শুক্রবার, ২০ এপ্রিল ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ হতে হবে-নাজমানারা খানুম  » «   কমলগঞ্জে কালবৈশাখি ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর আংশিক বিধ্বস্ত  » «   ধর্মপাশায় একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে ১৫জন আহত  » «   সিলেটে কর্মশালা: দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অপরিহার্য  » «   ছাত্র সমাজের মধ্যে প্রকৃত আদর্শ বিলিয়ে দিতে হবে- মাহবুবুর রহমান ফরহাদ  » «   আবারো ত্রিভুবনে ১৩৯ যাত্রী নিয়ে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ল মালয়েশিয়ার বিমান  » «   ১২ মাস ভিজিএফ’র চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করে প্রমাণ হয়েছে এ সরকার কৃষি বান্ধব  » «   লন্ডন সিলেট ফ্রেন্ডশীপ অর্গানাইজেশনের মুকিত কে সংবর্ধনা  » «   মৌলভীবাজারে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করলো ছেলে  » «   নগরী থেকে রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ  » «  

নূর’র মেডিকেলে ভর্তির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিলেন জ্যোতির্ময় সরকার



ডেস্ক রিপোর্ট:: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া দরিদ্র পবিত্র নূর এর ভর্তির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন মহানগর পুলিশ এর সুযোগ্য সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার।

রবিবার সুনামগঞ্জের খবর পত্রিকায় নূরকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়। পরে পবিত্র নূরের সাথে সরাসরি কথা বলে তিনি তাকে ভর্তি হওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

পবিত্র নূর। একেবারেই প্রান্তিক কৃষকের ছেলে। বাড়ি ধর্মপাশা উপজেলার নওধার গ্রামে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে (মেধাক্রম ৭২৫) ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে সে। বাবার ৩ একর জমির সবটুকুই গেল বছরের ফসল মৌসুমে পানিতে ডুবে যাওয়ায় কিছু জমি বন্ধক দিয়ে বাবা বাচ্চু তালুকদার ও মা শাহানারা আক্তার গত এপ্রিল মাস থেকে সংসার চালাচ্ছেন। জমি বন্ধকের টাকা থেকেই মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেবার খরচ চালিয়েছে পবিত্র নূর। পবিত্র নূর বললো-‘আমি পড়বোই মেডিকেল কলেজে, সাধারণ মানুষের ছেলে আমি, ডাক্তার হয়ে সাধারণের পাশেই দাঁড়াতে চাই।
পবিত্র নূর জানালো, ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে বড় ছেলে সে।

বাদশাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা শেষ করে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পায় সে।

মোহনগঞ্জে ফুফুর বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করেছে পবিত্র নূর। ময়মনসিংহে চাচাতো ভাইয়ের ম্যাচে সামান্য টাকা দিয়ে থেকেছে সে। ঐ টাকাও বেশিরভাগ সময় ফুফু-ই দিয়েছেন পবিত্র নূরকে।
পবিত্র নূর বললো, আমি জানি আমার বাবা ভর্তির টাকাও দিতে পারবেন না, এরপরও আমার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। আমি প্রাইভেট পড়িয়ে বা অন্য কিছু করে নিজের খরচ চালানোর চেষ্টা করবো এবং ডাক্তার হয়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে আমার বাবা ও ফুফুর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।

এমন দুশ্চিন্তায় থাকা পবিত্র নূরের পাশে দাাঁড়িয়েছেন মহানগর পুলিশ এর মোগলাবাজার থানার সুযোগ্য সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার। তিনি পবিত্র নূরের ভর্তিসহ যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে জ্যোতির্ময় সরকার জানান- আমরা অনেকেই এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছি। মেধাবীদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। আমি সেই দায়িত্ব থেকেই পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে প্রচারবিমুখ এই মানুষটি বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হোক, তা চাননি।