সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ফলিক খানের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর মিটানো নাম নতুন করে অঙ্কন  » «   গোলাপগঞ্জে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন  » «   বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে সিলেট সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শোক  » «   জগন্নাথপুরে টাকা দেয়া হলেও চাল দেয়া হয়নি  » «   জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  » «   ২৬ নং ওয়ার্ড তালামীযের অভিষেক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন  » «   সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নায়িকার মেকআপ রুমের ছবি ফাঁস!  » «   কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত  » «   জগন্নাথপুরে নুর আলীর খুনিদের ফাসির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী  » «   জগন্নাথপুরে সাংবাদিক কলির দাদীর মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ  » «  

সিলেটে সহস্রাধিক মুসল্লিকে আসামী করে ইসকনের উস্কানীমূলক মামলা!!



eskon-mamlaখলিলুর রহমান: সিলেটে শুক্রবার (১সেপ্টেম্বর) নগরীর কাজশাহ-এলাকায় ইসকনভক্ত ও জুমআ’র মুসল্লিদের মধ্যে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার একদিন পর শনিবার রাতে ইসকন সিলেট এর অধ্যক্ষ নব দীপ দ্বীজ গৌরাঙ্গ ব্র্রহ্ম্চারী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় ৩৪জনকে এজাহারভুক্ত করে সহস্রাধিক মুসল্লিদের অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। মন্দিরের ক্ষয়-ক্ষতি দেখানো হয়ে ৩০লক্ষ টাকার। কোতোয়ালী থানা পুলিশ ওই রাতেই মামলাটি রেকর্ডে নেয়। এদিকে প্রশাসনিকও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ঘটনাটি সমঝোতায় নিষ্পত্তি হওয়ার পর মামলা দায়েরের বিষয়টি সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও কোরবাণীর ঈদকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়কে চরম হয়রানী আখ্যায়িত করে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা এবিষয়ে করনীয় নির্ধারনে এলাকার কয়েকটি পাড়া-মহল্লা নিয়ে রোববার বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠকে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা’ তাৎক্ষনিক জানা যায়নি।

এদিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থল কাজলশাহ রাস্তার ধার ঘেষে মসজিদ হলেও মন্দিরটি অনেক দূরে টিলার উপরে। এটা প্রাচীনতম যুগলটিলা জিউ আখড়া নামে পরিচিত। রাস্তার ধারে মন্দির কম্পাউন্ডের স্টিল গেইট রয়েছে। গেইট থেকে মন্দিরের দূরত্ব প্রায় অর্ধকিলোমিটার। ঘটনার সময় ইসকন কর্মীরা রাস্তায় মুসল্লিদের সাথে সংঘর্ষের পরই গেইটের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং গেইট বন্ধ করে ভেতর ও টিলার উপর থেকে মুসল্লিদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ে। কিছু সংখ্যক মুসল্লিও ইসকনের গেইটে পাল্টা ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। মন্দির কম্পাউন্ডের ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি। এ অবস্তায় মন্দিরের ৩০লক্ষ টাকার ক্ষতি অবাস্তব ও ধর্মের নামে ইসকনের চরম মিথ্যাচার বলে এলাকাবাসী অভিহিত করেছেন। এছাড়াও কাজলশাহ মসজিদের মুসল্লি সংখ্যার শ’দেড়েকের বেশী নয়। এ অবস্থায় সহস্রাধিক মুসল্লির সংঘর্ষে অংশগ্রহণ চরম মিথ্যাচার ও ঈদকে সামনে রেখে উস্কানী এবং হয়রানীমূলক বলে মনে করছেন। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয়ে যাওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান করে মামলা সংখ্যাগুরু মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর সংখ্যলঘুদের আধিপত্য ও প্রশাসনিক দাপট আখ্যায়িত করে এলাকাবাসী এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ পবিত্র কোরবাণীর ঈদকে সামনে রেখে উগ্র সাম্প্রদায়িক ইসকন সম্প্রীীত নষ্ট করে মুসলিম সমাজকে ঘরছাড়া করার সুূদূর প্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এর অংশ হিসেবে উস্কানীর মাধ্যমে শুক্রবার ইসকনই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায় এবং একই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সমঝোতার পর এ মামলা দায়ের করে। সমঝোতা প্রত্যাখ্যান করে সহস্রাধিক মুসল্লিদের আসামী করে মামলার কারনে উদ্ভুত যে কোন পরিস্থিতির জন্য ইসকন,সরকার ও প্রশাসন দায়ী থাকবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
এদিকে এ মামলার সাথে একমত নন সিলেটের মূলধারার হিন্দু সম্প্রদায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সনাতনধর্মী হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ নেতৃবৃন্দ এ মামলাকে ইসকনের অতি বাড়াবাড়ি উস্কানী ও সম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন।