সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ফলিক খানের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর মিটানো নাম নতুন করে অঙ্কন  » «   গোলাপগঞ্জে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন  » «   বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে সিলেট সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শোক  » «   জগন্নাথপুরে টাকা দেয়া হলেও চাল দেয়া হয়নি  » «   জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  » «   ২৬ নং ওয়ার্ড তালামীযের অভিষেক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন  » «   সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নায়িকার মেকআপ রুমের ছবি ফাঁস!  » «   কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত  » «   জগন্নাথপুরে নুর আলীর খুনিদের ফাসির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী  » «   জগন্নাথপুরে সাংবাদিক কলির দাদীর মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ  » «  

ইবনে সিনা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় বিয়ানীবাজারের কিশোরের মৃত্যু



14369853_10205754849829159_4241429171421463522_n

১৮ ছুঁই ছুঁই এক শান্তশিষ্ট বালক। হঠাৎ ঈদের দু’দিন পূর্বে মাকে বলে তার বুকে ব্যথা। তাৎক্ষণিক স্থানীয় মাথিউরা ঈদগাহ বাজারে ডাক্তার দেখিয়ে ঔষধ কিনা হয়। ছুটি থাকায় ঈদের দু’দিন পর বিয়ানিবাজারে ডা. আহমদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান গ্যাস জমে আছে, হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য। বড়ভাই দেশের বাহিরে। মা-বোনেরা সাইদুল করিমের সু-চিকিৎসা ও বাড়তি ঝামেলার কথা ভেবে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না করে ‘ইবনে সিনা’ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানকার ডাক্তারা তার চিকিৎসা শুরু করেন। পরপর কয়েকবার ডায়ালাইসিস করা হয়। ( এ ডায়ালাইসিস তার জীবনে কাল হয়)। বাহিরের ফার্মেসি থেকে ঘন্টায় ঘন্টায় ঔষধ কিনে নিয়ে আসেন তার বোন। প্রতিবার ঔষধের দাম তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার পড়ে। কাল দুপুর ১২টায় ডাক্তারা জানান নেশা সেবন করার জন্য নাকি তার দু’টি কিডনি বিকল হয়ে গেছে।
যে ছেলেকে কোনদিন অযথা ঈদগাহ বাজারে দেখিনি, সন্ধ্যার পর যে ঘর থেকে বের হয়নি। সে ছেলেটি নেশা সেবন করে কি করে!
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যখন কসাইঘর ইবনে সিনার আইসিইউ রুমে যাই তার দু’জন সহপাঠী সেখানে ছিল। তারা বলে সে কখনও কাজ না ছাড়া বাড়ির বাহিরে বের হতো না। শান্ত স্বভাবের ছেলে, কোনদিন কারও সাথে খারাপ আচরন করেনি।
হাসপাতালের করিডরে তার মা-বোনের অসহায়ত্ব ও আর্তনাত আমায় নাড়া দেয় ভীষমভাবে। কর্তৃপক্ষের আদেশ অপেক্ষা করে ঢুকে পড়ি ডাক্তারের রুমে। ডাক্তারের কাছে জানতে চাই সাইদুল করিমের বর্তমান অবস্থা সর্ম্পকে। ডাক্তার জানান কাল দুপুর বারটায় সময় তারা আপডেড জানাবেন। পুনরায় জানতে চাইতে তিনি বলেন আজ দুপুরে জানালামতো। অসহায় হয়ে বের হয়ে আসি। যার ম্যাধমে ইবনে সিনায় ভর্তি হন তাঁর সাথে যোগাযোগ করি তিনি ফোন রিসিভ করলেন না। দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা, সিলেট অফিসের সাথে যোগাযোগ করি ওসমানী মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে ভর্তির ব্যবস্তা হয়। কিন্তু ইবনে সিনার কর্তৃপক্ষ বলেন অন্য কোথায় নেওয়ার পথে রাস্তায় যদি কোন অঘটন ঘটে তাদের দোষারুপ করা যাবে। এ কথা শুনে তার মা-বোন ঘাবড়ে যান।
পরে উপজেলা চেয়ারমম্যান আতাউর চাচা, সাংবাদিক ফয়ছল চাচার সাথে যোগাযোগ করি। তাদের সাথে কথা হয় আজ সকালে ইবনে সিনা থেকে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং মাথিউরা ইউনিয়ন উন্নয়ন সংস্থা (ইউ কে) সাথে যোগাযোগ করে তার চিকিৎসা জন্য সহযোগিতা জন্য অনুরোধ করা হবে।
রাত যখন বারটা মাথিউরায় আসি। ঈদগাহ বাজার আসতে তার পরিবার থেকে ফোন আসে অবস্থা খারাপ। আমি তার বাড়ির লোকমান চাচাকে ফোন দেই তিনি বলেল, ‘আমরা সিলেট যাবার জন্য গাড়ি কল করেছিলাম কিন্তু শুয়াইবুর রহমান বলেছেন এখন একটু ভালো তাই সকালে যাবো’।
আমি শুয়াইবুর রহমান ভাইকে ফোন দেই সন্ধ্যার মতো রিসিভ করেন নি। চোখে ঘুম নেই!
শুক্রবার সকাল ৬টায় সে না ফেরার দেশে চলে গেছে। আমাদের দৌঁড়-ঝাপ করতে হবে না। মিথ্যে অপবাদ প্রদানকারী ইবনে সিনার মতো টাকা রুজির কারখানায় বিলের পেপার ভারী হবে না। সাইদুল করিমের খোঁজ নেওয়া জন্য শুয়াইবুর ভাই ফোন দিয়ে জ্বালাতন করবে না।
সাইদুর করিম এর মা,ভাই-বোন সে অসহায়- উৎকন্ঠার মধ্যে ছিল তাদের না দেখলে বা ফোন তাদের সাথে কথা না বললে কেউ বিশ্বাস করবে না। বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা দোয়াখা নিবাসী মৃত মক্তার আলীর পরিবারকে অকালে টগবগে এ কিশোর হারানোর ব্যথা সারা জীবন অশ্রু জড়তে হবে। আর ইবনে সিনার মতো অতি মুনাফা লোভী প্রতিষ্টানরা হত্যা করেও পার পেয়ে যাবে!!

তথ্যসুত্রঃ সুয়াইবুর রহমান স্বপনের ফেইসবুক পেইজ থেকে নেওয়া ।