মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দুর্বার পাকিস্তান, দুরন্ত শেহজাদ



CRICKET-UAE-PAK-NZLমরুর বুকে দুর্বার গতিতেই ছুটে চলেছে পাকিস্তান। সেটা এমনি যে, মনে হচ্ছে কেউ তাদের রুখতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা প্রতিপক্ষকে যদি কোন দল ধবলধোলাই করে ছেড়ে দেয়, তাহলে সে দলের পারফরম্যান্সের গ্রাফ ওপরের দিকে উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। পাকিস্তানের বেলায়ও তাই ঘটছে।

যে দলের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে বাজি ধরার সাহস কেউ কখনও করে না, সেই দলের ব্যাটিংকেই মনে হচ্ছে পৃথিবীর সেরা ব্যাটিং লাইন আপ। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর গোটা দলের মানসিক শক্তি এতটাই বেড়েছে যে, সেটা ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের দলের চেয়ে ভাল আর কেউ বুঝতে পারবে না।

অস্ট্রেলিয়ার পর আরব আমিরাতে এবার পাকিস্তানের কাছে নাকানি-চুবানি খেতে বসেছে আরেক ওসেনিয়ান দেশ নিউজিল্যান্ড। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের সারাদিনে একটি মাত্র উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। যদিও তাদের রান তোলার গড় ছিল অপেক্ষাকৃত কম, মাত্র ২.৯৮। তবুও দিনশেষে ৯০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়াল ১ উইকেটে ২৬৯ রানে।

সাফল্যের প্রত্যাশায় বল করতে দেখা গেছে ব্রেন্ডন ম্যাককুলামকেও দুর্বার পাকিস্তান, দুরন্ত শেহজাদ

রান রেটের এটুকু অতৃপ্তি ছাড়া কিউইদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিন বলতে গেলে পাকিস্তান নিজেদেরই করে নিয়েছে। কে জানে ইউনিস খানকে দেখে বোধহয় গোটা দলই আত্মবিশ্বাসে এখন টগবগ করে ফুটছে। তরুণ আহমেদ শেহজাদ সারাদিন ব্যাট করে খেললেন ২৯০ বল। ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে তিনি অপরাজিত আছেন ১২৬ রানে। ২২১ বলে সেঞ্চুরি করা শেহজাদ সর্বমোট বাউন্ডারী মেরেছেন ১৪টি।

কম যাননি আরেক ওপেনার মোহাম্মদ হাফিজও। দলীয় ১৭৮ রানে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে হাফিজ খেলে দিয়ে যান ৯৬ রানের ইনিংস। বিগত ১৪ বছরে ওপেনিং জুটিতে এটাই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান। আফসোস হাফিজের জন্য। ৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হলেন তিনি।

নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হওয়া হাফিজ ৯৬ রান তুলতে খেলেছেন ১৩৭ বল। বাউন্ডারি মেরেছেন ১০টি। আরেক ইনফর্ম ব্যাটসম্যান আজহার আলি অপরাজিত আছেন ৪৬ রানে। নিউজিল্যান্ডের একমাত্র সফল বোলারের  নাম কোরি  অ্যান্ডারসন। তিনি ৩১ রানের বিনিময়ে পেয়েছেন হাফিজের উইকেটটি। যাকে সচরাচর হাত ঘোরাতে দেখা যায় না, এদিন সাফল্যর আশায় সেই ম্যাককুলামও বল নিয়ে হাত ঘুরিয়েছেন ৫ ওভার।

যারা এখনও পাকিস্তান ড্রেসিংরুমে বসে আছেন নিশ্চয় তাদের নাম শুনলে কাঁপনই ধরবে কিউইদের বুকে। ইউনিস খান-যিনি টানা তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি করার বিরল কীর্তি দেখিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেই। এর মধ্যে আবার একটি ডাবল সেঞ্চুরিও আছে।

আর মিসবাহ-উল-হক তো ৫৬ বলে  সেঞ্চুরি করে ভিভ  রিচার্ডসকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কাজেই এই পাকিস্তানের সঙ্গে লড়তে অন্য ছকই বের করতে হবে নিউজিল্যান্ডকে! তা না হলে প্রতিবেশী অস্ট্রেলিয়ার মতো যে একই ভাগ্য  বরণ করতে হতে পারে!