বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৭ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১৭২

যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক দু’দিনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঈদ শুভেচ্ছা

প্রকাশিত: ৬ জুন ২০১৯ ২০ ০৮ ৪৮  

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম:: যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উৎসব আমেজে উদযাপিত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচাইতে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধানা শেষে স্থানীয় সময় ৪ জুন মঙ্গলবার এবং ৫ জুন বুধবার পৃথক দু’দিনে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়। এবছর যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ স্টেটের অধিকাংশ মুসলমান ২৯টি রোজা পালন করেন। তবে কোন কোন স্টেটে মুসলমানদের ক্ষুদ্র একটি অংশ ৩০টি রোজা পালন করে ৫ জুন বুধবার ঈদ উদযাপন করেন। সৌদি আরবে শাওয়ালের চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত হবার পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান মসজিদগুলোর পক্ষ থেকে ৪ জুন মঙ্গলবার ঈদ উদযাপনের ঘোষণা দেয়া হয়। গত ৬ মে থেকে শুরু হয়েছিল পবিত্র রমজান। লোকাল ও গ্লোবাল মুনসাইটিং বিভাজনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় বছরই পৃথক দিনে ঈদ উদযাপিত হয়ে আসছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল আর পম্পেও সোমবার এক বিবৃতিতে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সকল মুসলমানকে ঈদ মুবারক এবং শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এদিকে, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত মুসলমানগণ স্বপরিবারে নিকটস্থ মসজিদ ও খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। কাউন্সিল অন আমেরিকান ইসলামি রিলেশন্স-কেয়ার’র তথ্য অনুযায়ী, গোটা আমেরিকায় ৩ সহ¯্রাধিক মসজিদ, খোলা মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার এবং বিলাসবহুল হোটেলের বলরুমে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় অনেক মসজিদের উদ্যোগে স্থানীয় খেলার মাঠে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলসমূহে ঈদের ছুটি থাকায় ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ঈদ জামায়াতে যেতে পারায় ঈদে প্রবাসীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। চমৎকার আবহাওয়া থাকায় নিউইয়র্কসহ উত্তর আমেরিকায় অনেক খোলা মাঠে এবারের ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অধিকাংশ ঈদ জামায়াত সকাল ৮ থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। ঈদ জামায়াত গুলোতে নামে প্রবাসীদের ঢল। সর্বত্র শান্তিপূর্ণভাবেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এ উপলক্ষে সর্বত্র বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ঈদ-নামাজে যাতায়াতের পথে মুসল্লিদেরকে সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দেওয়া হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ থেকে।
নিউইয়র্কে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় কুইন্সে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের আয়োজনে। খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এ ঈদ জামায়াতে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লী অংশ নেন বলে আয়োজকরা উল্লেখ করেন। এর পরের বৃহৎ জামাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদ, জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক ঈদ গাঁহ, নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ, ওজোন পার্কে মসজিদ আল আমান, এস্টোরিয়ায় আল আমিন মসজিদ, আরাফা ইসলামিক সেন্টার, ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ এবং এলমহার্স্টের বিভিন্ন মসজিদের ব্যবস্থাপনায়।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার : ঈদের জামাত মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে খোলা আকাশের নিচে টমাস এডিসন হাইস্কুল পার্কে (১৬৮ এবং ৮৪ এভিনিউ, জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক ১১৪৩২) অনুষ্ঠিত হয়। এ জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ। এর আগে স্থানীয় জন প্রতিনিধি এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা শুভেচ্ছা জানান। মসজিদের সেক্রেটারি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া চমৎকার হওয়ায় আগের যে কোন বছরের তুলনায় এবারের উপস্থিতি অনেক বেশী। জামাতের স্থানে পার্কিং এর বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
বাংলাবাজার জামে মসজিদ : নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় মসজিদের নিকটবর্তী খোলা মাঠে বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এই জামাতে ইমামতি, খুৎবা পাঠ ও বিশেষ দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবুল কাশেম ইয়াহইয়া।
ঈদের জামাতের আগে বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিন মসজিদ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ব্রঙ্কসে বাঙালীদের অন্যতম ব্যবসা কেন্দ্র স্টারলিং বাংলাবাজার এলাকায় বাংলাবাজার জামে মসজিদ সকলের সহযোগিতায় কর্জে হাসানার মাধ্যমে ব্যাংক ঋৃণ মুক্ত হয়েছে। তিনি জানান, মসজিদটি বর্তমানে ব্যাংক ঋৃণ মুক্ত হলেও কর্জে হাসানার প্রায় ৮০ হাজার ডলারের ঋৃণ এখনো পরিশোধের বাকি রয়েছে। আলহাজ গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ মসজিদে জুমার নামাজে দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তার পরও স্থান সংকুলান না হওয়ায় মুসল্লীদের বাইরে জুমার নামাজ আদায় করতে হয়। ক্রমবর্ধমান মুসল্লীদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে মসজিদটিকে বর্তমান স্থানে কিংবা নতুন জায়গায় বহুতল মসজিদ ভবণ করার যৌক্তিকতা তুলে ধরে এখনই সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার বলে মন্তব্য করেন। মসজিদে আর্থিক সহযোগিতা সহ সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য প্রবাসীদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। নামাজ শেষে মুসল্লীদের ঈদের সেমাই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।
পার্কচেস্টার জামে মসজিদঃ পার্কচেস্টার জামে মসজিদে সকাল ৮ টায় ও সকাল ৯ টায় ২টি বড় ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। পার্কচেস্টার জামে মসজিদের প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের খতীব মাওলানা মোহাম্মদ মাঈনুল ইসলাম। দ্বিতীয় জামাতে মহিলাদের নামাজ আদায় করার ব্যবস্থা ছিল।
নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ : নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯ টায় ব্রঙ্কসের ওভাল পার্কে বিশাল ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।
নিউইয়র্ক ঈদগাহ (জ্যাকসন হাইটস) : মঙ্গলবার নিউইয়র্ক ঈদগাহের উদ্যোগে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প¬াজায় ঈদুল ফিতরের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে সকাল ৭ টা, ৮ টা, ৯ টা, ১০ টা এবং ১১ টায়। 
অমুসলিম প্রতিবেশীর যানবাহন চলাচল ও পার্কিং এ বিঘœ ঘটিয়ে রাস্তা বন্ধ না করে আগামীতে ডাইভারসিটি প্লাজায় এসে এক সাথে ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য নিউইয়র্ক ঈদগাহর পরিচালক ইমাম কাজী কায়্যূম তাঁর খুতবায় এলাকাবসীর প্রতি আহ্বান জানান। ইমাম কায়্যূম বলেন, কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলেও অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রতি মুসলিম প্রতিবেশীর এমন আচরণ শুভ লক্ষণ নয়। তিনি বলেন জ্যাকসনহাইটস মুসলিম কম্যিউনিটিকে ঐক্যবদ্ধ একটি আনন্দ ঈদ উপহার দিতে সংযতার দ্বার সব সময়ই প্রশস্ত।
ইমাম কায়্যূম বলেন, খোলা মাঠে দলে দলে ভাগ হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করলেও দলাদলির অনৈক্যে নবীজীর প্রকৃত সুন্নাত মত ঈদের নামাজ আদায়ের সেই আধ্যাত্মিকতা আর বাকি থাকে না। ইমাম কাজী কায়্যূম বলেন, ২০১১ সনে জ্যাকসন হাইটস মুসলিম কম্যিউনিটিকে সুন্নাত মোতাবেক একটি বৃহত্তম ও ঐক্যবদ্ধ ঈদ উপহার দেবার প্রয়াসেই নিউইয়র্ক ঈদগাহর যে যাত্রা শুরু হয়, তা অব্যাহত আছে এখনো।
নিউইয়র্ক ঈদগাহর ৫টি জামাতের প্রতিটিই ছিল আগের যেকোন রেকর্ডের চেয়ে ভিন্ন। জ্যাকসন হাইটসের স্থানীঁয় মুসল্লিরা ছাড়াও সিটির বিভিন্ন বরো থেকে ঈদগাহে নামাজ পড়ার গুরুত্ব অনুধাবন করে পিতামাতারা তাঁদের নতুন প্রজন্মকে সুবিধা মত জামাতে নিয়ে এসে নামাজ আদায় করে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন। এখানে জ্যাকসন হাইটস মুসলিম কম্যিউনিটিকে ঈদের শুভেচছা দিতে আসেন কাউন্সিল মেম্বার কস্তা কন্সতানতিনিদেস। একটিভিষ্ট জয় চৌধুরীও সে সময় উপস্থিত মুসলিম কম্যিউনিটিকে ঈদ মোবারক জানান।
জ্যাকসনহাইটস মুসলিম কম্যিউনিটি বিশ্ব মুসলিমের সাথে একাত্ম হয়ে ৪ঠা জুন মঙ্গলবার ঈদ করলেও একসাথে ঈদ করেননি জ্যাকসনহাইটসের চরমপন্থা অবলম্বনকারী কিছু বিশেষ মুসলমান, যা অবাক করেছে সবাইকে। 
আরাফা ইসলামিক সেন্টার : মসজিদ আল আরাফার উদ্যোগে মঙ্গলবার আইএস-২৩৮ (৮৮-১৫, ১৮২ স্ট্রীট, জ্যামাইকা, এফ ট্রেনের লাস্ট স্টপ, ১৭৯ স্ট্রিট স্টেশন এর পার্শ্বে), সুজান বি এন্থনী স্কুল খেলার মাঠে বিশাল ঈদ জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। মহিলাদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা এবং ছোট ছেলে-মেয়েদের জন্য উপহার সামগ্রী ও সকলের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা ছিল।
দারুস সালাম মসজিদ : মঙ্গলবার জামাইকা দারুস সালাম মসজিদের নবনির্মিত ভবনে ঈদের ৪টি জামাত যথাক্রমে সকাল ৭:৩০, ৮:৩০, ৯:৩০ ও ১০:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাত ছাড়া প্রত্যেক জামাতে মহিলাদের জন্য ব্যবস্থা ছিল।
মসজিদ মিশন সেন্টার ঃ ৮৭-২৬, ১৭৫ স্ট্রিট, জামাইকা-১১৪৩২ এর মসজিদ মিশন সেন্টার মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকালঃ ৭ টা, ৮ টা, ৯ টা এবং সাড়ে ১০ টায়।
রিয়াজুল জান্নাহ ইসলামিক সেন্টার : মঙ্গলবার সাউথ জ্যামাইকায় পিএস-৪৮ স্কুল মাঠে (১০৮ এভিনিউ বিটুইন ১৫৬ এন্ড ১৫৭ স্ট্রিট) ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮:৩০ মিনিটে। মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।
আমেরিকান মুসলিম সেন্টার : আমেরিকান মুসলিম সেন্টারে (৮৯-১৪ ১৫০ স্ট্রিট, জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক-১১৪৩৫) পবিত্র ঈদুল ফিতরের ৩টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৭টা, ৯টা ও ১১টায়।
ইষ্ট এলমহার্ষ্ট জামে মসজিদ এন্ড মুসলিম সেন্টার : মঙ্গলবার ইষ্ট এলমহার্ষ্ট জামে মসজিদ এন্ড মুসলিম সেন্টার এর উদ্যোগে সকাল ৯টায় পিএস ১২৭ স্কুল পে¬-গ্রাউন্ডে (৯৮-০১ ২৫ এভিনিউ, ইষ্ট এলমাহর্ষ্ট) অনুষ্ঠিত হয়। মহিলাদের জন্য ব্যবস্থা ছিল।
দারুল হিকমাহ নিউইয়র্ক: জ্যামাইকার দারুল হিকমাহ নিউইয়র্ক (১১১-০৮ ফার্মার্স বুলেভার্ড, কুইন্স, নিউইয়র্ক ১১৪১২) এ সকাল ৯টায় ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারঃ জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টারের উদ্যোগে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ৭৩ স্ট্রিট এবং রুজভেল্ট এভিনিউতে। দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০টায় মসজিদের ভিতরে।
এস্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টারঃ এস্টোরিয়া ইসলামিক সেন্টার এর উদ্যোগে মঙ্গলবার ঈদের ১টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮:৩০টায় ৩১ স্ট্রিট, ডিটমার্স বুলেভার্ড ও ২১ এভিনিউর মধ্যে।
আল আমিন জামে মসজিদ : এস্টোরিয়া আল আমিন জামে মসজিদের উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত ৩৬ স্ট্রিট ও ৩৭ এভিনিউর মাঝে মসজিদের সামনে খোলা মাঠে সকাল ৮:৩০ এ অনুষ্ঠিত হয়। 
ওজনপার্ক ফুলতলী জামে মসজিদঃ মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ওজনপার্ক ফুলতলী জামে মসজিদের উদ্যোগে ১টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় পিএস-৬৪ স্কুলের এর সম্মুখে খোলা আকাশে।
নিউইয়র্কে অপর বৃহত্তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে। ইমামতি করেন মসজিদের পেশ ইমাম ক্বারি রুহুল্লাহ।
বায়তুল জান্নাহ মসজিদ : মঙ্গলবার সকাল ৮:৩০ মিনিটে বায়তুল জান্নাহ জামে মসজিদ সংলগ্ন ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ এর উপর এভিনিউ সি এবং চার্চ এভিনিউ এর মাঝে উন্মুক্ত রাস্তায় পবিত্র ঈদুল ফিতর নামাজের বিশাল জামাত অনুষ্ঠিত হয়। 
এছাড়া, কুইন্সের জ্যামাইকার দারুস সালাম মসজিদ, বাংলাদেশ মিশন (হাজী ক্যাম্প) মসজিদ, হিলসাইড ইসলামিক সেন্টার, জ্যাকসন হাইটসে মসজিদ আবু হুরায়রা, দারুস সুন্নাহ মসজিদ, আল ফোরকান মসজিদ, ব্রুকলীনের বাংলাদেশ মসুলিম সেন্টার, বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদ, ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদ, আসসাফা মসজিদ, গাউছিয়া মসজিদ, ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার প্রভৃতি মসজিদের উদ্যোগে খোলা মাঠে বা মসজিদ ভবণে ঈদুল ফিতরের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সী, কানেকটিকাট, ম্যারিল্যান্ড, পেনসেলভেনিয়া, ভার্জেনিয়া, ওয়াহিও, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যারোরিনা, সাউথ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, এরিজোনা সহ প্রভৃতি স্টেটে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 
এদিকে, এদিন অনেকটা ভোরেই মুসলিম পরিবারের সদস্যরা নানা রঙের পাজামা-পাঞ্জাবি, শাড়ী-সালওয়ার-কামিজ পরে দল বেঁধে নিকটস্থ মসজিদ কিংবা মাঠে হাজির হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। একত্রে বিপুল সংখ্যক মুসল্লীর ঈদের নামাজ আদায়ের বিষয়টি ভীন দেশীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ঈদের জামায়াত গুলোতে স্থানীয় রাজনীতিক, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ  প্রবাসের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। বাংলাদেশের কয়েকজন জাতীয় নেতাও এবার যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ উদযাপন করেন। ঈদের নামাজে কমিউনিটি, দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে একে অন্যের সাথে আলিঙ্গনের মাধ্যমে পবত্রি ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর সবাই নিজের বাড়ি কিংবা আতœীয় স্বজনের বাড়ীতে ছুটে যান। অনেকে আবার ঈদের নামাজ আদায় করেই কাজে চলে যান। এছাড়া প্রবাসীরা ফোনে বাংলাদেশে স্বজনদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছাও বিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং  সিটি প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল লক্ষ্যণীয়। প্রায় প্রতিটি জামাতের আশপাশেই ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং থাকায় দূর দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন। ঈদ উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন এক আমেজ পরিলক্ষিত হয়। এদিকে, এবছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল প্রবাসী স্বজনের সাথে ঈদ করার জন্যে বাংলাদেশে গেছেন বলে জানা গেছে। 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর