বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

৩২৮৬

শাহী ঈদগাহে জায়গা দখলের অভিযোগ সত্য নয়

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০১৯ ২০ ০৮ ০১  

স্টাফ রিপোর্ট:: সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের বিরুদ্ধে ভূমি দখল চেষ্টার যে অভিযোগ করে গেছেন তা সত্য নয় বলে দাবি করেছেন নগরীর হাওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ আশরাফ আহমদ সুমন। গতকাল রোববার সিলেট প্রেসকাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।  
লিখিত বক্তব্যে সুমন বলেন, গত ২ জুন সংবাদ সম্মেলনে নগরীর শাহী ঈদগাহ এলাকার ফিরোজ খানের পুত্রবধূ জোহেলা বেগম রুমি অভিযোগ করেছেন আদালতে মামলা চলা অবস্থায় আমরা তার শ্বশুরের মালিকানাধীন ১৯টি দাগের ১২শ’ শতক ভূমি দখল করতে গিয়েছিলাম। এই বক্তব্য দিয়ে রুমি এবং ফিরোজ খানের উত্তরাধিকারীরা প্রকৃত সত্য গোপন করে চরম মিথ্যাচার করে গেছেন। 

আশরাফ আহমদ সুমন বলেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে আমি ২৫ শতক জায়গার মালিক। ২৫ শতক জায়গার মালিক সেই জায়গার এসএ রেকর্ডিয় মালিক বদর উদ্দিন আহমদ ও হোসনা বানুর কাছ থেকে ১৯৬১ সালে সাফকবালা দলিলে ক্রয়সূত্রে স্বত্ত মালিকানা লাভ করেন শাহী ঈদগাহের শোয়েবুন নবীর মা এশা বানু। ওই জায়গার খতিয়ান নং ২৬১৩। ওই দলিলের প্রথম স্বাক্ষী ছিলেন ফিরোজ খান নিজেই। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে এশা বানু ওই জায়গা তার ছেলে শোয়েবুন নবীকে হেবা দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। ২০১৮ সালের ১৭ মে শোয়েবুন নবী আমাকে ওই জায়গার অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মূলে ক্ষমতা প্রদান করেন। মায়ের কাছ থেকে জায়গার মালিকানা লাভের পর ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি খাজনা দিতে গিয়ে শোয়েবুন নবী দেখতে পান ফিরোজ খান জাল কাগজাদি দিয়ে ২৬১৩/১ নম্বর খতিয়ানে ওই জায়গা তার নামে নামজারি করে নিয়েছেন। ফিরোজ খানের নামজারি খারিজের জন্য ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ এসিল্যান্ডের কাছে আবেদন করেন শোয়েবুন নবী। তদন্ত ও উভয় পক্ষের শুনানী শেষে এসিল্যান্ড ফিরোজ খানের নামজারি বাতিলের আদেশ দেন এবং ২৬১৩/১ নম্বর খতিয়ান বাতিল করে জায়গা মুল খতিয়ানে (খতিয়ান নং-২৬১৩) নিয়ে যাওয়ার আদেশ প্রদান করেন। একই সাথে রেকর্ড সংশোধনেরও আদেশ দেন তিনি। পরবর্তীতে শোয়েবুন নবী তার জায়গা নিজের নামে নামজারি করান এবং পর্চা প্রাপ্ত হন। চলতি বছর পর্যন্ত তিনি খাজনাও পরিশোধ করেন। 

সুমন আরো বলেন, এসিল্যান্ডের রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে ফিরোজ খানের ছেলে মোক্তাদির খান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবরে রিভিউ আবেদন করেন। কিন্তু রিভিউতে সঠিক কাগজাদি উপস্থাপন করতে না পেরে তিনি নিজেই মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে মোক্তাদির খান কুটকৌশলের আশ্রয় নিয়ে তার ভাই-বোনদের ওই মামলায় পক্ষভূক্ত করার আবেদন করেন। কিন্তু তা খারিজ করে দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। এর বিরুদ্ধে তারা আপিল করেন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে।

ওই মামলাটিও গত ২৭ মে খারিজ হয়ে যায়। ২০০৪ সালে ফিরোজ খান সাব জজ ২য় আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা করেন। ওই মামলায় চতুর ফিরোজ খান শোয়েবুন নবীর মায়ের মালিকানাধীন জায়গার খতিয়ান নম্বার গোপন করে শুধু দাগ নম্বর উল্লেখ করে শোয়েবুন নবী ও তার মাতা এশা বানুকে পক্ষভূক্ত করেন। তবে ওই মামলার আরজিতেও তিনি ১০১৬৭ নম্বর দাগের জায়গার ভোগ দখলদার হিসেবে শোয়েবুন নবী ও তার মায়ের নাম উল্লেখ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে রুমি জায়গা নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করলেও আসলে নিজেদের মধ্যে সম্পত্তি বাটোয়ারার মামলা ছাড়া আর কোন মামলা নেই। 
সুমন বলেন, সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ খানের পুত্রবধূ রুমি বারবার কাউন্সিলর আজাদের নাম টেনে এনেছেন। অভিযোগের আঙুল তোলার চেষ্টা করেছেন তার দিকে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে- আমরা নয়, ফিরোজ খানের ছেলে মোক্তাদির খানই ২০১৮ সালের জুন মাসে কাউন্সিলর আজাদের কাছে গিয়ে বিচারপ্রার্থী হয়েছিলেন।

কাউন্সিলর আজাদের অনুরোধে আমরা তিন শতক জায়গা ফিরোজ খানের ছেলে মোক্তাদিরের কাছে বিক্রি করতে সম্মত হই। আমরা বিশ^াস করে চেকের বিনিময়ে মোক্তাদির খানকে জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেই। কিন্তু মোক্তাদির খান পরে চেকের টাকা পরিশোধ করেননি। আমরা চেক জালিয়াতির মামলারও প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

সুমন বলেন, আমাদের মালিকানাধীন জায়গার উপর নির্মিত ১২টি দোকানকোটার ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের লিখিত ভাড়া চুক্তিও রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে রুমি অভিযোগ করেছেন উভয় পক্ষকে ডাকার পরও আমরা থানায় যাইনি, এ অভিযোগও সত্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এম এ ওয়াহিদ, আলহাজ সোয়েবুন নবী, মাসুদ খান, সারওয়ার হোসেন এনাম, মোহাম্মদ আহাদ, আহমদুর রহমান চৌধুরী টিটু, সায়েম আহমদ, আবুল মিয়া, কিসমত খান, জাহাঙ্গীর আলম, পারভেজ আহমদ রুবেল ও সায়দুল আহমদ। 
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর