মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চীনে আস্ত ভবন স্থানান্তরের হিড়িক



আন্তর্জাতিক ডেস্ক::  চীনের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে প্রকৌশলগত উন্নতিও হচ্ছে। আর এ কারণে দেশটি নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাধা দূর করতে বড় বড় ভবনও অক্ষতভাবে স্থানান্তর করছে।

বর্তমানে ঐতিহাসিক জাংফেই টাওয়ারটি চীনের ইয়াংজি নদীর ধারে অবস্থিত। সং রাজবংশের সময় (৯৬০-১২৭৯) তৈরি এ রাজপ্রাসাদ বন্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে ১৮৭০ সালে নতুন করে তৈরি করা হয়।

২০০০ সালে এ রাজপ্রাসাদটি আবার মূল স্থান থেকে ২০ মাইল দূরে সরানো হয়। অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই সত্যি। এ কাজে ব্যয় হয় ১২ মিলিয়ন ডলার।

কেন সরানো হলো এ প্রাসাদটি? এ প্রসঙ্গে জানা যায়, চীনের বিখ্যাত থ্রি গর্জেস ড্যাম নামে বিশাল বাঁধের কথা। এ বাঁধটি তৈরি শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। এরপর বাঁধের কারণেই সরিয়ে নেওয়া হয় আস্ত প্রাসাদটি।

চীনের হাকু ইয়াং ফায়ার অ্যাসোসিয়েশন ভবন শতবর্ষের পুরনো আরেকটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ীরা সে ভবনের স্থানটি কিনে নেয়। এরপর ঐতিহাসিক ভবনটিকে রক্ষা করার জন্য তা ২৯৫ ফুট দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়।
চীনে সাম্প্রতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায় ১০ হাজার ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। তবে কয়েকটি স্থাপনা ব্যয়বহুল উপায়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভবনগুলো সরিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি বেশ জটিল। প্রথমে এসব ভবনের তলদেশে শক্ত করে নতুন ভিত্তি তৈরি করা হয়। এরপর তা যান্ত্রিক উপায়ে উঁচু করে রেলের মতো চাকা লাগিয়ে স্থানান্তর করা হয়।

এভাব সাম্প্রতিক সময়ে চীনের যে ভবনগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে ৭৮ বছরের পুরনো ছয়তলা ঝেনগুয়াংঘে ভবন। এটি বিশ্বের স্থানান্তরকৃত সবচেয়ে ভারী স্থাপনা।