শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ফলিক-কালামের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে দুদক



ডেস্ক নিউজ::  আলোচিত এক শ্রমিক ও তার সহযোগি এক বিএনপির নেতার অবৈধ অর্থ ও দুনীতি খুঁজতে মাঠে নেমেছে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই শ্রমিক নেতার নাম সেলিম আহমদ ফলিক ওরফে ধর্মঘট ফলিক ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম। জনৈক ফরিদ আহমদ গত বছরের শেষের দিকে দুর্নীতি দমন কমিশন চেয়ারম্যান বরাবরে এই অভিযোগ দাখিল করেন।

এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেন জানিয়েছে একটি সূত্র। এব্যাপারে সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, দুদক আমাদের তলব করেছিল, পরবর্তীতে অভিযোগ খন্ডন করতে প্রয়োজনীয় প্রমানাধী তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রদান করেছি। তবে কবে প্রমানাধী দিয়েছেন, সেই দিন-তারিখ তিনি ভূলে গেছেন বলে জানান।

এই অভিযোগ যে মিথ্যা, ভিত্তিহীন, দুদকের তদন্তে তা প্রমানীত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সংঘত কারনে নাম প্রদান করে অভিযোগ করলেও ঠিকানা পরিচয় গোপন করেই দুদকে অভিযোগ দাখিল করেছেন ফরিদ আহমদ। তার অভিযোগ তুলে ধরেছেন ফলিক-কালামের কর ফাকির নানা কাহিনী। এছাড়া অবৈধ অর্থ ও দুনীতির নানা চিত্র। এখানে তুলে ধরা হয়েছে গাড়ির হেলপার থেকে কিভাবে কোটিপতি হলেন তারা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেছেন অভিযোগে বাদী ফরিদ আহমদ।

অভিযোগকারী জানিয়েছেন, জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি হ্ওয়ার সুবাধে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করেন তারা। ইতিমধ্যে তারা ৫০/৬০কোটি টাকার মালিক এখন। কিন্তু সরকারের তহবিলে প্রকৃত অর্থে কোন রাজস্ব দেন না। অবৈধ অর্থ কামাই করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করেছেন। বানিয়েছেন বিলাশবহুল ঘর।

বিদ্যুত চলে গেলে ২টি জেনারেটর ব্যবহার করে বিদ্যুত চাহিদা মেঠান বাড়ির। যত্রতত্র মাইক্রোস স্ট্যান্ড বসিয়ে চাদা আদায় করেন তিনি। অথচ এক দশক পূর্বে বা ২০০৩ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তদন্ত করলে দেখা যাবে, বলার মতো কোন সম্পদ ছিল না তার। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে আঙ্গল ফুল কলা গাছ হয়ে যান তিনি।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি পদ যেন তার জীবনে আলাদীনের চেরাগ হয়ে ধরা দেয়। বাস হেলপার দিয়ে যে জীবন শুরু করেছিলেন, সেই ব্যক্তি এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। ৯বছর ধরে নিজে ব্যবহার করছেন চড়া মূল্যের পাজারো জীপ। যার কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। গাড়ির সামনে বড় করে লেখা রয়েছে বিভাগীয় সভাপতি।

তার তিন গুনধর পূত্রের ৩টি বিলাশবহুল কার রয়েছে। আছে একাধিক বাস, ট্রাক। অর্থ গরমে তিনি এতোই বেপরোয়া যে, ব্যক্তি স্বার্থে যেকোন সময় পরিবহন ধর্মঘট ডেকে বেকায়দায় ফেলে দেন সকলকে। এমনকি তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ্ও সঠিক নয় বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। দাবী করছেন তদন্ত করলে আসল না ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা তিনি, সে বিষয় বেরিয়ে আসবে। এছাড়া তার সহযোগি বিএনপি নেতা আবুল কালাম অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ে, পরিবহন সেক্টরে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছেন।

কালাম ব্যবসায়িক লুটপাটের পাশাপাশি কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে সামান্য টাকায় লীজ নিয়ে বিদ্যুত বিল চুরি, মাদক ব্যবসা, জুয়া সহ নানা অপকর্ম করে কালো টাকার পাহাড় গড়ছেন। টার্মিনালের মধ্যবর্তী স্থানে তাজমহল রেষ্টুরেন্ট অবৈধ ভাবে লীজ নিয়ে, প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করছেন আবুল কালাম।

অভিযোগকারী জানান, টার্মিনালের অবৈধ টাকা আয় করে, সেই অর্থ ছড়িয়ে বারবার কুচাই ইউপি চেয়ারম্যান হন তিনি। ইউনিয়ন নির্বাচন আসলে ভোটারদের মধ্যে টাকা উড়ে, সেই জনশ্রুতি রয়েছে কুচাই ইউনিয়নে। নির্বাচনে কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করেন কালাম এমন কথা রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। টাকার খেলায় নির্বাচন হয় কুচাই ইউনিয়নে।

নির্বাচিত হলেও এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবতর্ন না করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে ব্যস্ত সময় পার করেন টার্মিনালে। ফলিক-কালামের অবৈধ অর্থ কামাইয়ের মেশিন হয়ে গেছে এ্ বাস টার্মিনাল। তাদের টাকার লোভে শ্রমিক-মালিক বঞ্চিত হচ্ছে ভাগ্য পরিবর্তনে। গরিব শ্রমিক গরিব-ই থেকে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের দুহাতে এখন শুধুই টাকা আর টাকা।

এছাড়া তাদের ট্যাক্স ফাইল ঘাটলে দেখা যাবে সম্পদের নানা লুকোচুরি। কালাম চেয়ারম্যান নগরীতে বিপুল সম্পদের মালিক। দোকান ভাড়া দিয়ে বিপুল অর্থ নিলেও তার ট্যাক্স ফাইলে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরেন না তিনি। সুবাহানীঘাট রোজ ভিউর উল্টোদিকে তার একটি মার্কেট রয়েছে। তদন্ত করলে প্রকৃত সম্পদের সাথে কর ফাঁকি বিষয়টি প্রতিয়মান হবে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।