সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
এই মুহুর্তের খবর
ফলিক খানের অর্থায়নে প্রধানমন্ত্রীর মিটানো নাম নতুন করে অঙ্কন  » «   গোলাপগঞ্জে যুবদলের ৩৯তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী পালন  » «   বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে সিলেট সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের শোক  » «   জগন্নাথপুরে টাকা দেয়া হলেও চাল দেয়া হয়নি  » «   জগন্নাথপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ব্যবসায়ী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে  » «   ২৬ নং ওয়ার্ড তালামীযের অভিষেক ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন  » «   সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই নায়িকার মেকআপ রুমের ছবি ফাঁস!  » «   কমলগঞ্জে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালিত  » «   জগন্নাথপুরে নুর আলীর খুনিদের ফাসির দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসী  » «   জগন্নাথপুরে সাংবাদিক কলির দাদীর মৃত্যুতে প্রেসক্লাবের শোক প্রকাশ  » «  

সিলেটের দ্বিতীয় বিমান বন্দরে উড়বে বিমান



bemanশরীফ আহমেদ, মৌলভীবাজার থেকে:  দীর্ঘদিন লাল ফিতায় বন্দি থাকার পর ফের চালু হচ্ছে সিলেট বিভাগের দ্বিতীয় ‘শমসেরনগর বিমান বন্দর’। তাই সিলেটের পর এবার মৌলভীবাজারের আকাশে বিমান উড়তে দেখা যাবে। বিমানবন্দরটি একসময় চালু ছিল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

তবে বিমানবন্দরটি চালু হলে সিলেটের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। মৌলভীবাজারবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপেক্ষিতে বিমান বন্দরটি পুনরায় চালুর জন্য এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী উদ্যোগ নেয়া হবে। শমসেরনগর বিমান বন্দরটি ফের চালু হচ্ছে এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সিলেট তথা মৌলভীবাজারের বাসিন্দাদের মধ্যে চলছে আনন্দ আর উল্লাস চলছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়,১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় অভিযান চালানোর জন্য বিটিশ সরকার সিলেট বিভাগের অন্যতম জেলা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর চা বাগানের ৬২২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে একটি বিমানবন্দর গড়ে তোলে। বিটিশ আমলে ওই বিমানবন্দরটি ‘দিলজান্দ বন্দর’ নামেই পরিচিত ছিল। বিমানবন্দরটিতে ৬ হাজার ফুট দীর্ঘ ও ৭৫ ফুট প্রশস্ত রানওয়ে রয়েছে।

_airport-pic১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর বিমানবন্দরটির নতুন নামকরণ করা হয় ‘শমসেরনগর বিমানবন্দর’। প্রশস্ত রানওয়ে, বিশাল পরিসর, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা ও সব ধরনের অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় এ বিমানবন্দরে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় পর্যন্ত বিমান ওঠানামা করতো। পরবর্তীতে হঠাৎ করে বিমানবন্দরটিতে যাত্রীবাহী বিমান ওঠানামা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯৭০ সালে পিআইএ’র অভ্যন্তরীণ একটি ফাইট সিলেট বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শমশেরনগর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণকালে রানওয়ের কাছে দুর্ঘটনায় পতিত হয়। সে সময় বিমানবন্দরের ভেতরে অগ্নিনির্বাপণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এর বেশকিছু অবকাঠামো পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
আরও জানা যায়,দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক ও ১২টি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে চলমান রয়েছে মাত্র পাঁচটি। বাকিগুলো রয়েছে বন্ধ। জরুরি অবতরণের জন্য থাকা দেশের তিনটি বিমানবন্দরের মধ্যে কেবলমাত্র চালু রয়েছে তেজগাঁও বিমানবন্দর। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর ও বগুড়া বিমানবন্দরটি। ১৯৭৫ সালে শমসেরনগর বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ ইউনিট খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে এখানে বিমান বাহিনীর একটি পরীণ স্কুল স্থাপন করে চালু করা হয় বার্ষিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তখন থেকেই প্রয়োজন অনুযায়ী বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টার ওঠানামা করেছে। বিশাল পরিসর, প্রশস্ত রানওয়ে, উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ৪৮ বছরেও চালু হয়নি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমান বন্দরটি।স্বাধীনতাত্তোরকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রমতায় আসার আগে এ বিমান বন্দর চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসলেও মতায় গিয়ে কেউই কথা রাখেনি। স্থানীয়রা জানান,বিমান বন্দরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে বিমানবন্দরের অবহেলিত ও পতিত ভূমি ব্যবহার করে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল কৃষি খামার।এখানে বিমানবাহিনীর রিক্রুটমেন্ট অফিসও খোলা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে রানওয়ের অল্প কিছু অংশ। ২০১২ সালে বিএএফ শাহীন কলেজের কার্যক্রম শুরু করা হয়।বিমানবন্দরটিতে প্রতিবছর বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জাতীয় ক্যাডেট কোর বিমান শাখার সদস্যদের অগ্নিনির্বাপণ, প্রাথমিক চিকিৎসা, রাডার নিরাপত্তা, ফায়ারিংসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
মৌলভীবাজারের প্রবাসী কবির আহমদ,রহমত আলীর,মখলিছ আহমদ সাথে আলাপকালে জানান, প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলার বেশিরভাগ সংখ্যক ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, অস্টেলিয়া,কানাডা ও জার্মান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। এবং প্রতিদিন এ জেলার শতশত যাত্রী পরিবার পরিজন নিয়ে রাজধানী ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর হয়ে দেশ-বিদেশে যাতায়াত করে থাকেন। সর্বোপরি শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু হলে সিলেট তথা মৌলভীবাজার জেলার প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।যাত্রীসেবার পাশাপাশি ভৌগোলিক কারণে এই বিমানবন্দরের সামরিক গুরুত্বও রয়েছে। বিমান বন্দরটি চালু হলে এটিকে কেন্দ্র আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে ও এ এলাকার যাত্রীদের যাতায়াত সুবিধা বাড়বে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।এ ব্যাপারে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রীর পাবলিক রিলেশন অফিসার (পিআরও) মাহবুবুর রহমান জানান, সরকার ইতোমধ্যে শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেন। চালু হওয়ার পর এ বিমান বন্দরের ফাইটের সিডিউল ও অন্যান্ন কার্যক্রমের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

বিমান বন্দরটি চালুর ব্যাপারে মৌলভীবাজার ২ (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, বন্ধ থাকা পুরাতন বিমান বন্দরটি চালুর ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে বলা হয়েছে এ বিমান বন্দরটি চালু হলে সিলেট তথা মৌলভীবাজারের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি ও প্রবাসীরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে। এবং জরুরি অবতরণের জন্য থাকা দেশের তিনটি বিমানবন্দরের মধ্যে কেবলমাত্র চালু রয়েছে তেজগাঁও বিমানবন্দর। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা বিমান বন্দরটি রাষ্ট্রীয় ও জনগণের স্বার্থে এ বিমান বন্দরটি চালু হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, খুব শীঘ্রই গঠিত ট্যাকনিক্যাল কমিটি সরেজমিন শমশেরনগর বিমান বন্দর পরিদর্শণ করে মতামত দেওয়ার পর যাত্রী পরিবহন বিমান নির্বিঘেœ উঠা নামা করার লক্ষে এক বছরের মধ্যেই রানওয়ের উন্নয়ন কাজ করা হবে। তার পর শমশেরনগর বিমান বন্দরে আভ্যন্তরিন ফাইট সার্ভিস চালু হবে। এ বিমান বন্দর ব্যবহার করে এসব অঞ্চলের প্রবাসীরা ছাড়াও দেশী বিদেশী পর্যটকরা যাতায়াত করবেন।
উল্লেখ্য,১৯৯৫ সালে শমসেরনগর বিমানবন্দর থেকে এ্যারোবেঙ্গল এয়ার সার্ভিসের ফাইট চালু করা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে এ ফাইট সার্ভিসটি যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। পরে এ প্রক্রিয়াও একসময় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিমান বাহিনীর নিজস্ব পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার উঠা নামা করছে । বিমানবাহিনীর নিজস্ব পরিবহন বিমান উঠা নামা করার জন্য বিমান বাহিনী রানওয়ের সম্পন্ন করেছে।