বুধবার   ২১ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৫ ১৪২৬   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৪৫৯

সিলেটে ঈদের সেলামী’র নতুন টাকায় টগবাজি

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০১৯ ১৭ ০৫ ০৯  

এ টি এম তুরাব:: ঈদ মানেই নতুন পোশাক। আর নতুন পোশাকের সঙ্গে ঈদের সেলামি না হলে যেন জমে না। পরিবারের ছোট সদস্যদের ঈদের দিন বড়রা সেলামি দেন। শিশুদের ঈদ আনন্দের ষোলোকলা পূর্ণ হয় সেলামিতে। তবে তা হওয়া চাই নতুন নোটে। তাদেরকে ঈদের আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয় কয়েকটি নতুন নোট। তাই ছোট-বড় সবার কাছেই ঈদে সালামি হিসেবে নতুন টাকা পছন্দ। শিশুরা নতুন টাকার নোট পেলে প্রফুল্ল থাকে। ঈদের সেলামি নিয়ে মুসলিম পরিবারগুলোতে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন মুহুর্ত। শিশুদের ঈদ সেলামি দিতে নতুন টাকা সংগ্রহে অনেকে ছুটছেন। আর এই সুযোগে কারবারিরা অতি মুনাফা করতে নতুন নোটের মধ্যে জাল নোট এবং নোট কম দিয়ে ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে। দিন দিন নতুন নোটের চাহিদাও বাড়ছে। 
সিলেট নগরীর তালতলাস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নোট সরবরাহে কঠোরতা গ্রহণ করলেও দালাল চক্র ভিন্নপথে টাকা উঠাচ্ছে এবং ব্যাংকের সামনেই খোলা বাজারে ফেরি করছে। ঈদ এলেই নতুন টাকা বদলে নিতে ব্যাংকগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করে জনসাধারণ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে সারিবদ্ধভাবে বসে নতুন নোট ‘কেনাবেচা’ করে থাকেন তারা। ছেঁড়া, অচল ও বড় নোট রেখে বাড়তি কিছু টাকার বিনিময়ে নতুন নোট সরবরাহ করে থাকেন নতুন টাকার এসব কারবারি। পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ঝামেলাসহ নানা হয়রানি এড়াতে অনেকেই নগরীর বন্দরবাজার, লালদিঘি পয়েন্ট, তালতলা, সুরমা পয়েন্ট, জিন্দাবাজার ফুটপাথে বসে থাকা নোট কারবারিদের কাছে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে নতুন নোট ক্রয় করেন। কিন্তু অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে কারবারিদের কাছ থেকে নতুন নোট ক্রয় করেও ঠকছেন ক্রেতারা। কারবারিরা অতি মুনাফা করতে নতুন নোটের মধ্যে জাল নোট এবং নোট কম দিয়ে ক্রেতাকে ঠকাচ্ছে।  
সূত্র আরো জানায়, এসব কারবারি ঠিকই ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মাধ্যমে বাগিয়ে নিচ্ছেন নতুন টাকা। 
গত দুই দিন নগরীতে ঘুরে দেখা গেছে, নতুন ৫ টাকার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ৫ টাকার একটি নতুন নোটের দাম পড়ছে সাড়ে ৬ টাকা। ৫ টাকার ১০০টি নোটের একটি বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা। ২ টাকার ১০০ নোটের বান্ডিল মিলছে ২৮০ টাকায়। ১০ টাকার ১০০টি নোটের বান্ডিল পড়ছে ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ৮০ টাকা। ৫০ ও ১০০ টাকার বান্ডিলে ১২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হচ্ছে। অভিযোগ আছে, এসব বাজারে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার জাল নোটের লেনদেন হয়। যদিও এভাবে টাকা লেনদেনের কোনো বৈধতা নেই, বরং আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। তবুও যুগ যুগ ধরে এক শ্রেণীর লোক নতুন টাকার নোট কেনাবেচা করছেন।
ভুক্তভোগী মাহমুদ রাসেল নামে এক নতুন নোট ক্রেতা জানান, তালতলা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশ থেকে থেকে ১০০, ২০ এবং ১০ টাকার কয়েকটি নতুন নোটের বান্ডিল যথাক্রমে অতিরিক্ত ৫০, ৭০ এবং ৮০ টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করি। ঝামেলা এড়াতে বেশি দামে নতুন নোট ক্রয় করলেও বাসায় গিয়ে টাকা গুনে দেখা যায় প্রতিটি বান্ডিলে ৪-৫টি নোট কম। তিনি বলেন, কারবারিদের এ ধরনের জালিয়াতি রোধে সবাইকে নতুন নোট ক্রয়ের সময় টাকা গুনে নেয়ার আহ্বান জানান। মাসুক আহমদ নামে এক গ্রাহক জানান, ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে বন্দরবাজার কারবারির কাছ থেকে ১০০ ও ৫০০ টাকার বান্ডিলে তিনি একাধিক জাল নোট পেয়েছেন। বাসায় নিয়ে টাকা গুনে জাল নোট পেয়ে তিনি কাউকে কিছু বলতেও পারেননি। কারণ, জাল নোটের বিষয়টি কারবারির কাছে এসে বললে নিজেকেই কিনা বিপাকে পড়তে হয়- এই ভয়ে তিনি আর অভিযোগ করেনি। 
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ে। সেখান থেকেই টাকা সংগ্রহ করে তারা বিক্রি করেন খুচরা ও পাইকারি হিসেবে। তারা জানান, সারা বছর কোনো রকমে ব্যবসা ধরে রাখি। ঈদ উপলক্ষে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে নতুন টাকার চাহিদা বেড়ে যায়। ঈদে মানুষ বাড়ি যাওয়ার সময় বড় নোটের বিনিময়ে নতুন খুচরা নোট নিতে আসে। এ সময় ব্যবসায় ভালো হয়। তবে তিনি জাল নোট এবং নোট কম দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারী ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দুই ঈদকে কেন্দ্র করেই নতুন নোট কারবারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। ক্রেতারাও ব্যস্ততার মধ্যে দ্রুত নতুন নোটের বান্ডিল নিয়ে চলে যায়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতি মুনাফার লোভে কারবারিরা বান্ডিলে জাল টাকা দিয়ে দেয় এবং নোটের সংখ্যা কম দেয়। তিনি বলেন, জাল নোটের তৎপরতা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তদারকি করছে। তবে নোট সংখ্যা যাতে কম দিতে না পারে, সেজন্য অবশ্যই ক্রেতাকে টাকা গুনে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর