শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

১৪৮

সিলেট মহানগর বিএনপির আলোচনা সভায় বক্তারা

বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়  মূল ভুমিকা পালন করে আসছে

প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৯ ০৭ ২৮  

বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৫ সালের দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে জাতির চরম ক্রান্তিলগ্নে দেশ পরিচালনার নেতৃত্বে আসেন শহীদ জিয়া। তিনিই প্রথম বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি যতবার দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছে ততবার দেশে গণতন্ত্র শুধু সুপ্রতিষ্ঠিত হয় নাই বিকশিতও হয়েছে। আওয়ামীলীগ যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে ততবারই হয় তারা বাকশাল কায়েম করেছে নয়তো স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। বর্তমানেও তাদের গণতন্ত্র হত্যার জঘন্য ইতিহাসের স্বাক্ষী দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ। ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর বিএনপি ঘোষিত শান্তিপূর্ণ র‌্যালীটি পর্যন্ত আওয়ামীলীগ করতে দেয়নি। বাকশালীদের এমন মনোভাব প্রমাণ করে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেনা। আদর্শিক মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসা তিন বারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলায় ফরমায়েসী সাজা দিয়ে কারাগারে আটকে রেখে। ভয়ানক সন্ত্রাসী, দাগী-খুনী এমনকি ফাসীর আসামীরা জামিনে মুক্তি পেলেও একটা ঠুনকো মামলায় কারাগারে থাকা মহান স্বাধীনতা ঘোষকের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছেনা। দেশনায়ক তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক মামলায় ফরমায়েসী রায়ে সাজা দেয়া হয়েছে, একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন ইনশাআল্লাহ। দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ অডিটরিয়াম থেকে শহীদ জিয়ার নাম মুছে ফেলার নোংরা রাজনীতি আওয়ামী অপরাজনীতির অংশ। এ থেকে সরকারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
রবিবার ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের শহীদ সুলেমান হলে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইনের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এডভোকেট শামীম সিদ্দিকী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মহানগর বিএনপি, ২৭টি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিএনপি অঙ্গ  ও সহযোগি সংগঠনের সকল পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 
সভায় সম্মানীত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা আলহাজ¦ এম.এ হক, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা ড. মোঃ এনামুল হক চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্ঠা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-ক্ষুদ্র ঋণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট হাবিবুর রহমান, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির শাহীন, সহ-সভাপতি কাউন্সিলার ফরহাদ চৌধুরী শামীম, সহ-সভাপতি কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সহ-সভাপতি অধ্যাপিকা সামিয়া বেগম চৌধুরী, সহ-সভাপতি আমির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, আব্দুল আজিজ ও হুমায়ুন আহমদ মাসুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী, মহানগর মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা ইয়াসমিন, মহানগর জাসাস সভাপতি মুসা রেজা মুসা, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল হাসান জুয়েল, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নাদিম, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী আহসান প্রমুখ। মহানগর বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক ডাঃ আশরাফ আলীর পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সুচীত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ডা: নাজমুল ইসলাম, সৈয়দ মিসবাহ উদ্দিন, সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, উপদেষ্ঠা সৈয়দ বাবুল, সাইদুর রহমান বুদুরী, সরফরাজ আহমদ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন বাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল আহমদ মোর্শেদ, দফতর সম্পাদক সৈয়দ রেজাউল করিম আলো, প্রচার সম্পাদক শামীম মজুমদার, প্রকাশনা সম্পাদক জাকির মজুমদার, আইন সম্পাদক সিসিক প্যানেল মেয়র এডভোকেট রুখসানা বেগম শাহনাজ, যুব বিষয়ক সম্পাদক মির্জা বেলায়েত হোসেন লিটন, ছাত্র সম্পাদক নুরুল আলম সিদ্দিকী খালেদ, শ্রম সম্পাদক ইউনুস মিয়া, পরিবার কল্যান সম্পাদক লল্লিক আহমদ চৌধুরী, তথ্য গবেষনা সম্পাদক সুহাদ রব চৌধুরী, স্বনির্ভর সম্পাদক নিগার সুলতানা ডেইজী, পরিবেশ সম্পাদক আবুল কালাম, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাকিম, সমবায় সম্পাক মামুনুর রহমান মামুন, আপ্যায়ন সম্পাদক আফজাল উদ্দিন, কৃষি সম্পাদক আব্দুল মান্নান পুতুল, কর্মসংস্থান সম্পাদক নুরুল আলম বানিজ্য সম্পাদক আব্দুস সাত্তার মামুন, বিএনপি নেতা খসরুজ্জামান খসরু, লোকমান আহমদ, সোহেল মাহমুদ, সোহেল বাসিত, সেলিম মাহমুদ, মঈন উদ্দিন, আব্দুর রহিম মল্লিক, নজির হোসেন, মোতাহির আলী মাখন, শফিকুর রহমান টুটুল, মখলিছ খান, ছাব্বির আহমদ, উজ্জল রঞ্জন চন্দ, শাহনেওয়াজ বখত তারেক, শেখ কবির আহমদ, সোহেল আহমদ, আব্দুল মন্নান, শাহেদ আহমদ চমন, দিলোয়ার হোসেন রানা, রিহাদুল হাসান রুহেল, কয়েস আহমদ সাগর, ডাঃ শাকিলুর রহমান, মোঃ কামরুল ইসলাম, মন্তাজ হোসেন মুন্না, আব্দুস সোবহান, আজিজুর রহমান, হোসেন আহমদ রুহুল, দেওয়ান রেজওয়ান, মঞ্জুর হোসেন মজনু, মারুফ আহমদ টিপু, রফিকুল বারী নোমান, জাকির আহমদ, মঈন আহমদ, জাকির হোসেন কয়েস প্রমূখ।
আলহাজ¦ এম. এ হক বলেন, বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক দল। আর বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। শহীদ জিয়ার বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে আজকের আওয়ামীলীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু আওয়ামীলীগ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়না। তারা ক্ষমতায় গেলে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। অবিলম্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবী জানান তিনি।
ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী বলেন, বিএনপি মানুষের প্রিয় দল এবং বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় নেত্রী। তাই সরকার তাঁকে কারাগারে আটকে রেখেছে। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত এবং মিয়ানমার তাদের সৃষ্ট সংকটকে বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু সরকার এব্যাপারে কার্যকর ভুমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিএনপি হচ্ছে গণমানুষের আস্থা ও বিশ^াসের জায়গা। তাই সীমাহিন জুলুম নিপীড়ন উপেক্ষা করে মানুষ আজো বিএনপির ছায়াতলে আসতে চায়, থাকতে চায়। আর সরকার বিএনপির এই জনসম্পৃক্ততাকে ভয় পায় বলেই র‌্যালীর মতো একটা শান্তিপূর্ণ কর্মসুচীতে পুলিশ দিয়ে বাধা দেয়। এতেই প্রমাণিত হয় গণতন্ত্র ও আওয়ামীলীগের দুরত্ব কত। সরকার বিএনপিকে আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ভয় পায়। তাই তারা রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে বিএনপিকে দমাতে চায়। সরকারের প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে গণতন্ত্রের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ কারাগাওে, দেশনায়ক তারেক রহমান আজ নির্বাসনে। এমন সময় থাকবেনা। বিএনপি শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত গণতন্ত্র পনুরুদ্ধার করবেই।
সভাপতির বক্তব্যে নাসিম হোসাইন বলেন, বাংলাদেশের গণমানুষের একমাত্র জনপ্রিয় দল বিএনপি ৪১ বছরে পদার্পণ করেছে। এমন দিনে আমাদের র‌্যালীতে বাধা দেয়া প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র নেই। অতীতে বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে, ক্ষমতাসীন সরকারও নানা ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাত করে শহীদ জিয়ার সৈনিকেরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে এদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। 
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর