বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
১২ মাস ভিজিএফ’র চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করে প্রমাণ হয়েছে এ সরকার কৃষি বান্ধব  » «   লন্ডন সিলেট ফ্রেন্ডশীপ অর্গানাইজেশনের মুকিত কে সংবর্ধনা  » «   মৌলভীবাজারে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে  » «   নগরী থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ  » «   জ্ঞানের রাজ্যে ভ্রমণের জন্য তো কোনো পাসর্পোট ভিসা লাগেনা–প্রণবকান্তি দেব  » «   কৃষি জমি রক্ষার দাবীতে ফতেহপুরবাসীর প্রতিবাদ সভা  » «   ‘কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই’ –মির্জা ফখরুল  » «   ‘বঙ্গভূম’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন  » «   আসিফা ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে সরব হলেন আলিয়া ভাট  » «   নূপুর বেতার ক্লাবের লোক উৎসব শুক্রবার  » «  

মানবাধিকার আমাদের প্রত্যাশা: এড আব্দুর রাজ্জাক



 

মানবাধিকার বলতে মানুষের অধিকার কে বুঝায়। মানুষের জীবন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ জন্ম গ্রহনের পর থেকে সে তার অধিকার অর্জন করে। জীবন ধারন ও বেঁচে থাকার অধিকার এবং মতামত প্রকাশের আিধকার,খাদ্য,বস্ত্র,চিকিৎসা ও শিক্ষা,ধর্মীয় সাংস্কৃতিক,সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহনের অধিকার কে মানবাধিকার বলা যায়। খাদ্য,বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষা, বাসস্থান, মনের ভাব প্রকাশ,ন্যায় বিচার আইনের শাসন বাস্তবায়ন এবং জান মালের সুরক্ষা হলো একজর ব্যক্তির অধিকার আর এ অধিকার হলো মানবাধিকার। আর এগুলো যদি সুরক্ষিত হয় তাহলেই মানবাধিকার সুরক্ষিত হবে।

মানবাধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষে ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতি সংঘের সাধারন পরিষদ ৩০টি ধারা বিশিষ্ট আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবস ঘোষণা পত্র অনুমোদন করে। মানবাধিকার সনদে জাতি সমূহের মধ্যে পারস্পরিক গুরুত্¦পূর্ণ সর্ম্পকের উন্নয়ন সহ নারী পুরুষের সম অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়্ াহয়েছে। জাতি,ধর্ম,গোত্র,বর্ণ, রাজনৈতিক মতবাদ নির্বিশেষে সম অধিকার প্রতিষ্ঠার ও তাগিদ রয়েছে এই সনদে। জাতি সংঘের ঘোষনা অনুযায়ী ১৯৫০ সালে সাধারণ পরিষদের ৩১৭ তম প্লেনারি সভায় ৪৩২ (ভি) প্রস্তাব গৃহীত সিদ্বান্ত মোতাবেক প্রতি বছর ১০ই ডিসেম্বর যথাযথ মর্যাদায় বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার দিবস। উক্ত দিবসটি যথাযথ ভাবে বিশ্বের সকল দেশে পালন করা হয়।

মানুষ জন্মগত ভাবেই তাহার অধিকার নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। আর সেই অধিকার কেহই অস্বিকার করতে পারবেন না। সর্ব কালে সর্ব সময়ে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠিত আছে। প্রতিটি রাষ্ট্রের জনগণ যাথে তাহার সেই অধিকার ভোগ করতে পারে আর সে জন্যই জাতি সংঘ মানবাধিকার এর ঘোষনা পত্র অনুমোদন করে। আর সেই আলোকেই সকল রাষ্ট্র সকল জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে নানা কর্মকান্ড পরিচালিত করে আসছে। একজন মানুষ যাথে তাহার কর্মকান্ড পরিচালনায় কোন প্রকার অবহেলিত না হয় সে জন্যই সে দিকে লক্ষ্য রাখা খুবই প্রয়োজন। সমাজে পদে পদে লংঘিত হচ্ছে মানবাধিকার।

সমাজের অবহেলিত নির্যাতিত তৃণমূল পর্যায়ে জন গোষ্ঠির মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে প্রতি নিয়ত। আর সে কারণেই সকলের সার্বিক চিন্তা চেতনার মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখা এখন সময়ের দাবী। মানবাধিকার বিষয়ে জাতি সংঘের ঘোষণা পত্র থাকলেও আজ মানবাধিকার লংঙ্খিত হচ্ছে প্রতিটা মুহুর্তে। মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়টা জানতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার দিকে থাকালেই প্রতিনিয়ত সংবাদ পাওয়া যায়।

আজ বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে,গুম হত্যা চলছে,বাল্য বিবাহ,নারী ও শিশু নির্যাতন,বিবাহিত জীবনে স্বামীর হাতে নির্যাতিত হচ্ছে অনেক নারী। যেীতুকের বলি হতে হচ্ছে অনেক নারী। মিয়ানমারের রোহিঙা মুসলমান দের কে তাদের দেশ থেকে করা হচ্ছে বিতাড়িত। আজ অসহায় অনেক লোক প্রভাবশালীর কাছে হচ্ছে পরাজিত এমন বিষয় আজ হর হামেশাই ঘঠছে। তাই এসব থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া আর তার মাধ্যমে সকল অপশক্তির মোকাবিলা করা এবং সকলের সার্বিক সহযোগীতা ও সচেতনতাই পারে তার অবসান ঘঠাতে।

আমরা যদি একটু আমাদের বিবেকের তাড়ানায় কাজ করি এবং সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করি তাহলেই অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব কর হবে অধিকার আদায় করা। আজ সব চাইতে বড় বাধা হলো তথ্য প্রপ্তিতে,বিভিন্ন অফিসে বিশেষ করে সকল ভূমি অফিস গুলো তথ্য পাওয়া আজ বড়ই কঠিন হয়ে দাড়ায় একদল অসাধু লোক আজ নানা ভাবে হয়রানি করে তথ্য প্রাপ্তিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্য পাওয়া এবং তথ্য প্রদান করা জনগণের অধিকার। তথ্য প্রাপ্তিতে আজ অনেক জঠিলতা। তথ্য পাওয়া নাগরীকের অধিকার সে থেকে বঞ্চিত করা হয় অনেক কে। তাই সমাজ সভ্যতায় আমাদের উচিত তথ্য প্রাপ্তি হউক আর বাক স্বাধীনতা হউক সকল বিষয়ে স্থিতিশীল আচরণ করার তখন একজন মানুষ তার জীবন চলার পথে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

আর বিষয় গুলোর অধিকার নিশ্চিত করাই হলো মানবাধিকার। দেশের স্থিতিশীলতা,অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নের জন্য মানবাধিকার রক্ষা করা খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। মানবাধিকার সার্বজনীন ঘোষণায় স্বাক্ষরের পর মিয়ানমারের রোহিঙা মুসলমান সম্প্রদায়ের ২০১৭ সালের ঘঠনা বিশ্ববাসীকে পুনরায় মানবাধিকার লংঘনের ঘঠনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বর্তমানে সারা বিশ্বে মানবাধিকার বিষয়টি আলোচিত।

সহায় সম্বল হীন ছিন্ন মূল অসংখ্য মানুষ জীবন জীবীকার বিষয় নিয়ে অনেক হিমশিম খাচ্ছে। সমাজের কিছু বখাটে লোকের কাছে প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হচ্ছে নীরীহ লোক। আশ্রয়হীন অসংখ্য মানুষ খাদ্য,বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিক্ষা, বাসস্থান, মনের ভাব প্রকাশ,ন্যায় বিচার আইনের শাসন বাস্তবায়ন এবং জান মালের সুরক্ষা সহ জীবনধারণের নানা বিষয়ে নানা ভাবে নানা সমস্যার সম্মুখিন রয়েছেন।

তাই আমাদের প্রত্যাশা হউক বিশ্বের সকল মানুষের অধিকার সুরক্ষায় আমাদের সকলের প্রচেষ্ঠা যেন অব্যাহত থাকে এই হউক আমাদের কামনা। সকল মানুষের জান মালের নিরাপত্তা হউক সুরক্ষিত,অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগীতা হউক আন্তরিক এটাই কামনা করি। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল দেশের অধিকার বঞ্চিতদের মানবাধিকার নিশ্চিত হোক এটাই কামনা করি।

লেখক: এডভোকেট এন্ড আয়কর উপদেষ্ঠা, সভাপতি: বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন,সিলেট জেলা শাখা।