শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ছাত্র সমাজের মধ্যে প্রকৃত আদর্শ বিলিয়ে দিতে হবে- মাহবুবুর রহমান ফরহাদ  » «   আবারো ত্রিভুবনে ১৩৯ যাত্রী নিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল মালয়েশিয়ার বিমান  » «   ১২ মাস ভিজিএফ’র চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করে প্রমাণ হয়েছে এ সরকার কৃষি বান্ধব  » «   লন্ডন সিলেট ফ্রেন্ডশীপ অর্গানাইজেশনের মুকিত কে সংবর্ধনা  » «   মৌলভীবাজারে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে  » «   নগরী থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ  » «   জ্ঞানের রাজ্যে ভ্রমণের জন্য তো কোনো পাসর্পোট ভিসা লাগেনা–প্রণবকান্তি দেব  » «   কৃষি জমি রক্ষার দাবীতে ফতেহপুরবাসীর প্রতিবাদ সভা  » «   ‘কোটা পদ্ধতি তুলে নেয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নেই’ –মির্জা ফখরুল  » «   ‘বঙ্গভূম’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন  » «  

চিকিৎসাধীন এমপি কেয়া চৌধুরী, সভায় হামলার প্রতিবাদ উত্তাল বাহুবল



বাহুবল থেকে আসমা জান্নাত মনি:: হবিগঞ্জে বাহুবল উপজেলার মিরপুরে সরকারী কর্মসূচিতে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছে। এ ব্যাপারে এখনও কোন মামলা হয়নি। তবে বাহুবল উপজেলায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

এমপি কেয়া চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইমন চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সব্যসাচী রায় এর নেতৃত্বে একটি বোর্ড বসে এখানেই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। তার বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা চলছে। শনিবার সকালে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সিলেটেই আপাতত চিকিৎসা চলবে।

তিনি আরও জানান, ডাক্তারের পরামর্শে এমপি কেয়া চৌধুরীকে স্যুপসহ নরম খাবার দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে তার স্বামী আমজাদ হোসেন খান, ভাই মামুন আহমেদ চৌধুরী ও সুজন চৌধুরী এসেছেন। একমাত্র মেয়ে শুকরিয়া ঢাকাতে এবং বৃদ্ধা মা রোকেয়া চৌধুরী হবিগঞ্জে রয়েছেন।
ইমন চৌধুরী জানান, এই ঘটনায় কোন মামলা করা হয়নি। ম্যাডাম সুস্থ হলে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সব্যসাচী রায় জানান, এমপি কেয়া চৌধুরীর যথাযথ চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজন হলে তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হবে।

এমপি কেয়া চৌধুরীকে দেখতে হাসপাতালে নেতাকর্মীরা ভীড় জমাচ্ছেন। শুক্রবার রাতেই এমপি কেয়া চৌধুরীর সাথে সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল দেখা করেছেন।

শনিবার দেখা করেন, সিলেটের সাবেক মেয়র কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ সদস্য সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামীগীগ সভাপতি আছমা কামরান, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
এদিকে হবিগঞ্জের বাহুবলে এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১টায় উপজেলার মিরপুরে আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে উপজেলা সদরের স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ তৃণমূল হাজার হাজার লোকজন অংশগ্রহণ করেন।

একইভাবে মিরপুর মহাসড়ক মোড়ে, পুটিজুরী বাজারে, স্নানঘাট ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের সামনে, খাগাউড়ার রইচগঞ্জ বাজারে, মুদাহরপুর গ্রামে, খাগাউড়া বাজারে ও পানিউমদাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসব প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুুরীর সরকারি প্রোগ্রাম চলাকালে তারা মিয়া ও আলাউর রহমান সাহেদ এবং তাদের লোকজন হামলা চালিয়েছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতারে করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আলিফ সোবহান কলেজের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কলেজ গভর্ণিং বডির সদস্য জাহিদুল হক জিতু, আসকর আলী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বজলুর রহমান, ইংরেজী প্রভাষক মাসুক মিয়া ও লামাতাশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুুরী টেনু প্রমুখ। মানববন্ধনে কলেজের শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।
এমপি কেয়া চৌধুরীর ভাই ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফয়জুল বশীর চৌধুরী সুজন বলেন, কেয়া চৌধরীর বাড়ী বাহুবল উপজেলায়। সে যদি নিজের বাড়ীতে নিরাপদ না থাকে,তবে বাংলাদেশের আর কোথায় সে নিরাপদ থাকবে। যারা মনে করেছেন নোংরামি করে এমপি কেয়া চৌধুরীকে ঘরে পাঠিয়ে দেবেন তারা বোকার রাজ্যে বসবাস করছেন। এমপি কেয়া চৌধুরী বাহুবল নবীগঞ্জ এর সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন,আছেন, সারা জীবন থাকবেন। যে ভাবে সাধারণ মানুষ এমপি কেয়া চৌধরীর খবর নিয়েছেন। দোয়া করেছেন। তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা যানাই।
হাসপাতালে এমপি কেয়া চৌধুরীর সাথে কেউ দেখা করলে তিনি ইশারায় সালাম বিনিময় করছেন। তার কাছ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ট জনেরা জানিয়েছেন তিনি নতুন করে কিছু বলবেন না। যারা সেদিনের ঘটনায় জড়িত তাদের নাম প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতায় বলেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও এ ব্যাপারে খোজ খবর নেয়া হচ্ছে বলে একটি সূত্র জানায়।
এদিকে এমপি কেয়া চৌধুরীর সাথে হামলায় আহত উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেলা চৌধুরী মেম্বার কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। শুক্রবার রাতে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অজ্ঞান অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছিল।
বাহুবল-নবীগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান জানান, শনিবার উপজেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এমপি কেয়া চৌধুরীর পক্ষে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ১১ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠানে উপজেলা নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা তারা মিয়ার মার্কেটের ম্যানেজার আব্বাস আলী ছবি তুলছিল। এ নিয়ে এমপি কেয়া চৌধুরীর সমর্থকদের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরবর্তীতে এ নিয়ে এমপি কেয়া চৌধুরী উপর তারা মিয়া ও আলাউর রহমান সাহেদসহ তাদের সমর্থকরা হামলা চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল থেকে র‌্যাব-৯ এর একদল সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এমপি কেয়া চৌধুরী সেখানে স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
বক্তব্য চলকালে হঠাৎ তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে বাহুবল ও পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সিলেট নেয়ার পর এমপি কেয়া চৌধুরীকে অজ্ঞান অবস্থায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।