মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আহমেদ নূরের গ্রন্থটি কালের দলিল হয়ে থাকবে



02সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক সিলেটের জৈষ্ট্য সাংবাদিক আহমেদ নূর-এর রচিত ‘ওয়ান-ইলেভেন : কারারুদ্ধ দিনগুলো’ গ্রন্থের প্রশংসা করে বলেছেন, বইটি অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমি যদি সেই ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তি সময়ের কোন তথ্য খুঁজতে চাই তাহলে আর পত্রিকা ঘাটাঘাটির প্রয়োজন হবে না। আহমেদ নূরের বইটি খুঁজলে সে তথ্য পেয়ে যাবো। বইটি কালের দলিল হয়ে থাকবে।

পহেলা মে শুক্রবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসবে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। অনুষ্টানে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকাশনা উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের আহ্বায়ক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক (এমিরিটাস) মো. আব্দুল আজিজ। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বিশিষ্ট কবি কাজী রোজী এমপি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী বুলবুল মহলানবীশ, জাতীয় কবিতা পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বিশিষ্ট কবি আসলাম সানী, গীতিকবি পরিষদের সভাপতি এমআর মনজুর।

30সৈযদ শামসুল হক বলেন, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তি সময়ে একজন সামরিক কর্মকর্তা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। তার জন্য যতটুকু করার দরকার ছিল তারা তা করেছে। এর মধ্যে একটা ক্জা হলো রাজনীতিবিদদের আটক করা। তারা তা-ই করেছে। এছাড়া তারা কিছু উদাহরণমূলক গ্রেপ্তার করেছিল। সাংবাদিক আহমেদ নূর এই উদাহরণমূলক গ্রেপ্তারে পড়েছিলেন। তারা চেয়েছিল সৎ নির্ভিক নীতিবান একজন সাংবাদিককে ধরে এনে তাকে এমনভাবে নির্যাতন করা যাতে অন্য দশটা ভীত হয়ে যায়, চুপ হয়ে যায়। নূরকে ধরা হয়েছিল। তার ওপর অনানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল। তাকে শারীরিকভাবে, মানসিকভাবে, আর্থিকভাবে, সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নূর সত্যবাদী ও সাহসী। তিনি তার উপর অন্যায় নির্যাতন হওয়া সত্ত্বেও ভেঙে পড়েননি। তার ‘ওয়ান-ইলেভেন : কারারুদ্ধ দিনগুলো’ বইটি তার আত্মস্মৃতি, বইটি আমাদের ছুঁয়ে গেছে। এ বইটি পাঠককে টানতে বাধ্য করবে।

গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক সিলেট মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামাল আহমদ চৌধুরী, সিলেট এমসি কলেজের অধ্যাপক শামীমা চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রকাশনা উৎসব উদ্যাপন পর্ষদের সদস্য-সচিব নিজামউদ্দিন লস্কর। লেখক অনুভূতি প্রকাশ করেন সাংবাদিক আহমেদ নূর।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আনোয়ার  হোসেন বলেন, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তি সামরিক সরকার আমাকেও কারারুদ্ধ করেছিল। তাই নূরের বেদনা আমি অতি সহজেই বুঝতে পারি। তিনি একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধিৎসু চোখ দিয়ে কারাগারের অভ্যন্তর ও ওয়ান ইলেভেন সময়কে দেখেছেন এবং নির্মোহচিত্তে স্মৃতিকথা লিখে সময়টাকে ধরে রেখেছেন। তার বইটি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সেই অন্ধকার কালো সময়ের দিনলিপি হিসেবে বেঁচে থাকবে।