বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

পর্দা নিয়ে কেন নারী সমাজের অবহেলা?



পর্দা শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ হুকুম । এ হুকুমের উপর আমল নারীর ইজ্জত সম্মান বহুগুণে বৃদ্ধি করে। দুনিয়ার জীবনে তাকে সুসংহত ও নিরাপদ করে । পর্দা নারীর ভূষণ, নারীর পবিত্রতা, তার স্বকীয়তা, আত্মমর্যাদাবোধ, লজ্জা ও ঈমান ।
বর্তমান সমাজে পর্দা নিয়ে নারী সমাজের চরম অবহেলা লক্ষ করা যায়, নারীরা পর্দা নিয়ে উদাসীন, কিছু মহিলা এমন বোরকা পরে যে, বোরকার উপর দিয়ে শরীরের আকার- আকৃতি বোঝা যায় ।

কেউ কেউ একেবারে টাইটফিট বোরকা পরে । এমন পোশাক পরে বাইরে বের হয়, যা পরিধান করে বাইরে বের হওয়া নাজায়েয । এতে বোরকার হক আদায় হয় না । শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফুটে উঠে এমন পোশাকে যারা বের হয় তাদেরকে হাদীস শরীফে কঠিন ভাবে সাবধান করা হয়েছে। এক হাদীসে তাদের উপর লানত করা হয়েছে।

আর এক হাদীসে বলা হয়েছে, দুই শ্রেণীর লোক জাহান্নামী তার মধ্যে দ্বিতীয় শ্রেণী লোক হচ্ছে, ঐ সকল নারী, যারা পোশাক পরিধান করা স্বওে¦ও বিবস্ত্র । অন্যকে নিজের প্রতি আকর্ষণকারিনী ও নিজেওআকৃষ্ট। বুখতি উটের উঁচু কুঁজের মতো তাদের চুলের খোপা । এসব নারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের সুগন্ধিও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধি অনেক দূর থেকে পাওয়া যাবে’।
আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করেছেন ‘তোমরা নারীদের কাছ থেকে যখন কিছু চাইবে, তখন হিজাবের আড়াল থেকে চাইবে, এটা তোমাদের ও তাদের মনের অধিকতর পবিত্রতার জন্যে খুবই উপযোগী’ (সূরা আহযাব-৩৩-৫৩)। উল্লিখিত আয়াতে ‘হিজাব’ শব্দের অর্থ হচ্ছে পর্দা, আচ্ছাদন, আবৃতকরণ বা ঢেকে দেয়া।

নারী-পুরুষের মধ্যে গায়ের মোহরিমদের জন্যে পর্দা করা আল্লাহ তায়ালার হুকুম বা আইন। এ হুকুম বা আইন মানা সকল প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর ওপর ফরজ। যাদের বিয়ে করা হারাম তাদের মোহরিম বলে। তাদের ব্যতীত সকলেই গায়ের মোহরিম। গায়ের মোহরিমদের মধ্যে পর্দা বাধ্যতামূলক বা ফরজ করা হয়েছে, এটা আল্লাহর ইবাদত।

আল্লাহ তায়ালা বলছেন‘আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদতের জন্যে’(আয যারিয়াত-৫১-৫৬)। আরো নির্দেশ হচ্ছে, ‘হে মানুষ, তোমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করো, যিনি তোমাদের ও পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি করেছেন’ (সূরা বাকারা-২-২১)। আল্লাহ তায়ালার প্রতিটা হুকুম মেনে চলাই হচ্ছে ইবাদত।

ইবাদতের েেত্র আমাদের কিছু স্বেচ্ছাচারিতা আছে। আমরা কখনো সালাত আদায় করি আবার ছেড়ে দেই, সিয়াম পালন করি আবার ছেড়ে দেই, হজ ফরজ হলেও বিভিন্ন অযুহাতে হজ পালন করি না, যাকাত দাতা হলেও সঠিকভাবে যাকাত পরিশোধ করি না। ঈমানের দাবি পূরণ করা না করা বা ছেড়ে দেয়া প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা হচ্ছে ‘যারা একবার ঈমান আনলো আবার ছেড়ে দিলো বা কুফুরি করলো, আবার ঈমানের দাবি পূরণ করলো আবার ছেড়ে দিলো বা কুফুরি করলো, এমনিভাবে তারা দিনে দিনে কুফুরিকেই বাড়িয়ে দিলো, এমনি করে ঈমান নিয়ে তামাশা করার এ লোকদের আল্লাহ তায়ালা মা করবেন না আর তিনি এ ব্যক্তিদের সঠিক পথও দেখাবেন না’ (আন নিসা-৪-১৩৭)।

ঈমানের পর সালাত, সিয়াম, হজ ও যাকাতের মতো প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারী নির্বিশেষে সকলে পর্দা পালন করাও গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক ইবাদত। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করছেন, ‘আর তোমরা ঘরে অবস্থান করবে, পূর্বেকার জাহেলিয়াত যামানার নারীদের মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে বেড়াবে না, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর আনুগত্য করবে। আল্লাহ তায়ালা মূলত এর মাধ্যমে নবী পরিবার তথা তোমাদের মাঝ থেকে সব ধরনেরঅপবিত্রতা দূর করতে চান’ (আহযাব-৩৩-৩৩)। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ হচ্ছে, ‘হে নবী ! আপনার স্ত্রী, কন্যা ও মুমিন মহিলাদের বলে দিন, তারা যেন নিজেদেরওপর নিজেদের চাদরের আঁচল ঝুলিয়ে দেয়, এটা তাদের জন্যে ভালো নিয়ম ও রীতি, যেন তাদের চিনতে পারা যায় ও তাদের উত্ত্যক্ত করা না হয়’ (আহযাব-৩৩-৫৯)।

রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার সমগ্র ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে যিনা করে। দেখা হচ্ছে চোখের যিনা, ফুসলানো কণ্ঠের যিনা, তৃপ্তির সাথে কথা শোনা কানের যিনা, হাত দিয়ে স্পর্শ করা হাতের যিনা, কোনো অবৈধ উদ্দেশ্যে পথ চলা পায়ের যিনা, এভাবে ব্যভিচারের যাবতীয় ভূমিকা যখন পুরোপুরি পালিত হয়, তখন লজ্জাস্থান তার পূর্ণতা দান করে অথবা পূর্ণতা দান থেকে বিরত থাকে’ (বুখারি, মুসলিম ও আবু দাউদ)।

পর্দা নারী-পুরুষ সকলের জন্যে, ‘(হে রাসূল সা.) আপনি ঈমানদার পুরুষদের বলে দিন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানসমূহেরহেফাজত করে, এটাই হচ্ছে তাদের জন্যে উত্তম পন্থা, কেননা তারা তাদের চোখ ও লজ্জাস্থান দিয়ে যা করে আল্লাহ তায়ালা সে সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গভাবে অবহিত রয়েছেন’ (আন নূর-২৪-৩০)। রাসূল (সা.) হযরত আলী (রা.) কে নির্দেশ করেছিলেন, ‘হে আলী ! নারীদের প্রতি প্রথম দৃষ্টির পর দ্বিতীয় দৃষ্টি নিপে করো না, কেননা প্রথম দৃষ্টি মার যোগ্য, দ্বিতীয়টি নয়। হযরত জাবের (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল (সা.) ! হঠাৎ যদি দৃষ্টি পড়ে তা হলে কী করবো? রাসূল (সা.) বললেন, তাৎণিক দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও’ (আবু দাউদ)।

নারীদের ব্যাপারে নির্দেশ হচ্ছে, ‘ (হে রাসূল সা.) আপনি ঈমানদার নারীদের বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নিম্নগামী রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহহেফাজত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে, তবে তাদের শরীরের যে অংশ এমনিই খোলা থাকে তার কথা আলাদা, তারা যেন তাদের বদেশ তাদের মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে রাখে, তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর আগের ঘরের ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, তাদের সাথেমেলামেশার মহিলা, নিজেদের অধিকারভুক্ত সেবিকা বা দাসী, নিজেদের অধীনস্থ এমন পুরুষ যাদের মহিলাদের কাছ থেকে কোনো কিছু (যৌন) কামনা করার নেই, কিংবা এমন শিশু যারা এখনো মহিলাদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে কিছুই জানে নাÑ এ সকল মানুষ ছাড়া তারা যেন অন্য কারো সামনে নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, চলার সময় জমিনের ওপর তারা যেন এমনভাবে নিজেদের পা না রাখেÑ যে সৌন্দর্য তারা গোপন করে রেখেছিলো তা তাদের পায়ের আওয়াজে লোকদের কাছে জানাজানি হয়ে যায়’ (সূরা নূর-২৪-৩১)।

রাসূল (সা.) তাঁর স্ত্রী হযরত উম্মে সালমা ও মায়মুনা (রা.) কে অন্ধ সাহাবা হযরত ইম্মে মাকতুম (রা.) এর সঙ্গে পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন’ (বুখারি ও তিরমিযি)।

মোহরিম সম্পর্কে নির্দেশ ‘নারীদের মধ্য থেকে যাদের তোমাদের পিতা, পিতামহ বিয়ে করেছে (সৎ মা ও দাদি), তোমরা কখনো তাদের বিয়ে করো না, হ্যাঁ এনির্দেশ আসার আগে যা হয়ে গেছে তা তো হয়েই গেছে, এটি আসলেই ছিলো একটি অশ্লীল ও নির্লজ্জ কাজ এবং খুবই ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ’। ‘বিয়ের ব্যাপারে তোমাদের জন্যে হারাম করে দেয়া হয়েছে তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, আরো হারাম করা হয়েছে সেসব মা যারা তোমাদেরকে বুকের দুধ খাইয়েছে, তোমাদের দুধবোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো তাদের আগের স্বামীর ঔরসজাত মেয়েদেরও হারাম করা হয়েছে, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে রয়েছে, অবশ্য যে সকল স্ত্রীর সাথে বিয়ের পর তোমরা সহবাস করোনি, তা হলে তাদের আগের স্বামীর ঔরসজাত মেয়েদের বিয়ে করতে দোষের কিছু নেই, তোমাদের নিজেদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদের আর একসাথে দু‘বোনকে হারাম করা হয়েছে’ (সূরা নিসা-৪-২২-২৩)।

সালাত, সিয়াম, হজ ও যাকাত যেমন ফরজ পর্দাও তেমন ফরজ। সালাত ব্যক্তিকে পবিত্র করে, সিয়াম ব্যক্তিগত তাকওয়া বৃদ্ধি করে, হজ ব্যক্তির আত্মার প্রশান্তি আনে, যাকাত ব্যক্তির মাল-সম্পদ পবিত্র ও বৃদ্ধি করে। যাকাত আদায় না করলে ধনীর সম্পদে গরিবের যে হক আছে, তা নষ্ট বা আত্মসাৎ করা হয়। কিন্তু পর্দা পালন না করলে ব্যক্তিগত তির সাথে সাথে সমাজও তিগ্রস্ত হয়।

আল্লাহ তায়ালার হুকুম হচ্ছে, পুরুষরা তাদের দৃষ্টি অবনত রাখবে, নারীরা তাদের ঘরে অবস্থান করবে, বাহির হলেও দৃষ্টি অবনত রাখবে, আপাদমস্তক চাদর দিয়ে ঢেকে নেবে। কোনো নারী যদি আল্লাহ তায়ালার হুকুম অমান্য করে চাদর দিয়ে নিজের মাথা থেকে পা পর্যন্ত না ঢাকে, পেট, পিট খালি কপালের ওপর ফোঁটালাগিয়ে রাস্তায় বের হয় তা হলে রাস্তায় যত কিশোর, যুবক, বৃদ্ধ সকলেই গুনাহগার হবে। তাদের কেউই জাঁকজমকপূর্ণ যৌন সুড়সুড়ি উদ্রেককারী সুবাসিত গন্ধে ম ম করা আর অলঙ্কারের ঝনঝনানি ঝঙ্কারের কারণে দৃষ্টি এড়াতে পারবে না। একটি মাত্র বে-পর্দা যুবতী হাজার হাজার পুরুষকে জাহান্নামী বানানোর জন্যে যথেষ্ট হবে। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘শয়তানের কাজ হচ্ছে মহিলাদেরকে (উলঙ্গ বা অর্ধউলঙ্গ যেভাবেই থাকুক না কেন তাকে) পুরুষেরসামনে সুশ্রী করে উপস্থাপন করা’। রাসূল (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো অপরিচিত নারীর প্রতি যৌন লোলুপ দৃষ্টিতে তাকাবে, কিয়ামতের দিন তার চোখে উত্তপ্ত গলিত লোহা ঢেলে দেয়া হবে’ (ফাতহুল কাদির)। রাসূল (সা.) বলেছেন, যে নারী আতর বা সুগন্ধি দ্রব্যাদি ব্যবহার করে লোকদের মধ্যে যায় সে একটি ভ্রষ্টানারী।

কুরআন-হাদিস না জানার কারণে নারীর সম-অধিকার ও প্রগতির নামে আইয়ামে জাহিলিয়াতকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছি। আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে নারীরা বুকের কিছু অংশ অনাবৃত রাখতো, বাহু, কোমর ও হাঁটুর নিচ পর্যন্ত বেশির ভাগই অনাবৃত থাকতো, যা পাশ্চাত্য সভ্যতায় এখনো বিদ্যমান। পাশ্চাত্য সভ্যতার ছোঁয়াআমাদের দেশেও দেখা যাচ্ছে। সে যুগে উলঙ্গ নর-নারী এক সাথে কা‘বা ঘর তওয়াফ করতো। আর উলঙ্গ নারীদের উলঙ্গ পুরুষেরা বস্ত্রদান নেক কাজ মনে করতো। আল্লাহ তায়ালা এ অসভ্য বর্বর লোকদের জন্যে রাসূল মুহাম্মদ (সা.) কে পাঠিয়ে তাঁর মাধ্যমে জাহিল, অসভ্য ও বর্বরদের জন্যে পোশাকের বিধান নাযিল করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে বনি আদম, আমি তোমাদের জন্যে পোশাকের বিধান পাঠিয়েছি, যাতে করে এর দ্বারা তোমরা তোমাদের গোপন অঙ্গ বা লজ্জাস্থানসমূহ ঢেকে রাখতে পারো এবং নিজেদের সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলতে পারো, তবে আসল পোশাক হচ্ছে তাকওয়া আর এটাই হচ্ছে উত্তম পোশাক এবং এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহেরও একটি’ (সূরা আরা‘ফ-৭-২৬)।

প্রাকৃতিকভাবেই নারী-পুরুষকে ভিন্ন ভিন্ন উপাদানে সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতি মাসেই একটা অসুস্থ সময় প্রাপ্তবয়ষ্কা নারীদের পার করতে হয়। যে সব পুরুষ নারীর মতায়ন বা সম-অধিকারের নামে নারীদের ঘর থেকে বের করে উলঙ্গ বা অর্ধউলঙ্গ করে ভোগ্যপণ্য বা মনোরঞ্জনের বস্তু বানাচ্ছে তারা শয়তানেই চেলা। সম-অধিকারের নামে বে-পর্দা, বেহায়াপনা ও নির্লজ্জতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনো কিছু তৈরি করলে, প্রতিষ্ঠানের প থেকে সে বস্তুর প্রস্তুতপ্রণালী ও ব্যবহারবিধি লিখে বুকলেট প্রকাশ করা হয় যাতে প্রস্তুতকৃত বস্তুর ব্যবহার বিধিও থাকে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টিকর্তা। তিনি আমাদের প্রস্তুতপ্রণালী ও ব্যবহারবিধি হিসেবে দিয়েছেন মহাগ্রন্থ আল কুরআন, যাতে মানুষের সামগ্রিক বিষয়ের সমাধান আছে।

কলা আবরণ বা খোসাযুক্ত ফল। কলা আবরণ বা খোসামুক্ত হলে তাতে মাছি বসবেই। কোনো আইন করেই ছোলা কলার মাছি তাড়ানো যাবে না। মেয়েরা আবৃত বা পর্দায় থাকার বস্তুই আর পুরুষ হচ্ছে মাছির মতো, জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে সর্বত্র বিচরণ করে। আবৃত থাকার কলা যখন অনাবৃত হয় তখন মাছি যেমন ছোলা কলার মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়ে তেমনি পুরুষেরাও বে-পর্দা বা অনাবৃত নারীদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। আইন করে বে-পর্দা, উলঙ্গ বা অর্ধউলঙ্গ নারীদের থেকেও পুরুষের নজর ফিরানো যাবে না।

অনাবৃত নারীরা ইভ-টিজিং, এসিডের শিকার ও যৌতুকের বলি হচ্ছে। ছোলা কলার যেমন মূল্য থাকে না তেমনি বে-পর্দা নারীরও মূল্য থাকে না। তাই মোহরানার পরিবর্তে উল্টা যৌতুক দিতে হয়। বিয়েতে নারীকে মোহরানা দেয়া ফরজ আর যৌতুক দেয়া হারাম। কোনো পর্দানশীল মেয়েকে বিয়ে দিতে যৌতুকের প্রশ্নই আসে না।

অধিকাংশ পিতা মাতা তার ছেলের জন্যে পর্দানশীলা মেয়ে ও মেয়ের জন্যে শালীন ও ভদ্র ছেলে পছন্দ করে। বে-পর্দা মেয়েদের পারিবারিক বন্ধন ণভঙ্গুর বাতাদের পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকে। যারা পর্দা মানে না তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় দাম্পত্য জীবন দোল খায়। বিভিন্ন অজুহাতে পারিবারিক জীবনে অশান্তি বিরাজ করে। হিজাব পালন না করার কারণে অবাধ যৌনাচার বৃদ্ধি ও এইডসের মতো মরণব্যাধি জীবনকে গ্রাস করছে। এগুলো আল্লাহ তায়ালার প থেকেই যেন একটা অভিশাপ। বে-পর্দা মেয়েদের চেহারায় লাবণ্য বা কোমলতা থাকে না। তাই তাদের জন্যে প্রতি মাসে শত শত টাকারপ্রসাধনী সামগ্রী প্রয়োজন হয়। বে-পর্দা করা বা হওয়া শয়তানের কাজ। শয়তান সম্পর্কে সতর্কবাণী হচ্ছে, ‘সে তোমাদের নানা প্রতিশ্র“তি দেয়, তোমাদের সামনে মিথ্যা বাসনার মায়াজাল সৃষ্টি করে, আর শয়তান যা প্রতিশ্র“তি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়’ (আন নিসা-৪-১২০)। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা আল্লাহ তায়ালার আদেশ-নিষেধ মানে না বা আল্লাহকে অভিভাবক বলে স্বীকার করে না, আল্লাহ তায়ালা শয়তানকে তাদের অভিভাবক বানিয়ে দেন, (সূরা আ‘রাফ-৭-২৭)।

ঈমানদাদের উচিত আল্লাহ তায়ালাকে অভিভাবক মেনে ও রাসূল (সা.) এর সুন্নাহর অনুসরণ করে, আল্লাহপ্রদত্ত রাসুল (সা.) প্রদর্শিত পথে চলা। কুরআন ওহাদিসের আলোকে সালাত, সিয়াম, হজ ও যাকাত যেমন ফরজ, পর্দা বা হিজাবও তেমনি ফরজ। আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ করছেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর কথা মেনে চলো, আশা করা যায় তোমাদের ওপর দয়া করা হবে’ (সূরা আল ইমরান-৩-১৩২)।

পরিশেষে বলে চাই পর্দা নিয়ে এত উদাসীন হবেন না, কারণ সবাইকে একদিন মরতে হবে, কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর সামনে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে ।
লেখক: আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার