বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তারুণ্যের প্রতীক ‘নূর হোসেন মরে নাই-’ এমপি কেয়া চৌধুরী



amatul-kibria-keya-chowdhury-mpদেশের প্রয়োজনে,মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় স্বাধীনতার আন্দোলনে এমনকি গণন্ত্রের দাবির প্রতিষ্ঠায়, যুগে-যুগে বাংলাদেশ উদিয়মান তরুন সমাজের কত না গল্প! বাঙ্গালীর টগবগে তরুন সমাজের উদ্যেম, সাহসের ইতিহাসের তালিকা র্দীঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। ভাষা শহীদ সালাম জব্বার থেকে শুরু করে একাত্তরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, স্বৈরাচার বিরুধী আন্দোলনের এক-একটি ইতিহাস নূর হোসেন সহ বীরপুরুষদের মৃতুঞ্জয়ী অক্ষত এক একটি ইতিহাস আমাদের অনাগত প্রজন্মকে প্রতিদিন চেতনার বাতিঘর হয়ে আলো ছড়ায়। দেশের প্রয়োজনে নানা সময়ে, এই সকল বীরে’রা রুখে দাড়িয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে।৫২ ভাষা আন্দোলনে, টগবগে তরুন সালাম, জব্বার, বরকত বুলেটের আঘাতে তাদের বুকের তাজা রক্তে রাজপথ যেমন ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে শত্রুমুক্ত করতে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক শ্রেনীর হীন মানসিকতাকে দমিয়ে দিতে দেশের মানুষের মুক্তির আকাঁঙ্খা জাগ্রত করতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমনের ডাঁকে তৎকালীন পাকিস্তানী সেনাবাহীনির সিপাহী মাত্র ১৮ বছরের যুবক হামিদুর রহমান পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে দেশের জন্য জীবন দিয়েছিলেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নিজেকে গণতন্ত্রের ইশতিহার বানিয়ে জীবন্ত পোষ্টারে রূপ দিয়েছিলেন, বাংলার তরুন সমাজের অহংকার ‘নূর হোসেন’। গায়ের জামা খুলে, বুকে ও পিঠে সাদা রঙ্গে লিখে নিয়েছিলেন; সেই সময় মুক্তিকামী মানুষের কিংবদন্তী এক স্লোগান ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ’গণতন্ত্র মুক্তি পাত ‘ কোটি প্রানের এই স্লোগান গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় এক দৃশ্যত ইশতেহার’। ঢাকার জিরো পয়েন্ট এলাকায় পুলিশের গুলি নূর হোসনকে ছিনিয়ে নেয়। ছিন্নভিন্ন করে দেয়,তার বুকে পিঠে স্লোগানের সেই শব্দগুলো। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পুলিশের গুলিতে ১৯৮৭ সালে ১০ই নভেম্বর শহীদ হওয়া নূর হোসেন হয়ে ওঠলেন বীরত্বের এক প্রতীক। আমরা সেই সকল তরুন টগবগে বীর বাহাদুরদের পরবর্তী প্রজন্ম। রক্তের বন্ধনে সুত্র না থাকলেও তারুণ্যের প্রজন্মে একইসুত্রে গাথা আমাদের আদর্শের মালা। সেই থেকে আজ আবদি ইতিহাসের পাতায় বীরত্বগাথা সেই তরুনদের আতœত্যাগের মহিমায় প্রতিটি প্রজন্মের তরুন আদর্শবান হয়ে এগিয়ে যাবে। নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখবে, একজন নূর হোসেনের, ভাষা শহীদ রফিক, জব্বার, বরকত, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান অথবা মুক্তির পতাকাবাহী স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির অগ্রপথিক প্রীতিলতা ওয়াদেদদার বা শহীদ ডাঃ মিলনের। স্বপ্ন দেখা তরুনেরাই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারে। আজকের বাংলাদেশ তারুন্যের বাংলাদেশ। স্বপ্নের আলোশিখা জ্বালিয়ে আমাদের তরুনরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে চলেছে। দেশ বিদেশে দৃষ্টান্ত আর উদাহরনে-শিরোনামে উঠে আসছে আমাদের স্বপ্ন জয়ের তরুনদের নাম । শেখ হাসিনা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশকে গড়ার মূল কারিগর স্বপ্নবান আমাদের এই তরুন সমাজ। তারা দুর্বার গতিতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে। সেটি হোক ক্রিক্রেট, ফুটবল, কৃষি,গবেষনা বা রাজনীতি,তা সবকিছুতেই আজকের বাংলাদেশের তরুনদের জয়ধ্বনী ।একটা বিরাট অংশের তরুন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল নিয়ে প্রোগামিং আউট সোরসিং-এ আয় করে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে তাদের প্রত্যক্ষ অবদানে। সবকিছু চলছে দুর্দান্ত গিতিতে। বাধঁভাঙ্গা তারুন্যের উচ্ছাসে স্বপ্নবান আজকের তরুনেরা বিশ্বমানের উচ্চতায় বাংলাদেশকে গড়তে চায়। সবকিছুই চলছে ঠিকঠাক মত,তারপরও মাঝে-মাঝে বাংলাদেশ স্তব্দ হয়ে যায়। স্বপ্নে ভরা তারুন্য থমকে যায় এমন কিছু পথহারা তরুনের ব্যর্থতায়। খবরের কাগজে শিরোনামে উঠে আসা ভংকর সব খবর যা গা শিউরে উঠে। সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে ক্ষত বিক্ষত করা নরপশু বদরুল সে-তো বয়সে এক তরুণ।কিন্তু কি ভংয়ঙ্কর কান্ড করতে দেখা গেলো তাকে। তথ্য প্রযুক্তির বদলতে কত ন্যক্কারজনক ঘটনা দেখলো বিশ্বমানব সমাজ। তারও আগে ১লা জুলাই হলি আটিজেনের সেই ভয়াভয় রাত্রিতে, কা-পুরুষের মত হানা দিয়েছিল যারা তারাও তো বয়সে তরুন। তারা স্বপ্ন দেখার বদলে স্বপ্নহীন পৃথিবীতে প্রবেশ করেছিল।ধমের উদারতার শিক্ষা না নিয়ে ধমের কথা বলে অর্ধমের কাজ করে ছিল হলি আর্টেজেমের জঙ্গি তরুনেরা । তাদের মুখ ভরা হাসির অন্তরালে ছিল দানবের নিষ্ঠুরতা। বাংলার মাটি ও বাতাসে বেড়ে ওঠা বৃত্তবান পিতা মাতার উচ্চ শিক্ষিত এই সকল তরুনেরা জঙ্গিবাদের কাল নিশানা উড়িয়ে, বাংলাদেশকে কলংঙ্কিত করেছে। তারুন্যের উন্মোদনাকে ভ্রান্ত্র পথে এগিয়ে নিয়ে একটি মহল এই তরুনদেরকে ব্যবহার করছে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে । এমনই ভয়াভয় চিত্র প্রায়শ আমরা সমাজে দেখতে পাছি।আধুনিকতার লেবাজ পরে, তথ্য প্রযু্ক্িতর সুবিধা নিয়ে কিছু তরুন সাম্প্রদায়িকতার বৃষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে।অহরহ ঘটছে সাইবার অপরাধ। হেকিং এর মাধ্যমে গোপন তথ্য প্রকাশ করে, ফেইসবুকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। যা সাম্প্রতিক উদাহরন ব্রাক্ষনবাড়ীয়ার নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের বাড়ীঘর ও মন্দিরে হামলা ভংচুর ও লুটপাট। এরও আগে আমরা রামু সাতিয়ায় এমন হটকারী কর্মের কুফল সমাজকে বইতে দেখেছি। এটি শুধু দুঃখজনক নয়, জাতীর জন্য কলংষ্কজনক ও। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে আমরা প্রতিদিন উজ্জল সূর্য দেখি।হাজারো তারা’য় ভরা রাত দেখি বাংলার আকশে। বাংলার হাওয়া আমাদের শরীর-মনকে শীতল করে।বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনকে প্রশান্ত করে। বাঙ্গালীর দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস আমাদেরকে গর্বিত করে। আমাদের কৃষক,জেলে,আদিবাসী চা-শ্রমিক,সবকিছু মিলেই বাংলাদেশ রঙ্গিন ছয় রতুর এক-দেশ। পাহাড়-হাওড়, সমতল মিলে কতো না সুন্দর আমদের দেশ। হিন্দু,মুসলিম বোদ্ধ খ্রিস্টান সকলের মিলে ঐক্যবদ্ব বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের সংবিধানের মূল প্রস্তাবনায় রয়েছে , অন্যতম মূলনীতি-ধর্ম নিরপেক্ষ ও সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। সেই দিখ থেকে, আমাদের শিক্ষা সংস্কৃতি ঐতিয্যে আমাদের মিলাতে সাহায্য করবে, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বার মানসিকতায়। অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার সামাজীকীরনের শিক্ষা আজ সময়ের দাবি। আমরা সেই গর্বিত বাংলাদেশের সন্তান, যে দেশের স্বাধীতার প্রতীক জাতীয় পতাকার বৃত্তের লাল সবুজের রঙে আছে, বাংলার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আর মুসলমানের ঐক্যবদ্ব ত্যাগ মহিমার উজ্জল ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের বীরত্বের মর্যদা আমরা তরুনরা ধরে রাখবো, আমাদের প্রতিদিনকার স্বপ্নে, প্রতিদিনকার কাজে । আর নিশ্চিতভাবে এই স্বপ্নের ভীত হবে অসাম্প্রদায়িক ধর্ম নিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষায় সময়ে, সময়ে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন, ভাষা শহীদ রফিক ৭১’র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের দ্রোহের প্রতীক নুর হোসেনের মতো তরুন স্বপ্নবান বীরেরা।