মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পলিথিন আলীর হরেক রকম ধান্দা



samimভ্যান চালক ছিল আলী সরকার ওরফে পলিথিন আলী। সিলেটে লালদিঘীরপাড়ে একটি ছোটখাটো দোকান ভাড়া নিয়ে শুরু করে জর্দ্দার ব্যবসা। এই ব্যবসার আড়ালে নিষিদ্ধ পলিথিন দিয়েই আলী চোরাচালান ব্যবসা শুরু করে। রাতের আঁধারে ঢাকা থেকে ট্রাকযোগে পরিথিন এনে রাখতো সাতমাইলের কালামের সেন্টারে। ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান দিয়ে তাকে আটক করে। বহুবার পুলিশ তাকে আটক করেছে। জেল খেটে কিছুদিন আগেই বেরিয়েছে আলী। কিন্তু থেমে থাকেনি তার দৌরাত। লালদীঘিরপাড়ের ব্যবসায়ীদের সাথে এবার শুরু করে নতুন প্রতারণা। তাই সেখানের ব্যবসায়ীরা তাকে গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলী বর্তমানে মৌলভীবাজারে একটি পলিথিন কারখানা করেছে। সেখানের নকল জর্দ্দাও উৎপাদন করা হয়। ডিবি পুলিশের কারণেই সে মৌলভীবাজারে কারখানা স্থানান্তর করেছে। আগে সিলেট শহরতরীতে টুকেরবাজারে ছিল তার কারখানা। বর্তমানে কারখানা না থাকলেও মাল রাখে দক্ষিণ সুরমার দারোগা রাস্তার অদূরে একটি গোডাউনে। ঢাকা থেকে ট্রাক এসে সেখানে দাঁড়ায় , ওখানেই মাল খালাস করে সিলেট শহরে আনে আলী। আগে ছিল পলিথিন ব্যবসা, এখন বদলে গেছে ব্যবসার ধরন। আলী শুরু করেছে মাদক ব্যবসা।
লালদিঘীরপাড়ের একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, সে ইয়াবা ও ফেনসিডিল বিক্রি করে। কয়েকবার আটক হলেও এখন প্রশাসনের দুএকজনকে টাকা দিয়ে সে গ্রেফতার এড়াচ্ছে। সে পলিথিন সিন্ডিকেটের গডফাদার। তার পলিথিনেই সিলেট সয়লাব। পরিবেশ অধিদপ্তরের গোডাউন থেকেও জব্দকৃত পলিথিন চুরির মামলা আছে আলীর বিরুদ্ধে।
বর্তমানে আরেকটি ধান্দা শুরু করেছে। ‘বাংলাদেশ মিডিয়া’ নামের একটি পত্রিকার প্রধান সম্পাদক পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। লালদিঘীরপাড়ের একটি পরিত্যক্ত দোকান ভাড়া নিয়ে করে পত্রিকার অফিস করেছে। সেখানে একটি বিশাল সাইনবোর্ডও দিয়েছে। লালদিঘীরপাড়ের ব্যবসায়ীদেরকে সে সাংবাদিক পরিচয়ে ভয় দেখাচ্ছে। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলীর সিলেটে কিছুই ছিল না। এখন কুশিঘাট এলাকায় আলী সরকার ভবন নামের একটি আলিশান বাড়ি করেছে। সেখানেও রাখা হয় নিষিদ্ধ পণ্য।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, আলী সরকার মাদক ছড়াচ্ছে। নিস্ধি পলিথিনের ব্যবসা করছে। তাকে গ্রেফতার করার জন্য প্রশাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এব্যপারে আলী সরকারের সাথে ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তিনি ফোন রসিভ করেন নি।

আজ ১৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সে নিজে বার্তা প্রেরক হয়ে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি। 

সুনামগঞ্জে শিক্ষা প্রসারের বিরল দৃষ্টান্ত আলী হোসেন সরকার: প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ৬০ শতক জমি দেওয়ার ঘোষনা
সিলেটের ভাটি অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত দুটি গ্রামের কোমল মতি শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে ৬০ শতক নিজের ভূমি প্রদানের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছেন সুনামগঞ্জের একজন কৃতিসন্তান ব্যবসায়ী সমাজ সেবী শিক্ষানুরাগী ও সাংবাদিক মোঃ আলী হোসেন সরকার। তিনি তার জন্ম স্থান ৩নং বারা ইউনিয়ের ইসলামপুর ও কালীপুর গ্রামের শিশুদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রধান মন্ত্রী, সাবেক রেল মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে এব্যাপারে সদয় সাহায্য ও সহযোগীতা কামনা করেছেন ১৩ অক্টোবর ২০১৬ইং তারিখে তাদের কাছে প্রেরিত একটি আবেদনে আলী হোসেন সরকার এই সহযোগীতাটি প্রত্যাশা করেন। বিশিষ্ট পালামেন্টরিয়ান বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের নির্বাচনী এলাকা ২২৫ সুনামগঞ্জের এই দুটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় এ অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে দুরে থেকে যাচ্ছে। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার এই সময়ে উক্ত ইউনিয়নের ইসলামপুর ও কালীপুর গ্রামের শত সহ¯্র কোমলমতি শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করতে গিয়ে মারাতœ দুভোগ কষ্ট আর অনিশ্চতায় মধ্যে পড়েছেন। এসব শিশুরা দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে গিয়ে পূর্ব পিটোয়ার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষা গ্রহনের জন্য অক্লান্ত প্ররিশ্রম করে যাচ্ছেন। তা ও আবার উক্ত বিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রছাত্রী চাপ থাকায় দুরবতী ইসলামপুর, কালীপুর গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা সেখানে ভর্তি হতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন । ভর্তি হতে না পেরে অনেক পথ ফাঁড়ি দিয়ে ভর্তির জন্য গিয়ে অনেক শিশু কষ্ট বুকে নিয়ে ফিরে আসছেন। এলাকায় এসব ভবিষ্যৎ খর্ণধারদের দুঃখ কষ্ট দেখে ৩নং বারা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিশিষ্ট সমাজ সেবী ও সাংবাদিক আলী হোসেন সরকার ৬০ শতক ভূমি স্কুল নির্মানের জন্য দান করার প্রস্তাব প্রদান করেছেন। আলী হোসেন সরকার বাংলাদেশের সর্বকালের সর্ব শেষ্ঠ নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সুযোগ্য কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের খাপেলায় হতেই এই পদক্ষেপ নিয়েদেন। তিনি মনে করেন বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমুদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ও বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের উক্ত গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় নাই। স্থানীয় জননেতাগণ নির্বাচনের সময় উক্ত এলাকায় স্কুল নির্মানের একাধিকবার আশ^াস দিলেও আজ পর্যন্ত কেউ কোন স্কুল তৈরী করে দিতে সক্ষম হন নাই। উল্লেখিত ইসলামপুর ও কালিপুর গ্রামে বর্তমানে প্রায় ৪১২ জন ছাত্র ছাত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উক্ত ছাত্র ছাত্রীরা আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দুরে পায়ে হেটে গিয়া যাহা পূর্ব পিটোয়ার কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখা পড়া শিখতে যায় কিন্তু উক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এলাকার বেশি ছাত্রছাত্রী থাকার কারণে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের দুটি গ্রামে ছাত্রছাত্রী ভর্তি করতে আপত্তি জানায় সে কারণে বর্তমানে আমাদের দুটি গ্রামের হতদরিদ্র অনেক ছেলে মেয়ে লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে। আমাদের দুটি গ্রামে শিশুদের লেখাপড়া করার জন্য আমাদের ঐ এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা অত্যান্ত জরুরী। সে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষর আলোয় আলোকিত করতে দয়া করে উপরোক্ত এলাকার হত দরিদ্র শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে যদি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান করার পদক্ষেপ নেন তাহলে স্কুল নির্মানের জন্য আমার নিজ মালিকানাধীন ৬০ শতক জায়গা আমি আমার নিজের পক্ষ থেকে স্কুলের জন্য দান করব।
অতএব দয়া করে আমার উল্লেখিত এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের
ব্যবস্থা গ্রহন করে অবহেলিত এলাকাবাসীকে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ রাখিবেন। সুত্র: ক্রাইম নিউজ