিংহ। এ মামলায় মূল অভিযুক্তদের কয়েকজনকে বাদ দিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ন্যায় বিচার নিয়ে শঙ্কিত পলাশের সহপাঠী ও সহকর্মীরা।
অপরদিকে, ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এমসি কলেজ ও টিলাগড়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংর্ঘষ ও অস্ত্রের মহড়া। আর রোববার রাতে টিলাগড়ে ছাত্রলীগের আরেক কর্মী খুন হওয়া সিলেটের সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি মাপসাস সিলেট বিভাগী কমিটির সভাপতি শেখ মো. লুৎফুর রহমান জানান, সিলেটের ছাত্র রাজনীতির লাগাম এখনই টেনে ধরা না গেলে ভবিষতে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বলি আরো অনেককেই হতে হবে। তাই খনিা খুনি ও হানাহানির রাজনীতির বিরুদ্ধে এখনই সচেতন মহলকে সোচ্চার হতে হবে।