সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
নিসচা মহানগরের সভাপতি ইকবাল’র জন্মদিন পালন  » «   ফলিক খানের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর মিটানো নাম নতুন করে অঙ্কন  » «   গোলাপগঞ্জে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন  » «   বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে সিলেট সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শোক  » «   জগন্নাথপুরে টাকা দেয়া হলেও চাল দেয়া হয়নি  » «   জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  » «   ২৬ নং ওয়ার্ড তালামীযের অভিষেক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন  » «   সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নায়িকার মেকআপ রুমের ছবি ফাঁস!  » «   কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত  » «   জগন্নাথপুরে নুর আলীর খুনিদের ফাসির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী  » «  

 ১৬ ডিসেম্বর ’৭১ বাঙালি জাতির তিনটি বিশ্ব রেকর্ড : মোঃ আব্দুল মালিক



 বিশ্বের ইতিহাসে বহু যুদ্ধ বিগ্রহ হয়েছে। বহু লোকয় ও সম্পদহানি, বহু আত্মসর্ম্পনের ঘটনা ও ঘটেছে কিন্তু বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে তিনটি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে তা দেশে দেশে যুদ্ধ কেন ? প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে ও তা হয় নি।

বিশ্বের ইতিহাসে বহুদেশ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা লাভ করেছে। কিন্তু বাঙালি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধ বিশ্বের যে কোন স্বাধীনতা যুদ্ধের চাইতে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল ও আছে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাঙালি জাতির প্রাণের সংগঠন আওয়ামীলীগকে পাকিস্থানের জনগণ সংখ্যাগরিষ্ট আসন দান করে। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ি আওয়ামীলীগ তথা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্থানের সরকার গঠন করার কথা ছিল। তৎকালীন পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্থানের ভাবী প্রধানমন্ত্রি হিসেবে উল্লেখ ও করেছিলেন।

৩রা মার্চ পার্লামেন্টের অধিবেশন ও ডেকেছিলেন। কিন্তু বাঙালির হাতে পাকিস্থানের রাষ্ট্র মতা চলে যাবে। এটা হতে পারে না। তাই পর্দার অন্তরালে শুরু হয় নানা ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের ফল হিসেবে ১লা মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্ট কালের জন্য সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দশ লাধিক জনতার সমাবেশে এক জ্বালাময়ী দিকনির্দেশনা মূলক ভাষণ দেন।

যে ভাষণ গত ৩০ অক্টোবর জাতি সংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিষ্টারে’ ৪২৭ তম এবং অলিখিত দলিলের মধ্যে প্রথম হিসেবে স্থান দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালি জাতি যখন উত্তাল আন্দোলন সংগ্রামে উজ্জীবিত এবং ঐক্যবদ্ধ তখন উপায়ান্তর না দেখে ইয়াহিয়া, ভূট্টো আলোচনার নামে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ শে মার্চ রাতে নিরন্ত্র, ঘুমন্ত বাঙালি জাতিকে নিশ্চিন্ন করার মানসে অপারেশন সার্চলাইট নামে এক হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে। তাদের ধারণা ছিল কয়েক হাজার বাঙালিকে এলোপাতাড়ি হত্যা করলে বাঙালিরা ঠান্ডা হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কে ভুলে যাবে, পাকিস্থানের রাষ্ট্র মতায় যাওয়ার অভিলাষ ত্যাগ করবে। কিন্তু না বাঙালি জাতি বীরের জাতি। তাদের নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জীবনের মায়া ত্যাগ করে ২৬ শে মার্চের উষালগ্নে গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য বঙ্গবন্ধু কৌশলে ৭ই মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং বাঙালি জাতিকে তাদের করণীয় সম্পর্কে সংক্ষেপে পূর্ণ দিক নির্দেশনাও দিয়ে রেখেছিলেন।

শুরু হলো বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু পাকিস্থানের কারাগারে বন্দী। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দিন আহমদ, কামরুজ্জামান, মনসুর আলী জাতীয় এই চার নেতার নেতৃত্বে মুজিব নগর সরকার গঠিত হয়। এই সরকার বঙ্গবীর এম. এ. জি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রধান সেনাপতি নিয়োগ করেন।

বঙ্গবন্ধু এম এ জি ওসমানী তাঁর প্রাজ্ঞ অভিজ্ঞতার আলোকে সারা বাংলা দেশকে ১১টি সেক্টরে এবং ৩টি বিগ্রেড ফোর্সে ভাগ করে ও গেরিলা বাহিনী গঠন করে পৃথিবী বিখ্যাত আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজিত বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রত্য মদদপুষ্ট পাকিস্থানী বাহিনীকে মাত্র আট মাস বিশ দিনের মাথায় ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ আত্মসমর্úন করতে বাধ্য করে। এই আত্মসমর্úনের মধ্যদিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম লাভ করে। এই বিজয়ে বাঙালি জাতি ৩টি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করে:-
১। মাত্র ৮ মাস ২০ দিন যুদ্ধ করে বিশ্বের ইতিহাসে কোন দেশ বা জাতি স্বাধীনতা অর্জন করতে পারে নি। একমাত্র বাঙালি জাতি এই অসাধ্য সাধন করেছে।  ২। বিশ্বের ইতিহাসে তিরানব্বই হাজার প্রশিতি সৈন্য থাকা অবস্থায় কোন কমান্ডার, কোন জেনারেল আত্মসমর্úন করে নাই।

একমাত্র টাইগার নিয়াজি খ্যাত জেনারেল আমীর আব্দুল্লা নিয়াজি বাঙালি জাতির কাছে মাথা নত করে আত্মসমর্úন করে ছিলো। ৩। পাকিস্থানী বাহিনী মাত্র ৮ মাস ২০ দিনের যুদ্ধে ৩০ ল লোককে হত্যা করে, দু লরে উপরে মা-বোনকে নির্যাতন করে যা বিশ্বের ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা।

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় হিটলারের নাৎসী বাহিনী ইহুদী জাতিকে বিশ্ব থেকে নিশ্চিন্ন করার অভিপ্রায়ে ইহুদি নারী-শিশু যাকে যেখানে যেভাবে পেয়েছে তাকে সেখানে হত্যা করেছে। তারপরও সময়ের সাথে হত্যা-নির্যাতনের অনুপাতিক হার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে পাকিস্থানী বাহিনী কম সময়ে অনেক বেশি সংখ্যক মানুষকে হত্যা-নির্যাতন করছে।
বাঙালি জাতির বিজয়ের ৪৬ বছর পরও বিশ্বে আরও অনেক যুদ্ধ বিগ্রহ হয়েছে, অনেক জাতী স্বাধীন হয়েছে কিন্তু বাঙালি এই তিনটি বিশ্ব রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙ্গতে পারে নি। অদূর ভবিষ্যতে কেউ পারবে কি না তা ভবিষ্যতই জানে ॥
শিক ও কলামিষ্ট