মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জেরুজালেম ইস্যুতে সরাসরি ট্রাম্পের হুমকি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বৃহস্পতিবারের জরুরি অধিবেশনে যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদের প্রতি সরাসরি হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমন দেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কর্তনের করা হবে বলে ওই হুমকি দেয়া হয়েছে।

অনলাইন দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৬ই ডিসেম্বর একতরফাভাবে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণাকে বাতিল দাবি করে নিরাপত্তা পরিষদে ভোট হয়েছে। কিন্তু শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একার ভেটোর কারণে ওই প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রস্তাব যদি নিরাপত্তা পরিষদে ভেটোর কারণে বাতিল হয়ে যায় তাহলে সেই ইস্যুতে জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অধিবেশন ও ভোট হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে বৃহস্পতিবার এই ভোট হচ্ছে। এ নিয়েই হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, যেসব দেশ জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদের সহায়তা কেটে দেয়া হবে। তিনি বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের দিকে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। কারা কারা ভোট দিচ্ছে তার ওপরও নিবিড় নজরদারি করা হবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা কোটি কোটি, শত কোটি ডলার নিচ্ছে আমাদের কাছ থেকে। তারপর তারা আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিচ্ছে। ভাল কথা! আমরাও তাদের ভোটের দিকে চোখ রাখছি। তাদেরকে শুধু আমাদের বিরুদ্ধে ভোটটা দিতে দিন। আমরা অনেক অর্থ সেভ করতে পারবো। এক্ষেত্রে আমরা কোনো কিছুর পরোয়া করি না’। আমরা অনেক অর্থ সেভ করতে পারবো এই কথাটির মধ্যেই তার হুমকি লুকিয়ে আছে। অর্থ সেভ করা বা বাঁচানো মানে হলো সহায়তার অর্থ কর্তন করা।

এর ফলে তার অর্থ রক্ষা পাবে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশ জরুরি এই অধিবেশনে ভোট দেবে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অধিবেশন থেকে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ট্রাম্প যে ঘোষণা দিয়েছেন তা বাতিলের প্রস্তাব পাস হতে পারে। এ

খানে এ প্রস্তাব পাস হলে তা যে মেনে নিতেই হবে এমন নয়। তবে রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ আরো বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র আরো একা হয়ে পড়বে। ওদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি কয়েক ডজন সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের কাছে হুমকিমুলক চিঠি পাঠিয়েছেন মঙ্গলবার। তাতে তিনি তাদেরকে প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। টুইটারে তিনি বলেছেন, প্রস্তাবের পক্ষে যেসব দেশ ভোট দেবে তাদের নাম যুক্তরাষ্ট্র টুকে রাখবে। বুধবার তার এ কর্মকান্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল মালকি। তিনি বলেছেন, সাধারণ পরিষদে ভোটের আগে সদস্য দেশগুলোকে হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মাধ্যমে তারা আরো একটি অন্যায় করছে। তারা চিঠির মাধ্যমে দেশগুলোকে হুমকি দিচ্ছে। সদস্য দেশগুলো কিভাবে ভোট দেবে, কাকে ভোট দেবে এটা তাদের সার্বভৌম অধিকার। সেই অধিকারকে হুমকি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদ আল মালকি বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে শৃংখলার এটা বাস্তবেই এক নতুন অবস্থা। দেখে মনে হচ্ছে, অনেক দেশই প্রত্যাখ্যান করবে এমন এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা চাপিয়ে দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। বৃহস্পতিবারের এই অধিবেশনে দেখা যাবে কি পরিমাণ দেশ তাদের পক্ষে রায় দেয়।