শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

৫৭৮

সিলেটে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসব, জনদূর্ভোগ চরমে

এ টি এম তুরাব::

প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০১৯ ২১ ০৯ ৫৫  

নগরের ধারাবাহিকতা ছাড়া রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ। বিপুল জনসংখ্যার পদভারে মুখর মহানগরী সিলেটে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এ অপরিকল্পিত নগর উন্নয়ন। রাস্তা প্রশস্তকরন ও নতুন ড্রেন সংস্কারের নামে চলতি বছরের প্রথম থেকে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসব। আর এর প্রভাব পড়েছে ব্যবসা বানিজ্যে। নগরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোতে উন্নয়নের নামে খোঁড়াখুড়ি হরদমে চলছে। পুরনো ড্রেন ভেঙে নতুন করে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগ কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। রাস্তার ওপর রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এই স্তূপের দৃশ্য চোখে পড়বে নগরের প্রায় সবকটি রাস্তায়। কোথাও আবার ক্রস ড্রেনেজ সিস্টেমের জন্য দীর্ঘ দিন রাস্তা বন্ধ করে কাজ চলছে। আবার কোথাও আংশিক রাস্তার বন্ধ করে চালানো হচ্ছে বক্স কালভার্ট নির্মাণকাজ।  
সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী কোনো সড়ক খননের প্রয়োজন হলে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই খোঁড়াখুঁড়ি শেষ করাও এ নীতিমালার অংশ। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না সিটি কর্পোরেশনের কর্তাব্যক্তিদের।
ধারাবাহিকতা ছাড়াই অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বারবার সংবাদ প্রকাশ পেলেও মেয়র কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃৃপক্ষ ‘পিঠে বেঁধেছি কুলো আর কানে দিয়েছি তুলো’ এ নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো সমালোচনাই তাদের নিবৃত্ত করতে পারছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম সড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলছে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। রাস্তা কাটার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি থাকলেও তা মানার যেন কেউ নেই। নগরী প্রাণ কেন্দ্র ব্যস্ততম কোর্ট পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় ক্রস ড্রেনেজ সিস্টেমের জন্য ‘বক্স কালভার্ট’ নির্মাণকাজ প্রায় দীর্ঘসময় ধরে চলছে। ফলে ব্যস্ততম বন্দর-জিন্দাবাজার রাস্তাটি দুভাগ করা হয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও এখন রাস্তাটি আংশিক বন্ধ করে ধীর গতিতে চলছে কাজ। প্রায় ৪ মাসেও বক্স কালভার্টের নির্মানকাজ শেষ হয়নি। এতে পাশে থাকা জিন্দাবাজার সরকারি কিন্ডার গার্টেন ও সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হচ্ছে। আর ব্যস্ততম রাস্তাটিতে কালভার্টটি নির্মাণে দীর্ঘ সময় ক্ষেপণ হওয়াতে মেয়রসহ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা সরকারের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। 
ধারাবাহিকতা ছাড়াই এখানে-ওখানে গর্ত করায় ভেঙে পড়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বর্ষাকে সামনে রেখে খোড়াখুড়িতে অচল ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বৃষ্টি হলেই সিলেট নগরী ডুবে যাবে এমনপি আশঙ্কা করছেন নগরের বাসিন্দারা। 
বৃষ্টির আগে কোনোভাবেই এসব কাজ গুছিয়ে আনা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন খোদ সিটি করপোরেশনের কয়েকজন প্রকৌশলী। পুরাতন ড্রেন ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণের নামে বিরাট বিরাট গর্ত করে মাটি ময়লা রাখা হচ্ছে রাস্তায়। এতে রাস্তার প্রশস্ততা কমে সরু হয়ে গেছে। ফলে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। আর উন্নয়ন কর্মকা-ের ব্যবহৃত ইট, বালু ও নির্মাণসামগ্রী রাস্তার উপর রাখা হচ্ছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির ধুলায় নগরীতে বায়ুদূষণের মাত্রাও শুধুই বাড়ছে।
নগরীর বারখলা, কায়েস্তরাইল, খোজারখলা, ভার্থখলা, শিবগঞ্জ, মিরাবাজার, জেলরোড়, জিন্দাবাজার, পূর্ব জিন্দাবাজার, পুরান লেন, বন্দরবাজার, সোবহানীঘাট, যতরপুর, ধোপাদিঘির উত্তর পার, আম্বরখানা, লেচুবাগান, শাহী ঈদগাহসহ প্রায় প্রতিটি রাস্তায় খোড়াখুড়ি চলছে। অপরিকল্পিত এ কাজে যানবাহনের যাত্রীসহ পথচারিরাও পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। 
এদিকে ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী সিলেটে বেড়াতে এসে রাস্তার সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগীবাহী এ্যম্বুলেন্সকেও। 
সিলেট সিটি করপোরেশনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নগরীর পুরাতন ড্রেন ভেঙে রাস্তা বড় করা হচ্ছে। এতে কিছুদিন সকলকে কষ্ট করতে হবে। কাজ শেষ হয়ে গেলে নগরীর জলাবদ্ধতা দূর হবে। রাস্তা প্রশস্ত হয়ে গেলে যানজটের দুর্ভোগ কমে যাবে। অপরিকল্পিত খোঁড়াখুড়ির প্রসঙ্গে জানতে মেয়র আরিফ কথা বলেননি।
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর