মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
নৌকা বিজয়ী হলে সমাজে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হয় : কামরান  » «   ধানের শীষের সমর্থনে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচনী পথসভা  » «   সাইফুর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রিন্সিপালকে হাসপাতালে দেখতে ইমরান আহমদ এমপি  » «   ছাতকে নবনিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বরণ  » «   নৌকার পক্ষে সিলেটে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে: সরওয়ান হোসেন  » «   প্রবাসে বাঙালী সংস্কৃতি ও দেশীয় পণ্যকে তুলে ধরার প্রয়াসে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ঈদ আনন্দমেলা  » «   দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই: সামাদ চৌধুরী  » «   আরিফের গণসংযোগ: সুষ্ঠু, অবাধ নির্বাচন হলে জনগণ সত্যিকার নগর সেবককেই নির্বাচিত করবে  » «   স্বভাবে বিনয়ী কামরান কর্মে ফাটা কেষ্ট আরিফ !  » «   ইলিয়াস আলীর সন্ধান কামনায় ইলিয়াস মুক্তি যুব ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের দোয়া মাহফিল  » «  

ইমাম সমাজের মর্যাদা ও আমাদের দায়বোধ



ইমাম শব্দটি আরবী, তার বাংলা অর্থ হচ্ছে নেতা, প্রধান, নামাজের ইমাম, অগ্রণী, দিক-নির্দেশক, আদর্শ নমুনা ইত্যাদি। সাধারণত ইমাম বলা হয় যাকে অনুসরণ করা হয়। কর্মের মাঝে যিনি সবার আগে থাকে। যেমন নবী করীম (সাঃ) হলেন নবীদের ইমাম, খলিফা মুসলমানদের ইমাম, সেনাপতি সৈন্যদের ইমাম।
নামাজের ইমামতি হচ্ছে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ শরয়ী দায়িত্ব। যেমন মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “জাতির ইমাম হবে সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর কিতাব অধিক ভাল পড়তে পারেন”। এতে প্রতীয়মান হয় ইমামতের মর্যাদা সবার উপরে।
মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন সূরা ফুরকানে মুমিন এর ১৩টি গুণের বর্ণনা দিয়েছেন। তার মাঝে একটি গুণ হলো- মুমিনরা আল্লাহ্র দরবারে এই বলে প্রার্থনা করবে যে, “হে প্রভু আমাদের মুত্তাকীনদের ইমাম বানিয়ে দিন। সুতরাং একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্যই হলো ইমামতের আকাক্সক্ষা পোষণ করা।
ইমামত হচ্ছে আল্লাহর দেয়া এক বিশেষ পুরস্কার বা নেয়ামত। যেমন আল্লাহ তা’য়ালা সূরা সিজদার ২৪ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, “আমি তাদেরকেই ইমামত দান করেছি যারা আমার আদেশের উপর অটল-অবিচল থাকে এবং আমার নিদর্শনাবলীর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।”
নবী করীম (সাঃ) স্বয়ং ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য আল্লাহ্র দরবারে দু’আ করেছেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “ইমাম হলেন জিম্মাদার আর মুয়াজ্জিন হলেন আমানতদার। “হে আল্লাহ আপনি ইমামদের সুপথে পরিচালিত করুন এবং মুয়াজ্জিনদের ক্ষমা করে দিন”। (আবু দাউদ-৫১৭, তিরমিযি- ২০৭)
ইমামত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। যা পালন করেছেন হযরত মুহম্মদ (সাঃ) স্বয়ং নিজেই। তাঁর পরবর্তী খোলাফায়ে রাশেদীনগণ। তাদের পরবর্তী মুসলমানদের সর্বোত্তম পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ সমাজের ইমামতি করেছেন।
মুসলিম প্রধান বাংলাদেশে কয়েক লাখ ইমামের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চরমে। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের জীবন যাত্রার মান বাড়লেও ইমামদের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠে। মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে মসজিদ , আর মসজিদের ইমাম হলেন আমাদের মুসলিম সামাজের একজন র্ধমীয় নেতা স্বরুপ,পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো থেকে শুরু করে একটি সমাজে যখন একজন মুসলমন মারা যান তার জানাজা, ফাতেহা,দাফন , কবর জেয়ারত ইত্যাদি ইমামের সহায়তায় সম্মন্ন হয়, ঈদ, কোরবান, রমজানে ইত্যাদি বড় র্ধমীয় অনুষ্ঠান পরিচালনায় ইমামের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের মুসলিম সামাজে মসজিদের ইমামের এত গুরুত্ব থাকার পরও ,ইমামরা অবেহেলিত এবং ফকিরের মতো জীবনযাপন করছেন।
সমাজের অনুকূল এবং প্রতিকুল মানুষের সাথে মানিয়ে নেওয়া এটাই যেন জীবনে বড় সংগ্রাম।মসজিদ কমিটিতে বেজাল লেগে কখন চাকুরী চলে যায় সেই ভয়েও থাকতে হয় সবার মন যুগিয়ে।
শুক্রবার,ঈদে,পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিরামহীন কর্তব্যগুলো পালন করে ছুটির গন্ধ খুব কমই মিলে।তারপরও চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন।
মুসলিম সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বেতন ২০০০ থেকে শুরু করে ভালো মসজিদের ইমামের বেতন ১০০০০,যেটা দায়িত্বের তুলনায় সাগরে বিন্দু কনা।
তারপরও আল্লাহ পাক চালিয়ে নিচ্ছেন সম্মানিত এই ব্যক্তিদের।চুরি করতে হচ্ছে না,ঘুষ খেতে হচ্ছে না,অন্যকে ঠকানোর চিন্তা নেই,অন্যের জায়গা দখলেরও চিন্তা নেই।জিনিষ পত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, সাধারণ মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে, একজন ইমামের তেমনি হিমশিম খেতে হয় সংসার চালাতে গিয়ে ।
আবার অনেক মসজিদ আছে যেখানে ঠিক সময় মত ইমাম সাহেবদের বেতন দেওয়া হয়না, এমনিতে বেতন কম আবার ঠিক সময় মত বেতন না দেওয়ার কারণে ইমাম সাহেবদের সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় । ঠিকমত সংসার চালাতে পারেননা টাকার জন্য, তারপর সন্তানদের লেখা পড়া, রোগ হলে চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয় ।
অনেক মসজিদ কমিটি আছেন যারা চিন্তা করেন মসজিদে টাইলস লাগাবেন, এসি লাগাবেন, কিন্তু চিন্তা করেননা ইমাম সাহেবদের বেতনের কথা, মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধনের বিরোধী আমরা নই, কিন্তু এসবের পাশাপাশি ইমামদের বেতনের দিকে দৃষ্ঠি দিতে হবে কারণ ইমাম সাহেবরাও মানুষ উনাদেরও পরিবার আছে ।
এমন ইমাম সাহেব আছেন যাদের আর্থিক অবস্থা খারাপের জন্য বছরের পর কয়েকটা পোশাক পড়ে কাঠিয়ে দিতে দেখা যায়, এখন চিন্তা করার সময় এসেছে ইমামদের নিয়ে উনাদের বেতন নিয়ে ।

পরিশেষে বলতে চাই ইমাম এবং পরিবারের দিকে সমাজের বিত্তবান এবং সরকারের দৃষ্টি দেওয়া উচিৎ।
লেখক: আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার