সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

২৮৯

সিসিকের গাড়িসহ ২০০ কোটি টাকার সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে

এমদাদুল হক মান্না::

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ২২ ১০ ৫৩  

নিজস্ব পার্কিং জোন না থাকায় বিভিন্ন ধরণের যানবাহনসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খোলা আকাশের নিচে থাকায় নষ্ট হচ্ছে সিসিকের রাড বুলার, এক্সেভেটর, ভ্যাকুয়াম ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদি। সিসিকের পার্কিং জোন না থাকায় যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়েছে এসব সরঞ্জামাদি। ফলে বৃষ্টিতে ভিজে আর রোদে শুকাচ্ছে এসব মেশিনারিজ জিনিস। জং ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দামি যাসবাহন ও যন্ত্রাংশ। এমনকি নগরীর অন্যতম পর্যটন স্পট খ্যাত কিন ব্রিজের নিচেও অযত্নে রাখা হয়েছে ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরণের গাড়ি। ফলে একদিকে যেমন সরঞ্জামাদি নষ্ট হচ্ছে। আর এভাবে যত্রতত্র যানবাহনগুলো ফেলে রায় সিলেট সুরাম নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকসহ জনসাধারণের চলাচলে ব্যঘাত ঘটছে।
তবে ক্ষতি মেনে নিয়েই সিসিক বলেছে, নির্ধারিত পার্কিং জোন তৈরি করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে জায়গার জন্য আবেদন করা হয়েছে। জায়গা পেলে নির্ধারিত স্থানেই রাখা হবে এসব গাড়ি ও সরঞ্জামাদি। 
জানা গেছে, নাগরিক সেবা নিশ্চিতের জন্য হাইড্রোলিকসহ অত্যাধুনিক ৭১ টি ট্রাক, ৫টি পানির ট্রাঙ্ক, ১২টি রাড বুলার, ৭টি ওয়াচার ভাউচার, ৬টি ভিম লিকটার, ৫টি এক্সেভেটর, ১টি ভ্যাকুয়াম ট্যাঙ্ক, ও একটি অত্যাধুনিক জিক্স র‌্যাকারসহ প্রায় ২০০ কোটি টাকার সরঞ্জামাদি রাখা হয়েছে নগরের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে। সিসিকের নির্ধারিত গ্যারেজ না থাকায় বন্দরবাজার খালি যায়গায় এবং কিন ব্রিজ এলাকার রাস্তার উপর অনেকটা অপরিকল্পিত ভাবে রাখা হচ্ছে গাড়ীসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ। খোলা জায়গায় রাখার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব অত্যাধুনিক যানবাহন ও মেশানিরজ জিনিসপত্র। এমনকি অনেক যন্ত্রাংশে জং ধরে বিকল হয়ে পড়েছে। এছাড়া কিন ব্রিজ এলাকায় রাখার ফলে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যহত হচ্ছে। ঘুরতে আসা পর্যটকরাও ভালভাবে কিন ব্রিজ ও সুরমা তীরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন না। ফলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 
বিশিষ্টজনরা বলছেন, শুধুমাত্র পারকিং জোন নয়; শতকোটি টাকার মুল্যবান জিনিসের জন্য দক্ষ জনবল নিয়োগ করতে হবে। তা রক্ষনাবেক্ষনের জন্য সবসময় তদারকিও করা উচিত। 
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোহসিন আজিজ খান জানান, যন্ত্রপাতি এবং এইসব গাড়ি যেবাবে ব্যবহার করা উচিত সেভাবে করা প্রয়োজন এবং এই সব যন্ত্রের রক্ষনাবেক্ষনের জন্য নিয়মিত চেক আপ করা দরকার। তা না হলে এতে সমস্যা দেখা দিবে শুধু তাই নয়; এতে করে এইসব যন্ত্রপাতি খুব অল্প সময়ে নস্ট হয়ে যাবে। 
এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান প্রকোশলী নুর আজিজুর রহমান জানান,  নগরের মালনীছড়ার পাশে আমরা এইসব গাড়ি রাখার জন্য সরকারিভাবে গ্যারেজ নির্মানের জন্য আমরা ইতিমধ্য একটি কোম্পানীকে দায়িত্ব দিয়েছি। তারা এর মধ্য সয়েল টেস্ট করে আমাদের তার রিপোট দিলে আমরা কাজ আরো দ্রুততম ভাবে শেষ করে গাড়ী সেখানে স্থানান্তর করব। 
সিটি মেয়র আরিফুল হক চোধুরী জানান, কেবল জায়গার অভাবেই তৈরি করা যাচ্ছে না কোনো শেড বা পারকিং জোন। তিনি বলেন, পার্কিং জোন তৈরির জন্য আমরা ইতিমধ্য জেলা প্রশাসকের কাছে জায়গার জন্য আবেদন করেছি। জায়গাটা পেয়ে গেলে আমরা আনুষাঙ্গিক টেন্ডার এর প্রস্তুত করা হবে বলে জানান তিনি।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর