শনিবার   ২০ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৪ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪০

২৮৪

শনির দশা কাটছেনা সিলেট ছাত্রলীগের

জেলা কমিটি বিলুপ্তির ২ বছর,৫ বছরেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ কমিটি,নেতৃত্বশূন্য জেলা ও মহানগর, সুবিধা নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছেন সাবেক নেতারা

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০১৯ ২০ ০৮ ০০  

এমদাদুল হক মান্না:: দীর্ঘদিন থেকে নেতৃত্বহীন সিলেট ছাত্রলীগ। যেমন জেলা তেমন মহানগর। শনির দশা কাটছে না কোনোটিরই। জেলা-মহানগর দুটোতেই নেই কমিটি। যার ফলে বিশেষ দিবসে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিটে মিছিল সমাবেশ ছাড়া তেমন প্রাণচাঞ্চল্য নেই। একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পদধারীরাই ছাত্রলীগকে কলুষিত করেছেন। তাদের বেপরোয়া ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকা-ের কারণেই বিলুপ্ত হয়েছে জেলা ও মহানগরের কমিটি। তাদের এমন আচরণে ক্ষোব্দ খোদ ছাত্রলীগের কর্মীরাও। এমনকি সিলেট আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতদারাও। 
তাদের দাবি, সিলেট ছাত্রলীগের গায়ে কলঙ্কের পেছনে পদধারী নেতারাই দায়ি। একের পর এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়ে বারবার বিতর্কিত করা হচ্ছে ছাত্রলীগকে। এমনকি সুবিধা নিয়ে এখন অনেকটা গাঁ ঢাকা দিয়েছেন সাবেক কমিটির নেতারা। যা তারা কখনো প্রত্যাশা করেননি। 
জানা গেছে, হামলা ও হত্যাকা-ের কারণে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বিগত দুই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিপিবি-বাসদের বিভাগীয় সমাবেশে হামলার অভিযোগে হিরণ মাহমুদ নিপু ও ফরহাদ হোসেন খানের নেতৃত্বাধীন সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এর পরে শাহরিয়ার আলম সামাদ ও এম রায়হান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন জেলা কমিটিও ছাত্রলীগ কর্মী হত্যাকা-ের ঘটনায় ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর  বিলুপ্ত করা হয়। এর পর থেকে এখনো কমিটিবিহীন অবস্থায় রয়েছে ছাত্রলীগ। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেকটা ভাটা পড়েছে। 
অপরদিকে আবদুল বাসিত রুম্মানকে সভাপতি ও আবদুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক ২০১৫ সালের ২০ জুলাই চার সদস্যবিশিষ্ট সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ৩ বছর পরও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম গতি আনতে না পারায় ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর এই কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এর আগে অনিয়মের অভিযোগে ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলীম তুষারকে সংগঠণ থেকে বহিস্কার করা হয়। এর থেকে সিলেট মহানগর কমিটিও নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন গ্রুপে উপ-গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা। 
এদিকে দীর্ঘদিন পর জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণার সুর ওঠেছে। ফলে অগোঁছালো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছে। আবারো উচ্ছ্বাসিত হচ্ছেন কর্মীরা। পদ প্রত্যাশীরা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ। 
জানা গেছে, সম্প্রতি সিলেটে সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বিভিন্ন গ্রুপ উপ-গ্রুপের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তাদের সফর ঘিরে কিছুটা প্রান ফিরে পেয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। পদ প্রত্যাশী কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে ঘুরছেন সিলেটের ভোলাগঞ্জ, কো¤পানীগঞ্জ, রাতারগুলসহ  নানা পযটন ¯পটে। 
তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের এমন সফরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে। তাদের দাবি, এটা নেতাদের সাংগঠনিক সফর নয়। নাম প্রকাশে অনেকেই জানান, তারা যদি সাংগঠনিক সফরে আসলে অবশ্যই দলীয় প্যাডে সফরসূচি প্রকাশ করা হতো। সেখানে সভাপতির ও সাধারন স¤পাদকের স্বাক্ষরও থাকত। এটা ব্যাক্তিগত সফর হিসেবে নেতারা কখন আসেন আর কখন যান তার কোনো হদিস মিলেনা। 
তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতাদের সিলেটে গোপন সফরে বিলাস বহুল হোটেলে থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করছে গুটি কয়েক নেতা। তাতে দল কতটুকু সুফল পাবে তা অনিশ্চিত।
মদন মোহন ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল হক সানি শুভ প্রতিদিন কে জানান, ত্যাগী ও দক্ষ ছাত্রলীগকর্মীরা কমিটিতে স্থান পায় না। দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতি করে আসলেও বয়সের কারণে আটকা পড়েন। ফলে হাইব্রীড নেতারা কমিটিতে স্থান পায়। আর এরাই ছাত্রলীগের জন্য কলঙ্ক হয়ে দাড়ায়। তিনি বলেন, বয়স জটিলতা নিরসন করতে হলে একটি কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই নতুন কমিটি দ্রুত ঘোষণা করা উচিত। তাতে বয়স থাকতে অনেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে। 
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাহাত তরফদার বলেন, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় নির্বাচনে। ওই সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা একই প্লাটফর্মে না থাকায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সিসিক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজয় মেনে নিতে হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনেও অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। দ্রুত কমিটি ঘোষণা করে ছাত্রলীগের অতীতের মত ভাবমূর্তি রক্ষা করার আহবান জানান তিনি। 
মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম আহবায়ক ও মদন মহন কলেজের সাবেক সাধারণ স¤পাদক পিযূষ কান্তি দে জানান, সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় সিলেট ছাত্রলীগ যেনো প্রানহীন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে অনেক দিন সময় লাগবে। 
দলীয় কোন্দালে নেতাকর্মী খুন হওয়ার ব্যাপারে  তিনি শুভ প্রতিদিন কে জানান, জামায়ত শিবির এবং ছাত্রদল থেকে আসা নব্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দলীয় নিয়ম কানুন মানে না। এর জন্যই মুলত এই সব অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটছে। যারা ত্যাগী আর তৃণমুল থেকে আসা তারা কখনো সুনাম নষ্ট হয় এমন কর্মকা- করে না। 
তিনি বলেন, অতি দ্রুত কমিটি না দিলে ছাত্রলীগের এই শনির দশা কাটতে অনেক দিন সময় লাগবে। যত দ্রুত সম্ভব সৎ ও নিষ্ঠাবান এবং মুজিব আদর্শের সৈনিকদের নিয়ে কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহবান জানান তিনি। 
সিলেট ছাত্রলীগের নানা কর্মকান্ডে আওয়ামী লীগের নেতারা বিব্রত উলে¬খ করে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সিলেট ছাত্রলীগের কমিটি নেই। যার ফলে একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব উঠে আসছে না অন্যদিকে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় অনেক সময় আওয়ামী লীগ নেতারা বিব্রত হন। এছাড়া সরকারের ভাবমূতি বিনষ্ঠ হয় বলে মনে করেন তিনি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতারা বিচ্ছিন ভাবে আসা যাওআ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা যদি এক সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে আসা যাওয়া করতেন তাতে করে কিছুটা সুফল পেত ছাত্রলীগ। কিন্তু এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে আসা যাওয়ার জন্য অনেককেই বিব্রতকর পরিস্থিতির

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর