সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ফলিক খানের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর মিটানো নাম নতুন করে অঙ্কন  » «   গোলাপগঞ্জে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন  » «   বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে সিলেট সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শোক  » «   জগন্নাথপুরে টাকা দেয়া হলেও চাল দেয়া হয়নি  » «   জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  » «   ২৬ নং ওয়ার্ড তালামীযের অভিষেক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন  » «   সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নায়িকার মেকআপ রুমের ছবি ফাঁস!  » «   কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত  » «   জগন্নাথপুরে নুর আলীর খুনিদের ফাসির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী  » «   জগন্নাথপুরে সাংবাদিক কলির দাদীর মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ  » «  

সিলেটে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে নতুন চমক বিএনপি !!



বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দেখাতে পারে বিএনপি। আসতে পারে নতুনমুখ। এক্ষেত্রে বর্তমান জনপ্রিয় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কপাল পুড়তে পারে। এমন আলোচনা চলছে বিএনপির অন্ধরমহলেও। যদিও সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে লবিং শুরু করে দিয়েছেন বিএনপির অনেক নেতাই।
কিন্তু আলোচনায় যেসব নেতার নাম উঠে আসছে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির দৌঁড়ে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি তাদের। আচমকা প্রার্থীর ঘোষণা আসতে পারে দলের হাই কমান্ড থেকে। তবে কে সেই ভাগ্যবান, যিনি লবিং ছাড়াই সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে ধানেরশীষ প্রতিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন (?)-এ নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়েও। সিলেট বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই দলের মেয়র প্রার্থীতার বিষয়ে আভাস পেয়েছেন, কেউ কেউ সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামও শোনেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না কেউই।
দলের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির ভবিষ্যত কান্ডারি ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটসহ দেশের সব ক’টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী বাছাই শুরু করেছেন। দল এবং দলের বাইরে পেশাজীবীদের নিয়ে গড়ে তোলা একাধিক মনিটরিং টিমের প্রতিবেদন সামনে রেখেই প্রার্থীতা চূড়ান্ত করছেন তিনি। প্রার্থী তালিকায় প্রতিটি সিটি করপোরেশনে দলের সম্ভাব্য তিন থেকে চারজন মেয়র প্রার্থী রাখা হয়েছে। তালিকায় রাখা প্রার্থীদের বয়স, ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাসহ নানা খুটিনাটি বিষয়ে মনিটরিং টিমের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত খোঁজ রাখছেন তিনি।
বয়সের দিক দিয়ে অপেক্ষাকৃত তরুণদেরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান। সূত্রমতে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী তালিকায় থাকা তিনজনের দু’জনই হচ্ছেন অপেক্ষাকৃত তরুন। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক এডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। এ তালিকায় বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীরও নাম রয়েছে।
যদিও খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সিলেট-১ আসনে বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে কয়েক বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কখনো তিনি মাঠ ছাড়েননি। বিএনপির নিখোঁজ সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী এবং দলত্যাগী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর বলয়ের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার চেষ্ঠা করছেন। কিন্তু সিলেট-১ আসনে শেষ পর্যন্ত দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া প্রার্থী হলে তার আর সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করা হবে না। সে কারণেই তাকে সিসিক নির্বাচনে দেখা যেতে পারে।
একই অবস্থা এডভোকেট সামসুজ্জামানের ক্ষেত্রেও। সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় তাকে (সামসুজ্জামান) সিলেট-৪ আসনে রেখেছে দলের হাইকমান্ড। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট-৪ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতিও রয়েছে সামসুজ্জামানের। দলের ভেতরে অপেক্ষাকৃত এই তরুণ নেতার জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে সিলেট নগরীতে তার শক্ত একটা অবস্থান রয়েছে। দলের দু:সময়ের পরিক্ষিত, এই ত্যাগী নেতার নাম রয়েছে তারেক রহমানের গুডবুকেও। এ কারণে সিসিকের মেয়র পদের সম্ভাব্য তালিকায় এসেছে সামসুজ্জামানের নামও।
এদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বপদে ফিরার পর তিনি জনসংযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদেরও ডাকছেন, পাশে রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের দু:সময়ে সরকারদলীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে তার সুসম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে দলীয় হাইকমান্ড ক্ষুব্ধ বলে জানিয়েছে বিএনপির একাধিক সূত্র।
উদাহরণস্বরূপ এই সূত্র জানিয়েছে, আরিফুল হক কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে গিয়েছিলেন তার কার্যালয়ে। অনেক তদ্বিরের পর খালেদা জিয়া সাক্ষাতের অনুমতি দিলেও তাকে ভালোভাবে বরণ করেননি। খালেদা জিয়া বসে থেকে বাম হাত দিয়ে আরিফুল হকে নেয়া ফুল গ্রহণ করেন। যা পরদিন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। অথচ একই মামলায় জেল খেটে বের হওয়া হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জিকে গাউকে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে বরন করেন খালেদা জিয়া। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে একই মামলায় জেল খাটা জিকে গাউস সম্পাদকীয় পদ পেলেও এক্ষেত্রে আরিফের প্রাপ্তি শুন্য। খালেদা জিয়াসহ দলের নীতিনির্ধারকরা যে আরিফুলের ওপর সন্তুষ্ট নন, সেটা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জানেন আরিফুল হকও। তবে, ইদানিং মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নানা মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
সূত্রমতে, মেয়র প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকায় তিন নম্বারে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম থাকলেও তার দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির সম্ভাবনা খুবই কম।