সোমবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
রাজনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের আব্বাস, সুজেল ও সামাদ আহত  » «   সোহাদ রব চৌধুরীর ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে খেলার সামগ্রী বিতরণ  » «   সিলেটে ডুজি মোবাইল‘র যাত্রা শুরু  » «   ওয়ার্কার্স পার্টি জেলার উদ্যোগে কমরেড লেনিনের জন্মদিন পালন  » «   শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সাদা প্যানেলকে বিজয়ী করুন–আব্দুল বাসেত  » «   দিরাইয়ে হান্দুয়া বিলের ব্রিজ উদ্বোধনের আগেই ফাটল! ধ্বসে পড়ার আশংকা  » «   সিরিয়ায় ৫ হাজার ট্রাক অস্ত্র পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র!  » «   জগন্নাথপুরে গৃহবধুর আত্মহত্যা  » «   পুলিশ কাউকে হয়রানী করতে চায় না –অতি. ডিআইজি  » «   জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষোভ মিছিল  » «  

সিলেটে লন্ডনি দুই সতিনের বাসা দখলে মরিয়া সৎ ছেলে



বিষেশ প্রতিনিধি::  সিলেট নগরীর সাগরদিঘির পারে এক বৃদ্ধার বাসা জবর দখল করে রেখেছে সৎ ছেলে। এ নিয়ে এসএমপি’র কোতয়ালি থানায় একাধিকবার অভিযোগ দেয়া হলেও এর কোন সুরাহা হয়নি।

উল্টো ঐ বাসাটি দখলকারী সৎ ছেলে মুতলিব আহমদ টাকার বিনিময়ে কয়েকজন লোক ভাড়া করে বাসাটিতে অবস্থান করছে। এদের মধ্যে নেতা হিসেবে কাজ করছে এমদাদ ও মাসুদ তালুকদার। এসকল ভাড়াটেরা কখনও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দেয়।

আবার কখনও বলে যে কেন্দ্রিয় আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহি সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের অনুসারি বলে দাবি করে। তবে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান এসকল বিষয় অস্বীকার করে বলেন, তার কোন ব্যাক্তিগত বলয় নেই। আর মাসুদ তালুকদার নামের কাউকে চেনেনও না।

সূত্রে জানায়,বিগত ২০০০ সালে সিলেট নগরীর সাগরদিঘির পারে ৬ ডেসিমেল ৪ পয়েন্ট জায়গা ক্রয় করেন মৃত মুজিবুর রহমান। ঐ জায়গায় তিনি বাসা তৈরি করেন । যা ৪১/১ নং বাসা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু মৃত মুজিবুর রহমান ছিলেন লন্ডন প্রবাসি । তিনি দুইটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রী ছিলেন আফতাবুন নেছা ও ২য় স্ত্রী লতিফা খানম। ১ম স্ত্রীর ৪ মেয়ে ও ২য় স্ত্রীর ৩ মেয়ে ও এক ছেলে মুতলিব আহমদ রয়েছেন। এদের মধ্যে ১ম স্ত্রীর ২ মেয়ে ও ২য় স্ত্রীর ছেলে মেয়ে ৪ জনই লন্ডন প্রবাসি। ফলে ১ম স্ত্রীর মেজো মেয়ে বাসাটিতে থাকতেন ও দেখা শোনা করতেন।

কিন্তু সম্প্রতি ২য় স্ত্রীর ছেলে মুতলিব আহমদ লন্ডন থেকে দেশে এসে বাসাটি তার দাবি করে সবাইকে বাসা থেকে বের করে দিতে নানা কৌশল সৃষ্টি করেন। এক পর্যায়ে স্থানিয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়। তাতে সমাধান না হওয়ায় পরবর্তীতে উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দাখিল করেন।

তাদের অভিযোগ দুটি এসএমপি’র কোতয়ালি থানার এসআই ওমর আহমদ ও শাহজালাল তদন্ত ফাড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম খান তদন্ত করেন। তাছাড়া উভয় পক্ষকে সংঘাত থেকে বিরত রাখার জন্য নোটিশ প্রদান করেন এবং থানায় একাধিকবার উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের চেষ্ঠা করেন। তাতেও কোন সুরাহা হয়নি। যার ফলে ঐ বাসাটিতে বর্তমানে উভয় স্ত্রী ও তাদের স্বজনরাও বসবাস করছেন। আর প্রতিনিয়তই তাদের মধ্যে হচ্ছে বাক-বিতন্ডা ও রয়েছে সংর্ঘষের আশংঙ্কা।

এ ব্যাপারে মুজিবুর রহমানের ১ম স্ত্রীর মেজো মেয়ে আমিরুন নেছা জানান, তিনি সহ তার চার বোন রয়েছেন। তিনি ও তার বৃদ্ধ মা, ছেলে যুবায়ের সহ বাসায় ছিলেন। কিন্তু মুতলিব তাদের ভাড়াটিয়া ক্যাডারদের নিয়ে তাদেরকে বাসা থেকে তাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করছে। তাছাড়া তার ছেলে যুবায়েরকে হত্যার জন্য মুতলিব, মাসুদ ও এমদাদ উঠে পড়ে লেগেছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এ বিষয়ে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করা হলেও কোন ফল হয়নি।

তিনি আরো জানান, মুতলিব একটি জাল দলিল তৈরি করে বাসাটি তার বলে দাবি করছেন। অথছ যে তারিখের দলিল রেজিষ্ট্রি সে সময় তার বাবা মানসিক রোগি ও শারিরিকভাবে শয্যাশায়ি ছিলন। ফলে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেয়ার প্রশ্নই আসে না।
এ ব্যাপারে মুজিবুর রহমানের ২য় স্ত্রীর ছেলে মুতলিব আহমদ জানান, তার বাবা মৃত্যুর পূর্বে তার নামে ঐ বাসা ও জায়গা রেজিস্ট্রি করে গেছেন। ফলে তিনি ঐ জায়গা ও বাসার মালিক। আর ভাড়াটে ক্যাডার হিসেবে কেউ তার ঐ বাসায় থাকেন না । এমদাদ তার মামা ও মাসুদ তার আতœীয়।
জানতে চাইলে আমিরুন নেছার ছেলে যুবের আহমদ জানান, তিনি সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার মায়ের সাথে নানার বাসায় থাকেন । তাকে ও তার মা, নানিকে বাসা থেকে বের করে দেয়ার জন্য নানা ভাবে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। তাছাড়া তাকে প্রাণে হত্যার জন্য মুতলিবের ভাড়াটে ক্যাডার এমদাদ, মাসুদ ও তাদের বাহিনী প্রতিনিয়তই হুমকী প্রদান করছে।
এ ব্যাপারে এসএমপি’র কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) গৌছুল হোসেন জানান, সাগর দিঘীর পাড়ের যে বাসা নিয়ে সমস্যা সেটা কোন ফৌজদারি বিষয় নয়। তাই উভয় পক্ষকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।