বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নর্থ ইস্ট মেডিকেলের ডা: রাব্বী গাড়ি চোরদের সর্দার!



Carডেস্ক রিপোর্ট:  সিলেটে গাড়িচোর সিন্ডিকেটের সন্ধানে নেমে তাদের আড়ালে থাকা সর্দারের সন্ধান মিলেছে। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসার মত এই অনুসন্ধানেও বেরিয়ে এসেছে থলের বেড়াল। চোর সিন্ডিকেটের সদস্যসহ তাদের সর্দারকে গ্রেফতারের পর বিস্ময়ে হতবাক অনেকেই। গ্রেফতারকৃত এই সর্দারের নাম ডা: ফাহমি ইকবাল রাব্বী। গাড়িচোর চক্র ডা: রাব্বীকে তাদের সর্দার, মডেল হিসাবে এতদিন ব্যবহার করে আসছিল। ডাক্তারি পেশার সম্মান ও মর্যাদাই ছিল ডা: রাব্বীর পুঁজি। ছদ্মবেশী ডা: রাব্বি সিলেটের নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক। নগরীর নয়াসড়ক এলাকার বিহঙ্গ-২২/এ বাসার আব্দুল মুছাব্বিরের ছেলে। তাকে জিঞ্জাসাবাদের পর র‌্যাব দুটি গাড়ি কাজীটুলা ও মীরের ময়দান থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব। চোরাই গাড়ি ও ডা: রাব্বীসহ চারজনকে সোমবার রাতে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানায় সোপর্দ করে র‌্যাব ৯। র‌্যাব-৯ এর এএসপি (মিডিয়া) মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, উদ্ধারকৃত ৩টি প্রাইভেটকার ও গ্রেফতারকৃত ৪ জনের বিরুদ্ধে গাড়ি চুরির মামলা দায়ের হয়েছে। র‌্যাব জানায়, ডাঃ রাব্বীর নেতৃত্বাধীন গাড়ি চোর চক্র চোরাই গাড়ি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেকেই। এরমধ্যে ডাক্তার রানার ২৩ লাখ টাকা, ডাঃ ফজলুল হকের ১৫ লাখ টাকা, ডাঃ হেলালের ৫ লাখ টাকা, ডাঃ মজিদের ১০ লাখ টাকা, ডাঃ শফির ২৫ লাখ টাকা, আব্দুস সামাদের ৩১ লাখ টাকা, নজরুল ইসলামের ২০ লাখ টাকা, নকিবের ১৭ লাখ টাকা, ও মাহতাবের ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। ডা: রাব্বীর নেতৃত্বাধীন গাড়ি চোর সিন্ডিকেটের অপর তিন সদস্য হচ্ছে দক্ষিণ সুরমার আব্দুল মুতালিবের ছেলে রুমেল আহমেদ, আম্বরখানা বড়বাজারের মো. ইলিয়াছুর রহমানের ছেলে ইমাদুর রহমান রাফি ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার দড়া গ্রামের মোজাহিদ আলীর ছেলে মোঃ শাহআলম মুন্না। ডা: রাব্বী নিজে ডাক্তার হওয়ায় সহজেই ডাক্তারদের বিশ্বাস ও আস্থা অর্ঝন করে এই সিন্ডিকেট। শুধু তাই নয়, গাড়ি দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ১৫/২০ জন নামী-দামী ব্যক্তির। অনেককে আবার প্রত্যাশিত ব্র্যান্ডের গাড়ী না দিয়ে অন্য গাড়ি দিয়ে প্রতারণা করেছেন। এমন প্রতারণার অভিযোগে ডাঃ ফজলুল হক ও আব্দুস সামাদ ইতিপূর্বে মামলা করেছেন। র‌্যাব জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রামের চোরাই গাড়ি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করা হয়। শুভ ও রুমেল এসব গাড়ির চালার নিয়ে আসত। এসব গাড়ি ডাক্তার রাব্বীর উপশহরস্থ শো রুমেও রাখা হত। এসব কারণে ডা: রাব্বীর শোরুম থেকে ক্রয় করা গাড়ি একবছর পর ফেরত দেন উপশহরের শিক্ষক সালেহ আহমদ। র‌্যাব ওই গাড়িটি গত সোমবার সকালে মুন্না নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। র‌্যাবের দাবি, মুন্না, রাফি, নওশাদ ও মনসুর কার চোরাই দলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এরা চোরাইকৃত গাড়ী বিভিন্ন পন্থায় কাগজপত্র তৈরী করে কাষ্টমারদের কাছে বিক্রয় করত।