সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কিন্তু সেই সব শিক্ষিত চোরদের কিভাবে শায়েস্তা করা উচিত?



মানবিকতা যখন পশু রূপে জন্ম নেয় তখনি প্রাণ বিসর্জন দিতে হয় রাজন সাগরের মতো নিষ্পাপ শিশুদের। তাও আবার চোর রূপে।‍ “অ ভাই আমারে এক গললাস (গ্লাস) পানি দেওরেবা, আমার গলা হুকাইগেছে (শুকিয়ে গেছে), আর আমারে মারিও না, আমার আত-পাও ভাংগি গেছে (হাত-পা)” শিশু রাজন এত সব কথা বলার পরও মন গলেনি কামরুলসহ পাষন্ড নরপশুদের। ২০১৫ সালের ৮ জুলাই রাজনকে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করতে হয়। ঠিক একইভাবে চোরির অভিযোগে প্রাণ দিতে হলো ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার চর শ্রীরামপুরের সাগরকে। হতদরিদ্র, অসহায় ও গরিব পরিবারের ছেলে সাগর। সারাদিন প্লাষ্টিক আর কাগজ কুড়িয়ে বেড়ানো তার কাজ। সেও একজন মানুষ ছিল। তারও শরীরে মাংস ছিল রক্ত ছিল হাত পা ছিল তবুও সেই সব মানুষ রুপের জানোয়াররা একটুও দয়া দেখায়নি তার প্রতি। মৃত্যু তো সবাই চায় কিন্তু এরকম বেদনাদায়ক কে আশা করে। তাকে আর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে হবে না। আশেপাশের লোকজন আর চোরির অভিযোগ দিতে পারবে না। আর প্রতিদিনের মতো তাকে বকুনি দিতে হবে না। কিন্তু সাগর তো আমাদেরই একজন ছিল। সে কি ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার এ সবের স্বপ্ন দেখতো না। মা-বাবার একমাত্র আশাকে তারা শোকে পরিণত করে দিল। প্রত্যেকটি দিন তাদের জন্য একটি একটি শোকে পরিণত হবে। গরিব হয়ে জন্ম নিয়েছে বলে আজ তাকে চোর রুপে প্রাণ বিসর্জন দিতে হলো। গরিব হয়ে জন্মানো যেনো দেশ ও সমাজের জন্য এক ধরনের অভিশাপ হয়ে গেছে। সাগর অশিক্ষিত গরিব তাই তাকে চোর সাজতে হয়েছে। কিন্তু সেই সব চোরদের কি বলবেন যারা শিক্ষার আড়ালে দেশভক্তির আড়ালে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত থাকে। যারা তাদের টাকার প্রভাব ও মন্ত্রীত্ব খাটিয়ে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করে না। কি শাস্তি দেয়া হয় এসব শিক্ষিত চোরদের। অপরাধ করার পর সাধারণ জনগণ ভয় পেয়ে যায় তাদের নাম উল্লেখ করতে। কারণ তারা তাদের টাকার প্রভাব ও মন্ত্রীত্ব দিয়ে সত্যকে মিথ্যা ও মিথ্যাকে সত্য প্রমাণিত করতে পারে। তারা সাধারণ জনগণকেও টাকা দিয়ে কিনতে পারে আর যে টাকার দ্বারা মুখ বন্ধ করবে না তাকে সেই সব শিক্ষিত চোররা পশুরূপ নিয়ে খুনও করে ফেলে। সাগর তো কারোর খুন করেনি সন্ত্রাসীও করেনি চাঁদাবাজিও করেনি তবুও কেনো তাকে চোররুপে জীবন দিতে হলো। সত্যিকার অর্থে যারা সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকে তাদের কোনো বিচারই হচ্ছে না এ দেশে কিভাবেই বা হবে তারা তো প্রভাবশালী, শিক্ষিত, মন্ত্রী তারা তো সবকিছু আড়ালে করছে তাহলে কেনো তাদের বিচার হবে। এই চোররা তারাই যারা এদেশে আইন তৈরি করে এবং শেষে তারাই বলে আইন নিজের হাতে নিবেন না। এরকম চলতে থাকলে দেশের উন্নতি বিন্দু পরিমাণও সম্ভব না। কেনো জানি মনে হচ্ছে এদেশে সত্য এবং ন্যায় কলুষিত হয়ে গেছে। আমি আল্লাহর কাছে দুয়া করি রাজন এবং সাগরকে যেনো জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। দেশের ১৭ কোটি মানুষের হয়ে আমি রাজন এবং সাগরের বাবা-মা’র কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

ছাত্র ব্যক্তিত্ব লেখক ও সমাজকর্মী।

মো.নাঈমুল ইসলাম