বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর

মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের কি অপরাধ?



আলী ফজল মোঃ কাওছার:: দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ মায়ানমার, ১৯৪৯ সালে ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত হয় । মায়ানমারের বেশীভাগ মানুষ বৌদ্ধ ।

বাংলাদেশের দক্ষিণে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নাফ নদী, নাফ নদী পাড়ী দিলে মায়ানমারের আরাকান রাজ্য, আরাকান রাজ্যের অধিবাসীদের রোহিঙ্গা বলে ।

আরাকান রাজ্যে মুসলমানদের বাস । এই রাজ্যে প্রায় ৭-৮ লক্ষ মুসলমান বাস করে । মায়ানমারে অনেক দিন ধরে জরুরী অবস্থা চলতেছে ।

অনেকদিন ধরে মায়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে, কিন্তু এত প্রকট আকারের ছিলনা এখনকার মত, সম্প্রতি মায়ানমারে সেনা চৌকি পুড়ানোকে কেন্দ্র করে মায়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচার শুরু করে ।

২০১৫ সালে অং সান সু চি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এদের উপর অত্যাচার বেড়ে গেছে । যে সু চি গনতন্ত্রের কথা বলে রোহিঙ্গাদের কথা পক্ষে কথা বলে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন । সেই সু চি ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে রোহিঙ্গাদের কথা ভুলে গেলেন, গনতন্ত্রের কথা ভুলে গেলেন, সেনাবাহিনীকে সমর্থন করতেছেন ক্ষমতায় ঠিকে থাকার জন্য ।

উনার পুরনো প্রেমিকের উপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচার শুরু করলেন , উনি যখন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন এক পাকিস্তানীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয় । পরে এই পাকিস্তানীর সাথে তার সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় । অই পাকিস্তানী ছিলেন একজন মুসলমান, এর জন্য সু চি হয়ে যান মুসলিম বিদ্বেষী, এর জন্য রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর এই অত্যাচার, আবার পাকিস্তানীরা সমর্থন দিচ্ছে মায়ানমার সরকারকে ।

সু চি আপনার পুরনো প্রেমিকের উপর জ্বালা মেটাতে মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচার করছেন, আপনার পুরনো প্রেমিকতো মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের নাগরিক নয়, তাহলে তাদের উপর কেন এই অত্যাচার???
আপনার যদি রাগ থেকে তাকে তাহলে পাকিস্তানীদের উপর আক্রমণ করুন, এসব নিরীহ মানুষদের উপর কেন???
শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেলেন, এখন আপনার সেই শান্তির কথা কই গেলো???
নাকি আপনি হচ্ছেন সুযোগ সন্ধানী, এত শান্তির কথা বলে এখন ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে শান্তির কথা ভুলে গেলেন । আপনি ছিলেন মুখোশধারী, আপনার আসল রুপ এখন দেখছে বিশ্ব ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহ সবাইকে ধন্যবাদ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য । এখন জাতিসংঘকে চাপ সৃষ্ঠি করতে হবে মায়ানমারে উপর, যাতে রোহিঙ্গাদের অত্যাচার না করার স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেয় ।
কারণ বাংলাদেশের সরকার নিজেদেরই ঠিকমত অন্ন,বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে পারছেনা, এত বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে কিভাবে সুবিধা দিবে ।
বিশ্বের মোড়লদের বিবেক কি নাড়া দেয়না, বিশ্বের মোড়লদের এগিয়ে আসতে হবে, রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলতে হবে, না হলে আমরা বুঝব আপনারা পক্ষপাত দুষ্ঠে দুষ্ঠ ।
মায়ানমারের সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই রোহিঙ্গা মুসলমানদের কেন এই নির্মম অত্যাচার, রোহিঙ্গা মুসলমানদের কি অপরাধ???