সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ফলিক খানের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর মিটানো নাম নতুন করে অঙ্কন  » «   গোলাপগঞ্জে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন  » «   বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে সিলেট সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শোক  » «   জগন্নাথপুরে টাকা দেয়া হলেও চাল দেয়া হয়নি  » «   জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  » «   ২৬ নং ওয়ার্ড তালামীযের অভিষেক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন  » «   সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নায়িকার মেকআপ রুমের ছবি ফাঁস!  » «   কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত  » «   জগন্নাথপুরে নুর আলীর খুনিদের ফাসির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী  » «   জগন্নাথপুরে সাংবাদিক কলির দাদীর মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ  » «  

হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছে ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর !!!



mostafjorআওয়ামীলীগের নাম বেচে বড় বড় পদে বসে আছো আর অযত্নে অবহেলায় হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছে ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান !!!

আনুমানি বিশ/বাইশ বছর বয়স্ক মোস্তাফিজুর রহমান মা-বাবা হারা এতিম এক পরিবারের সন্তান। নিষ্পাপ কয়েকজন বোন ছাড়া তার আর কোন ভাই নেই। তাই সে-ই একটি পরিবারের অভিভাবক। মা-বাবা বিহীন এ পরিবারকে সে-ই দেখা শুনা করতো। অর্থনৈতিকভাবে মামারা সাপোর্ট করলেও সে তার পরিবারের যাবতীয় রক্ষণা বেক্ষণ করতো। তবে এত বিশাল দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সে ছিল জকিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত কর্মী। বলতে গেলে দিনের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে চৌদ্দ ঘন্টা মোস্তাফিজের মাথায় ছাত্রলীগ কাজ করতো। নিজের পারিবারিক খরচের টাকা থেকে টাকা আয় করে সে ছাত্রলীগের বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও প্রোগ্রামে ব্যয় করতো। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্যি যে, সেই মোস্তাফিজ গত সোমবার বিকাল দুই ঘটিকার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেইদিন থেকে আজ অবধি গুরুতর আহত অবস্থায় সে প্রায় পাঁচ দিন থেকে হাসপাতালের তৃতীয় তলার নয় নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় চরম অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। তার ডান পায়ের তিনটি স্থানে ভেঙ্গে গেছে, টোট কেটে গেছে ও সামনের নীচের কয়েকটি দাত ভেঙ্গে গেছে। জখম প্রাপ্ত হয়েছে পুরো শরীর। শরীরের স্থানে স্থানে আঘাতের চিহ্ন। মোস্তাফিজের জীবনের এমন একটি কঠিন মুহূর্তে হাসপাতালের বারান্দায় অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকতে হবে তা কখনো এলাকার কেউ কল্পনা করতে পারেনি। কিন্তু হায়!!! নিয়তির নির্মম পরিহাস সেই মোস্তাফিজকে হাসপাতালের বারান্দায় দিনের পর দিন পড়ে থাকতে দেখে হতবাক হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। অনেকেই বলছেন মোস্তাফিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রাপ্তি এ টুকুই। কেউ বলছেন, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ জকিগঞ্জের গৌরব ডা: মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও বারহালের কৃতি সন্তান ডা: এম এ আজিজ চৌধুরী (দারা ভাই) এর মতো সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক ব্যক্তিবর্গ কি মোস্তাফিজের মতো একটি এতিম ছেলের জন্য হাসপাতালে একটি বেড বা কেবিন ব্যবস্থা করে দিতে পারছেন না? অথচ এ সকল “ডা:” পদবীধারীরা জকিগঞ্জের অনেক প্রোগ্রামে এসে বলেন, মেডিকেলে গেলে আপনাদের কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমাকে ফোন দিবেন। আমার নাম্বার সকলে রাখেন!!! অথচ হায়রে এ কি হাল? মোস্তাফিজের মতো একটি এতিম ছেলে যদি আপনাদের কাছ থেকে নুন্যতম সহযোগিতা না পায় তাহলে প্রশ্ন আসে আপনারা কাদেরকে সহযোগিতা করেন? শুধুই বক্তব্যতে শেষ, না বাস্তবে কিছু আছে? মোস্তাফিজের ভাষাহীন করুণ চাহনিতে মনে হয় সেও এমন কিছু বলতো। কিন্তু সে তো দুর্ঘটনার পর থেকে কথা বলতে পারছেনা। কথা বলতে পারলে হয়তো সে নেতাদের ফোন দিয়ে তার করুণ অবস্থার কথা বলতে পারতো। বন্ধুরা মনে রাখবেন মোস্তাফিজ আমার কোন আত্মীয়-স্বজন কেউ নয়। সে আমার এলাকার উদীয়মান একটি ছেলে। সব কিছু নিয়ে এভাবে লিখিনা। এতদিন থেকে বিষয়টি দেখে মনে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে লিখতে বাধ্য হয়েছি। আসুন আমরা Mustafijur Rahman এর পাশে দাঁড়াই। সুত্র ফেইসবুক-ছফু আহমদ