শুক্রবার   ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ২০ মুহররম ১৪৪১

১১৯

মেয়র আরিফের বাজেটে যা আছে....

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৯ ১৯ ০৭ ৪৪  

ডেস্ক নিউজ:: সিলেট সিটি করপোরেশনের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বাজেটের আকার ৭৮৯ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। আজ রবিবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরীর দরগাহ গেইটস্থ একটি হোটেলের বলরুমে এই বাজেট ঘোষণা করা হয়।  
হুবহু তুলে ধরা হলো বাজেটের যা আছে: সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ, সমাগত সুজন নাগরিকবৃন্দ, সহকর্মী কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
হযরত শাহজালাল (রহ.), শাহপরান (রহ.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতিবাহী অনেক জ্ঞানীগুণীর জন্মস্থান সিলেটের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে আমাদের এই নগরী। এই নগরীর বাসিন্দা হিসেবে আমরা গর্বিত, আনন্দিত। আমরা সবাই চাই, সুমহান ঐতিহ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হোক। এখানকার ইতিহাস ঐতিহ্য যেমন সমৃদ্ধ, প্রকৃতিও তেমনি বৈচিত্রময় এবং সজীব সবুজে মনোহর। তাই একটি আধুনিক, স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, সুপরিকল্পিত নগরীর প্রত্যাশা আমরা লালন করি। এই স্বপ্ন নিয়েই আপনারা আমাদেরকে নির্বাচিত করেছেন। আমি সহকর্মী কাউন্সিলরবৃন্দ এবং সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বশীলদের নিয়ে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। 
নগরবাসীর আশা আকাঙ্খার সঙ্গে শুধু মেয়র হিসেবে নয়, একজন কাউন্সিলর হিসেবেও আমার যোগসুত্র দীর্ঘদিনের। ২০১৩ সালে আপনারা আমাকে প্রথম মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন। প্রথম মেয়াদে আমার চলার পথে অনাকাঙ্খিত বিঘœ সৃষ্টি হওয়ায় থমকে গিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবং আপনাদের সহযোগিতায় আবারও আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাই। এজন্য আমি নগরবাসীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমার দায়িত্ব পালনে আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষায় আমি সচেষ্ট ছিলাম, এখানো আছি। আমি জানি, আপনারা সিটি কর্পোরেশনের কল্যাণমুখী কার্যক্রমে আমাদের সঙ্গে আছেন, ভবিষ্যতেও সঙ্গে থাকবেন। 
প্রিয় সুধী,
প্রাচীন জনপদ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শহর সিলেট। আকার আয়তনে জনসংখ্যা এবং জীবনধারায় এখন এটি মহানগরী। ১৮৭৮ সালে গঠিত সিলেট পৌরসভা ২০০২ সালে সিটি কর্পোরেশনের উন্নীত হয়। তাই সময়ের দাবি অনুযায়ী মহানগরীর উন্নয়ন আরো অনেক বেশি হওয়ার কথা ছিল। এরপরও যা হয়েছে এর উপর ভিত্তি করে আমি কাজ শুরু করি। নগরবাসী হিসেবে আমাদের কার্যক্রম ও তৎপরতা প্রতিদিন দেখছেন। এরপরও বাজেট ঘোষণার সময় প্রথানুযায়ী আপনাদের আমরা অবহিত করি। নগরবাসী হিসেবে আপনাদের জানা এবং আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে জানানো আমাদের দায়িত্ব। আপনারা মূল্যবান সময় ব্যয় করে আসেন, এবারও এসেছেন। সরাসরি বলা এবং শোনার আনন্দ ও গুরুত্ব আছে। না, খুব বেশি সময় নেব না। যথা সম্ভব সংক্ষেপে আমার বক্তব্য শেষ করব। 
সুধীজন,
আজকের এই মহানগরী একদিনে গড়ে উঠেনি। আমরা প্রত্যাশার শীর্ষে যেতে পারিনি সত্য, এরপরও আমাদের পূর্বসুরীরা যেটুকু করেছেন তার ভিত্তিতেই আমরা অগ্রসর হচ্ছি। উন্নয়নে নগরবাসী এবং সরকার ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। আমি তাদের অবদানকেও স্মরণ করছি। 
আপনারা জানেন, আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। এরপরও বছরে একবার কিছু কথা বলতেই হয়। এই শহরে আমরা বাস করি। সিলেটে এখনো যান্ত্রিক নাগরিক জীবনের আত্মকেন্দ্রিকতা প্রবল নয়। পাড়া প্রতিবেশীর সঙ্গে সামাজিক বন্ধন এখনো বহাল আছে। এই আন্তরিক বন্ধন ছিন্ন করে গেল বছর আমাদের মাঝ থেকে যাঁরা চিরবিদায় নিয়েছেন আমরা তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।
তবে তারও আগে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আগস্ট মাস বাংলাদেশে শোকের মাস হিসেবে পালিত হয়। কারণটাও সকলেরই জানা আছে। বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই মাসেই নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলেন। তাঁর এবং ঐদিনে তাঁর স্বজন ও পরিজনদের মধ্যে যারা নিহত হয়েছিলেন তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।  
এবার সিলেটের যেসব বিশিষ্টজনেরা আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন তাদের স্বজনদের প্রতি সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। প্রয়াত সকলের নাম হয়তো উল্লেখ করা যাবে না, তবু আমাদের সুখ দুঃখের সঙ্গীদের মধ্যে প্রয়াত নাগরিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেনঃ সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান, সিলেট জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী আ ফ ম কামাল, একুশে পদকপ্রাপ্ত কন্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী, সিলেটের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া জগতের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব, সিলেট কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট সুপ্রিয় চক্রবর্ত্তী রঞ্জু, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আ ন ম শফিকুল হক, কাজিরবাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা হাবিবুর রহমান, সোবহানীঘাট মাদাসারার মুহতামিম, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা শফিকুল হক আমকুনী, শাহজালাল রহ. মাদরাসার মুহতামিম, বিশিষ্ট আলেম মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া, জামেয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা মাদারাসার শায়খুল হাদীস বিশিষ্ট আলেম মাওলানা শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ বেতার সিলেটের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক লেখক ও গবেষক শামসুল করিম চৌধুরী কয়েস, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুবি ফাতেমা ইসলাম, সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর সহধর্মিনী মেহজাবিন চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা আব্দুল হান্নান, এম সি কলেজের সাবেক অধ্যাপক নাগরী স্যার খ্যাত এরহাসুজ্জামান, সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আজিজুর রহমান, সাবেক অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা আলী আকবর খান, নর্থ ইস্ট বোর্ড অব ট্রাস্ট্রিজ এর সেক্রেটারী আরিফ ইকবাল চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষানুরাগী জহির খান লায়েক, যুব রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী মঈনুদ্দিন আহমদ জালাল, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা কয়ছর মাহমুদুল হক সৈয়দ, নগর গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার জুবের আহমদ পিপিএম, অধ্যাপক শহিদুল হোসেন, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আহাদ, ভাষা সৈনিক প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামের সংগঠক এডভোকেট মনির উদ্দিন আহমদ, সিলেট ৬ আসনের সাবেক এমপি এ কে এম গৌছ উদ্দিন, করিমউল্লাহ মার্কেটের স্বত্বাধিকারী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমান উল্লাহ, আয়কর আইনজীবী এডভোকেট নওরোজ আহমদ, প্রাইম ব্যাংকের আঞ্চলিক প্রধান আবু আশরাফ চৌধুরী মসরু, সংস্কৃতিকর্মী ও ফটো সাংবাদিক কুমার গণেশ পাল, সাবেক পৌর কমিশনার মকসুদ বক্ত, কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীমের মাতা, বিশিষ্ট সমাজসেবী মরহুম আলাউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী রেজিয়া বেগম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর দিনার খান হাসুর পিতা আলহাজ্ব সুলেমান খান, দৈনিক সিলেটের ডাক এর সাবেক সম্পাদনা সহকারী মো. জামিলুর রহমান জাহেদ, শাহপরান জামে মসজিদের খতিব ও শাহপরান মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা খলিলুর রহমান, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের উদ্যোক্তা ডা. হুমায়ুন কবির, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উপ সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন।   
প্রিয় সাংবাদিক ও সচেতন সুধীজন,
গত কয়েকমাস গুজব এবং গণপিটুনি আতংক দেশবাসীকে সন্ত্রস্ত করে রেখেছিল। সিলেটের নাগরিকবৃন্দ এক্ষেত্রে সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন। সিলেটবাসীকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে কিছুদিন থেকে ডেঙ্গু রোগের আক্রমণ ও ভীতি আমাদের সবাইকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আল্লাহর রহমতে সিলেট এখনো নিরাপদ বলা যায়। তবু নগরবাসীর সুরক্ষার লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন সচেতন রয়েছে। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন সিটি কর্পোরেশন মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরীজুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছি। এই কার্যক্রমকে কিভাবে আরও ফলপ্রসু করা যায় এ ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যশাখাকে নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি নগরবাসীকেও সবসময় সচেতন থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রিয় সাংবাদিক ও নাগরিকবৃন্দ,
সম্প্রতি আকস্মিক বন্যাকে কেন্দ্র করে সিলেট মহানগরবাসী যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন-এবারের বাজেট বক্তৃতায় আমি সবার আগে সেই বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করতে চাই। কারণ সাম্প্রতিক কয়েকটি বছরে এই দুর্ভোগ মহানগরবাসীর কাছে অসহনীয় হয়ে উঠেছে। যা থেকে পরিত্রানের পথ আমাদের জরুরী ভিত্তিতে খুঁজতে হবে। এক্ষেত্রে বাস্তবতাকে স্বীকার করেই আমাদের সমাধানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। 
এখানে জলাবদ্ধতা ও বন্যা-এই দুটো বিষয়কে এক করে দেখলে চলবে না। দুটো বিষয় আলাদা। আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ছড়া ও খাল প্রশস্তকরণ কার্যক্রমে নিরসলভাবে কাজ করেছি, যার সুফল হিসেবে মহানগরীর অধিকাংশ মানুষ এখন জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছেন। ছড়া ও ড্রেন প্রশস্ত এবং অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ায় এখন আর আগের মতো দীর্ঘ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করে না, বরং বৃষ্টির পানি খুব তাড়াতাড়ি নেমে যায়।  
তবে বর্ষা মৌসুমে এবার মহানগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় যে বন্যা হয়েছে তা জলাবদ্ধতা নয়। আপনারা সবাই জানেন, মহানগরীর ড্রেন ও ছড়ার পানি নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু সেই নদীও ড্রেজিং না হওয়াতে ভরাট হয়ে গেছে। বিপত্তি ঘটে তখনই যখন উজান থেকে ঢল এসে সুরমা নদীর পানি স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন খুব স্বাভাবিকভাবেই সুরমা নদীতে গিয়ে ছড়া ও ড্রেনের পানি মিশতে পারে না। উল্টো সুরমা নদীর পানি মহানরগরীর ছড়া দিয়ে ঢুকে অনেক এলাকা প্লাবিত করে ফেলে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নদী খননসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরী হয়ে পড়েছে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন মহোদয়ের নজরে এনেছি। আশা করছি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে বর্তমান সরকার এক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। 
সুধীজন, 
পরিবহন ক্ষেত্রে সিলেট মহানগরবাসীর জন্য বেশ কয়েকটি শুভ সংবাদ রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, মহানগরীর সর্ববৃহৎ কদমতলী বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। উন্নত বিশ্বের আদলে কদমতলী বাস টার্মিনালের আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে এই এলাকার চেহারা পাল্টে যাবে। যাত্রীরা পাবেন আধুনিক ও উন্নতমানের সেবা। 
এখানে যাত্রীদের বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কক্ষ, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য থাকবেন চিকিৎসক, থাকবে এম্বুলেন্স। এছাড়াও প্রত্যেক রুট অনুযায়ী থাকবে আলাদা আলাদা বাস পার্কিং জোন, এন্ট্রি ও এক্সিটের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা। ২০২০ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। 
এছাড়াও সিলেট মহানগরীতে ‘নগর বাস সার্ভিস’ চালুর ব্যাপারেও আমরা আশাব্যঞ্জক সাড়া পেয়েছি। এ ব্যাপারে নিটল টাটা গ্রুপের সাথে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। নারীদের জন্যে আলাদা বাস সার্ভিস চালুরও আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি ট্রাক টার্মিনালের নির্মানকাজও সম্পন্ন হয়েছে। এখন শত শত ট্রাক এই টার্মিনালে রাখা হচ্ছে। 
রাস্তা পারাপারে ঝুকি এড়াতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীতে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মুরারীচাঁদ কলেজের (এম সি কলেজের) সামনে, মদিনা মার্কেট পয়েন্টে, মেন্দিবাগ পয়েন্টে এবং হুমায়ুন রশীদ স্কোয়ারে ফুটওভার ব্রিজ স্থাপনের লক্ষ্যে নকশা তৈরী করা হচ্ছে। এছাড়াও বন্দরবাজার পয়েন্টে স্থাপিত ফুটওভার ব্রিজটি পারিপার্শ্বিক সবকিছু বিবেচনাপূর্বক অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।  
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, 
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনায় চারটি স্কুল রয়েছে। স্কুলগুলো হচ্ছে আখালিয়ায় অবস্থিত বীরেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়, চৌহাট্টায় অবস্থিত ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়, বাগবাড়িতে অবস্থিত বর্ণমালা সিটি একাডেমী এবং চারাদিঘিরপারে অবস্থিত সিটি বেবী কেয়ার একাডেমী। বিদ্যালয়গুলোর মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৭২৪ জন। এসব শিক্ষার্থীদের জন্যে আমরা শীঘ্রই আলাদা বাস সার্ভিস সুবিধা চালু করতে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে নিটল টাটা গ্রুপের পক্ষ থেকে ২টি বাস দেওয়ায় আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শিক্ষাক্ষেত্রে ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা আলাদাভাবে বলতে হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ভোলানন্দ নৈশ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালে। নগরীর চৌহাট্টায় অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ঝরে পড়া শিশুরা অধ্যয়ন করে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই বিদ্যালয় পরিচালিত হয়। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ২৮৯ জন শিক্ষার্থী বিনা বেতনে অধ্যয়নরত আছে। বিগত এসএসসি পরীক্ষায় এখানে ১৪ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদেরকে আমরা কলেজে ভর্তির ফি এবং কলেজের বইপত্র প্রদান করেছি, যাতে তাদের উচ্চ শিক্ষার পথ বাধাগ্রস্থ না হয়।  
সুধীবৃন্দ, 
সিলেট সিটি এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বছরের পর বছর থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অবহেলিত ছিল। অথচ মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখার জন্য সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা উচিত ছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ময়লা ও আবর্জনা ভোরের মধ্যেই পরিস্কার করার উদ্যোগ নেওয়ায় নগরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। কিন্তু এই বর্জ্য ডাম্পিংয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ বিপর্যয়ের হুমকি সবসময় বিরাজমান ছিল। এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা বেশ কয়েকটি যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এজন্যে দক্ষিণ সুরমার লালমাটিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্যানেটারী ল্যান্ডফিল নির্মাণ কাজ সম্পন্নের পথে। ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে তরল বর্জ্যরে কারণে পরিবশ দূষণের মাত্রা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
নগরবাসীর জন্য আরেকটি সুসংবাদ হচ্ছে, প্রিজম বাংলাদেশ এর উদ্যোগে এবং সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে ক্লিনিকেল ও মেডিকেল বর্জ্যকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ডাম্পিং করার জন্য অটোক্ল্যাপ প্রযুক্তির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আপনারা জানেন, ক্লিনিকেল ও মেডিকেল বর্জ্য স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক। যেখানে সেখানে ফেলে রাখলে তা মারাত্মক দূষণ ঘটায়। এই দুশ্চিন্তারও অবসান হতে চলেছে। আপনাদের উপস্থিতিতে খুব শীঘ্রই আমরা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করব বলে আশা করছি। 
এছাড়াও উন্নত বিশ্বের আদলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুটি বিদেশী কোম্পানীর সাথে আমাদের আলোচনা চলছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে এসব কোম্পানী বিনিয়োগের ব্যাপারে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি আমরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছি। বর্জ্যকে শক্তিতে রূপান্তরিত করার এই প্রকল্প চালু হলে সিলেট সিটি  কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,   
ভারতীয় সরকারের অনুদানে নগরীতে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে চারাদিঘীরপাড়ে বহুতলবিশিষ্ট স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও মহানগরীর কাষ্টঘরে সুইপার কলোনীর জন্য ৬ তলা ভবন নির্মাণকাজ চলমান আছে। ভারতীয় সরকারের অনুদানে আরেকটি বৃহৎ প্রকল্প ধোপাদিঘীকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন ধোপাদিঘী এলাকার সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার পরপরই আমরা এই প্রকল্পের কাজ শুরু করেছি। এই প্রকল্পের আওতায় ধোপাদিঘীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির ফলে এখানকার নির্মল পরিবেশ নগরবাসী যাতে উপভোগ করতে পারেন সেই ব্যবস্থা আমরা করছি। আশা করছি ২০২০ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই তিনটি প্রকল্পে অনুদান প্রদান করায় আমি ভারতীয় সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।  
সুধীবৃন্দ,  
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নিয়মিত সেবার পাশাপাশি আমরা নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা শিশু শিক্ষার্থীদের হেলথ কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছি। নগরীর আখালিয়াস্থ বীরেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে হেলথ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হেলথকার্ড চালু আমার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন ছিল। চলতি বছর সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হলো মাত্র। ধারাবাহিকভাবে নগরীর ৬৭ হাজার শিশুকে আধুনিক হেলথকার্ড প্রদান করা হবে। বিশ্বের উন্নত দেশের মতো এই হেলথ কার্ডে ব্লাড গ্রুপ থেকে শুরু করে থাকবে সব ধরণের তথ্য। শুধু তাই নয়, আমরা এক্ষেত্রে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে এই কার্যক্রমের জন্য এ্যাপস চালু করতে যাচ্ছি। এই এ্যাপস- এ ঢুকে সবাই সকল তথ্য সহজেই খুঁজে পাবেন। একই সাথে নিউবর্ন (নবজাতক) শিশু জন্ম নেয়ার সাথে সাথে প্রদান করা হবে হেলথ কার্ড। এছাড়াও আপনারা অবগত আছেন, গতবছর আমরা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইডের অর্থায়নের মাধ্যমে সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় উন্নত বিশ্বের আদলে একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছিলাম। এবার আমরা মহানগরীর বন্দরবাজারের ধোপাদিঘীরপাড়ে একটি ও দক্ষিণ সুরমার কদমতলী পয়েন্ট একটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছি। 


সুধীজন, 
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে রাস্তা প্রশস্তকরণের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। রিকাবীবাজার পয়েন্ট থেকে বেতার সিলেট পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আমরা বাংলাদেশ বেতারের সম্মুখের সড়ক থেকে সুবিদবাজার পয়েন্ট অভিমুখী সড়ক প্রশস্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আশা করছি এই কাজ শেষ হলে এই সড়কটি একটি নান্দনিক রূপ পাবে। এছাড়াও টিলাগড় পয়েন্ট থেকে শিবগঞ্জ-মীরাবাজার-নাইওরপুল হয়ে বন্দরবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রম চলমান আছে। নাইওরপুল থেকে জেলরোড হয়ে জিন্দাবাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রমও দ্রুত গতিতে চলছে। মহানগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চৌকিদেখী-আম্বরখানা সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম ও ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মাণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। জিন্দাবাজার থেকে চৌহাট্টা নগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই সড়কও প্রশস্তকরণ কার্যক্রম চলমান আছে। সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রমে দক্ষিণ সুরমার কয়েকটি সড়কের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে হুমায়ুন রশীদ স্কয়ার থেকে মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর হয়ে ক্বীনব্রিজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও চারলেনে উন্নীতকরণ, মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বর থেকে ঝালোপাড়া হয়ে ক্বীনব্রিজ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও টু লেনে উন্নীতকরণ কার্যক্রমও সম্পন্ন হয়েছে। 
এছাড়াও উত্তর সুরমার লন্ডনী রোড থেকে ধোপাছড়াপর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও ফুটপাতসহ ড্রেন নির্মান কার্যক্রম, কালিবাড়ী রোড, জালালাবাদ রোড, বনকলপাড়াসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। 
এসব সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রমে যেসব মহানুভব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের মূল্যবান জমি দিয়েছেন তাদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রশস্তকরণ কার্যক্রম পূর্নাঙ্গ হওয়ার পর আমরা জমি দানকারী সম্মানিত নাগরিকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদেরকে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। 
প্রিয় নগরবাসী, 
সিলেটের বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণ করার পাশাপাশি প্রতিটি সড়কে ফুটপাত নির্মাণ করা হচ্ছে যা সবার কাছে দৃশ্যমান হচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, যে উদ্দেশ্যে ফুটপাত নির্মাণ করা হয় সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত, এমনকি রাস্তার উপরে এসে হকাররা অযাতিচভাবে দখল করে রাখে, যা নগরবাসীর জন্যে পীড়াদায়ক এবং নানা দুর্ভোগেরও উৎপত্তি ঘটায়।  বিগত দুই বছর ফুটপাত সম্পর্কে বিভিন্ন পেশাজীবী সংস্থা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠক করেছি। তাদের মূল্যবান মতামতের আলোকে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। হকারদের যাতে সত্যিকার অর্থে পুনর্বাসন করা সম্ভব হয় সেজন্য ইতোমধ্যে লালদিঘী মার্কেট আংশিক ভাঙার কাজ সমাপ্ত হয়েছে। এখানে নতুনভাবে নির্মিত মার্কেটে বিনিয়োগ করার জন্য ভারত, চীন, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা এই মার্কেটের আধুনিক ও ব্যবসা বান্ধব ডিজাইন করার জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগও চূড়ান্ত করেছি। এরপর এখানে কারা কীভাবে ব্যবসা করবেন তার জন্য একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সিলেট মহানগরীর অন্যতম পৌরবিপনী মার্কেট ভেঙে নতুন ও আধুনিক কমপ্লেক্স গড়ার পরিকল্পনাও  গ্রহণ করা হয়েছে। এরই আলোকে আমরা কিছুদিনের মধ্যেই আমরা এই পুরনো ও জরাজীর্ণ মার্কেট ভাঙার কাজ শুরু করব। হাসান মার্কেট নিয়ে আমাদের একটি বিশেষ পরিকল্পনা আছে, যথাসময়ে তা সবাইকে অবগত করা হবে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, 
সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী নয়াসড়ক চত্বরের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। এ চত্বরের নাম হয়েছে ‘মাদানী চত্বর’। উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সিপাহসালার ভারতের বিখ্যাত ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের সাবেক সদরুল মুদাররিসীন আওলাদে রাসুল (সা.) হযরত মাওলানা সৈয়দ হুসাইন আহমদ মাদানীর (রহ.) নামে এ চত্বরটির নামকরণ করা হয়।
সিলেটের ইসলামী মূল্যবোধ বিকাশের ইতিহাসে উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা হুসাইন আহমদ মাদানীর নাম এখনো ঘরে ঘরে। উপমহাদেশের এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সাথে নয়াসড়ক জামে মসজিদের অনেকদিনের স্মৃতি বিজড়িত। ১৯২২ সাল থেকে তিনি সিলেটের এই মসজিদের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। প্রথম দিকে তিনি এখানে একটানা তিন বছর অবস্থান করেন। পরে ১৯৪৭ পূর্ববর্তী সময়ে প্রতিবছর রমজান মাসে সিলেট আসতেন। তাঁর কেন্দ্র ছিল ঐতিহাসিক নয়াসড়ক জামে মসজিদ। আজও এই প্রখ্যাত আলেমের স্মৃতি সিলেট নগরীতে সজীব রয়েছে। আমরা সকলের পবিত্র আবেগের প্রতি সম্মান পোষণ করি। তাই তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের জন্যই নয়াসড়ক পয়েন্টকে ‘মাদানী চত্বর’ নামকরণ হয়েছে।
সুধীজন, 
আপনারা জানেন, দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছড়া, নালা, খাল, রাস্তা প্রশস্তকরণ, যানজট নিরসন, হকার উচ্ছেদ, সরকারী ও সিটি করপোরেশন জমি উদ্ধারে অভিযান শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট নগরীর আখালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমরা প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের অন্তত এক বিঘা জমি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছি। উদ্ধারকাজ চলাকালে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকা ও ধানোয়াটা এলাকার মধ্যে অবস্থিত সরকারী গোপাট দখল করে নির্মিত ১১টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। দখলে নেয়া সরকারি জমি ছাড়তে দখলদারদের বার বার নোটিশ দিলেও তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় এ অভিযান চালানো হয়েছে।
দীর্ঘ দুই যুগ পর দখল হওয়া দক্ষিণ সুরমার জৈন্তার খালের উপর নির্মিত একটি মার্কেট ও কলোনী উচ্ছেদ করার ফলে উদ্ধার করা হয়েছে কোটি টাকা মূল্যের জমি। দক্ষিণ সুরমার মুছারগাঁওয়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জৈন্তার খালের উপর নির্মিত টিন সেডের একটি মার্কেট ও একটি কলোনীতে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় স্থানীয় মুছারগাঁও এলাকার কয়েক শতাধিক বাসিন্দা জৈন্তার খাল উদ্ধার করায় ধন্যবাদ জানিয়ে আনন্দ-উল্লাস করেন। একইদিন আমরা নগরীর প্রবেশমুখ চন্ডিপুল থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা ও অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড অপসারণ করেছি। 
সুধীবৃন্দ, 
সিলেটে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘ওয়াইফাই জোন’ স্থাপনের জন্যে আমরা দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলাম। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ৬২টি এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই জোন তৈরি করা হচ্ছে। ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্প’-এর আওতায় নগরের ১৬২টি ওয়াই-ফাই এক্সেস পয়েন্ট (এপি)-এ বিনামূল্যে ওয়াইফাই ব্যবহারের সুবিধা থাকবে। প্রাথমিক অবস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে ৬২টি ওয়াফাই জোন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে পুরো নগরীকে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের আওতায় নিয়ে আসা হবে। আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই জোন স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 
সম্মানিত সাংবাদিকবৃন্দ, 
সিলেট নগরীতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। আপনারা দেখেছেন, সিলেট নগরীতে যত্রতত্রভাবে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপুর্ণভাবে বিক্রি হচ্ছে এসব গ্যাস সিলিন্ডার। ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় যথাযথ নিয়ম না মেনে চলা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার উদ্যোগ নেয় সিটি কর্পোরেশন। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থায় ত্রুটি ও নি¤œমানের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়ের অভিযোগে বেশ কয়েকটি দোকানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। এসব ঝুকিপূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় প্রতিষ্ঠান অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
সম্মানিত নগরবাসী, 
‘হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করুন নগর উন্নয়নে আবদান রাখুন’ স্লোগানকে সামনে রেখে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্স পুনর্মূল্যায়ন (জেনারেল রি-এ্যাসেসমেন্ট) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। পাঁচ বছর অন্তর অন্তর এ কার্যক্রম নির্ধারণের বিধান থাকলেও দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছরেও এ কার্যক্রমের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। 
আপনারা জানেন, হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করার কোনো বিধান নেই। অতীতে যারা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় না করে ভোটের রাজনীতির স্বার্থে সম্মানিত নাগরিকদের শুধু বকেয়া ঋণের বোঝা বাড়িয়েছেন, তারা সম্মানিত নাগরিকদের মারাত্মকভাবে ক্ষতি করেছেন। এখন সেই ঋণ আদায় করতে নগরবাসীকে যেভাবে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে, ঠিক সেইভাবে আমাকেও পড়তে হচ্ছে বিভ্রান্তিতে।
ট্যাক্স নির্ধারণ সম্পর্কে সবাইকে আশ্বস্ত করে আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সচ্ছলতা সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে রিভিউ বোর্ডের মাধ্যমে ট্যাক্স প্রদানকারীর মতামতের ভিত্তিতে ট্যাক্স সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। বর্তমান পরিষদ জনগণের চাহিদা, প্রত্যাশা ও সামর্থ্যের দিকটি বিবেচনা করে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। রিভিউ আবেদন করলে রিভিউ বোর্ডে জনগণের আর্থিক সঙ্গতি বিবেচনা ও তাদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। তারপরও প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নগরবাসীর উপস্থিতিতে গণশুনানীর মাধ্যমে চূড়ান্ত হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। 
প্রিয় নগরবাসী, 
সিলেট মহানগরীর সর্ববৃহৎ কবরস্থান হচ্ছে হযরত মানিকপীর (রহ.) কবরস্থান। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ কবরস্থানটির আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সর্বশেষ পবিত্র রমজান ও শব-ই-বরাতকে সামনে রেখে কবরস্থানের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি কর্পোরেশন। প্রাথমিকভাবে কবরস্থান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন, হেলে পড়া গাছ কর্তন ও ছাটাই, রং করে সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। এছাড়াও এখানে কবরস্থানে মাটি ভরাট, লাশের গোসলখানা সংস্কার এবং প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট নগরীর জন্য একটি মরচুয়ারি স্থাপনসহ ডিজিটাল সার্ভের ভিত্তিতে এই গোরস্থানকে আধুনিকায়নের করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
সুধীজন,
সিলেট মহানগরীতে স্থানে স্থানে বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণ তার-এর জঞ্জাল সরানো এবং নিরাপদ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে আমার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান আছে। এই কাজ বাস্তবায়ন করছে পিডিবি। যদিও এই কাজ চলাকালীন নগরের ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের নগরবাসীকে সাময়িক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফলের কথা চিন্তা করে নগরবাসী যে ধৈর্য্য ও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সেজন্য আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 
আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপনের কাজটি বাস্তবায়ন হলেও আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম উপকৃত হবে-এই কথাটি চিন্তা করে নগরবাসী তাদের ভোগান্তি ভুলে যাবেন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে যথাক্রমে সিলেট সার্কিট হাউজ হতে আম্বরখানা পর্যন্ত রাস্তায় উভয় পার্শ্ব এবং আম্বরখানা পয়েন্ট হয়ে ইলেকট্রিক সাপ্লাই পর্যন্ত আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপন করা হচ্ছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে এই কাজ সমাপ্ত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
সিলেট মহানগরীর অনেক প্রকল্প রয়েছে যেগুলো দাতা সংস্থার বরাদ্দ দেওয়ার পরপরই আমাদের কাজ শুরু করতে হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু এবং শেষ করতে না পারলে বরাদ্দ ফেরত চলে যায়। যে কারণে বাধ্য হয়ে আমাদেরকে অনেক সময় একই সময়ে অনেক প্রকল্পের কাজ করতে হয়। কাজ শেষ করার বাধ্যবাধকতার কথা চিন্তা করে বর্ষা মৌসুমেও কাজ চলমান থাকে।  
জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দ,
বিগত বছর সুয়ারেজ সিস্টেম চালু প্রসঙ্গে আমরা জানিয়েছিলাম। এই বিষয়ে ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং সংস্থার মাধ্যমে সিঙ্গেল সোর্স হিসেবে তাদের দিয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য মন্ত্রণালয়ের যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল তা অনুমোদনের পর তাদের সাথে এমওইউ সম্পন্ন হয়েছে এবং কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। এই কাজ ২০২১ সালে সম্পন্ন হবে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুয়ারেজ সিস্টেম বিষয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান আমরা অচিরেই পাব। কেননা সিলেটের বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুয়ারেজ লাইন ড্রেনের সাথে সরাসরি যুক্ত, যার ফলে এসব দূষিত বর্জ্য ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি গিয়ে খালবিল, নদনদীসহ জলাধারে মিশে যাচ্ছে, ফলে আমাদের পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। সুতরাং জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি সিলেট নগরীর স্বতন্ত্র সুয়ারেজ সিস্টেম চালু করা বর্তমানে একান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। 
সিলেটের জন্যে বাস্তবসম্মত একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরীর তাগিদ থেকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে কাগজপত্র পাঠানোর পর তার কাজ চলমান আছে। মাস্টারপ্ল্যান তৈরীর বিষয়টি অনেক সময় সাপেক্ষ বিষয়, তবুও আমরা আশা করছি তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রণয়ন করা হবে।
প্রিয় নগরবাসী, 
পানি সরবরাহ বৃদ্ধি করতে আমরা স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। তবে এক্ষেত্রে ঘন ঘন উৎপাদক নলকূপ স্থাপনের পরিবর্তে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের ব্যাপারে আমরা বেশি গুরুত্বারোপ করছি। ক্রমবর্ধমান এই নগরীতে পানির চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে সারি নদীতে ৫ কোটি লিটার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রায় ৬শ ৫০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করেছি। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও আমরা কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগরীর তোপখানায় অবস্থিত দীর্ঘদিনের পুরনো ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জায়গায় আমরা ছোট পরিসরে নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরীর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পুরাতন ও জরাজীর্ণ পুরনো ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে বর্তমানে গড়ে প্রতিদিনি ৬ লক্ষ লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও নতুনভাবে নির্মিত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিনি গড়ে ২০ লক্ষ লিটার পানি সরবরাহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ, 
ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরবান রেজিলেন্স প্রজেক্ট এর আওতায় নগরীতে ইমারজেন্সী অপারেশন সেন্টার চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ চলছে। এছাড়াও ৫টি ইমার্জেন্সি বেজ স্টেশন স্থাপন করা হবে আপদকালীন সময়ে নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত রাখার জন্য।এছাড়াও সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনয়নের জন্যে এডিবির মাধ্যমে আমরা ৪টি ড্রামট্রাক এবং ৩টি এস্কাভেটর পেয়েছি। 
সুরমা পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধণ কার্যক্রম ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমও আমরা শুরু করেছি। আপনারা দেখেছেন ইতোমধ্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে সুরমা পাড়ের প্রায় ৩ কি. মি. জায়গা উদ্ধার করতে আমরা সমর্থ হয়েছি। আমাদের পরিকল্পনা হচ্ছে কুশিঘাট থেকে কানিশাইল মালনীছড়া পর্যন্ত সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা। এই কাজে সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 
নাগরিক সুধীজন, 
সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে আলোকিত করার উদ্দেশ্যে মহানগরীতে সোলার স্ট্রিট লাইট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় ১১শ ২১টি স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ায় রাতে সিলেটের আলোকোজ্জল পরিবেশ ও নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও আমরা সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় ২৫শ ননসোলার এলইডি স্থাপন করেছি। এছাড়াও নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সিলেট মহানগরীর ১২টি ওয়ার্ডে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছি। তবে এখানেই শেষ নয়। আমরা চলতি বছরে আশা করছি মহানগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কার্যক্রম শেষ করতে পারব। 
জাতির বিবেক সাংবাদিকবৃন্দ, 
আপনারা জানেন, ১৯১৯ সালে প্রথম সিলেটে আসেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই আগমনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন সিলেটের রবীন্দ্রপ্রেমিদের নিয়ে সিলেটে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আগমনের শতবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ শীর্ষক অনুষ্ঠান হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। ইতোমধ্যে ‘সিলেটে রবীন্দ্রনাথ : শতবর্ষ স্মরণোৎসব’ এর লোগো উন্মোচন করেছেন উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক ও সাবেক অর্থমন্ত্রী জনাব আবুল মাল আবদুল মুহিত। 
সুধীজন,
এই নগরীর বস্তিবাসী মানুষ ও হতদরিদ্র মানুষের জন্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নতুন একটি উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বস্তিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে মা ও শিশুদের চিকিৎসা সেবায় নতুন অধ্যায় রচিত হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আমরা নগর মাতৃসদন ও ডায়গনস্টিক সেন্টার চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যেখানে মা ও শিশুদের জন্যে বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা থাকবে। আপনারা জানেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন টেস্টের জন্যে অনেক টাকা গুনতে হয়, গরীব রোগীরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন। এমতাবস্থায় আমরা এই নগর ডায়গনিস্টক সেন্টারে একেবারে স্বল্পমূল্যে রোগ নির্ণয় ব্যবস্থা চালু করতে চাই। যাদের একেবারেই সামর্থ্য নেই তাদেরকে বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। সিলেটের কুমারপাড়ায় আমাদের নতুনভাবে নির্মিত বহুতল ভবনেই এই সেন্টারটি চালু করা হবে। আমরা এজন্যে দেশী বিদেশী দাতা সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাইছি। ইতোমধ্যে আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় কোটি টাকা এই প্রকল্পে অনুদান দিয়েছেন। এজন্যে পূবালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এছাড়াও আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। সবাই মিলে এখানে আমরা এমন একটি সেন্টার চালু করতে চাই যা দেখে অন্য সিটি কর্পোরেশন আমাদেরকে অনুসরণ করবে। 
নাগরিক সুধীজন,
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ সিটি কাউন্সিলের সাথে আমরা একটি ফ্রেন্ডশিপ লিংক করেছিলাম। এই লিংকের আওতায় কানেকটিং ক্লাসরুম প্রজেক্টের মাধ্যমে সিলেটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এখনও উপকৃত হচ্ছেন। কার্ডিফের সাথে আমাদের ফ্রেন্ডশিপ লিংকের পরিসর বৃদ্ধি করার প্রচেষ্টা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। এই উদ্যোগে শুরু থেকে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় কার্ডিফ সিটি কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি লর্ড মেয়র ও বর্তমান কাউন্সিলর আলী আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ কাউন্সিলের সাথে ফ্রেন্ডশিপ লিংকের ব্যাপারে আমাদের আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের সাথে আমাদের এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় ওয়েলস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট দিলাবর হোসেন ও সেক্রেটারী জেনারেল ম্যাবস নূরকে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাথে অতীতে আমাদের একটি ফ্রেন্ডশিপ লিংক ছিল, সেই ফ্রেন্ডশিপ লিংককে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস এর স্পিকার, কাউন্সিলর আয়াস মিয়ার সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি তিনি সিলেটে এসে এই ব্যাপারে বৈঠক করে তা গতিশীল করতে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, এজন্য তার প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।
সুধীবৃন্দ, 
কথা অনেক হয়ে গেছে। এবার আমি আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের সহযোগিতা কামনা করে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করছি। 
সিলেট নগরীর সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে অধিকতর সুযোগ সুবিধা ও সেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবার (২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে) সর্বমোট ৭৮৯ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা আয় ও সমপরিমাণ টাকা ব্যয় ধরে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেটে উল্লেখযোগ্য আয়ের খাত গুলো হলো হোল্ডিং ট্যাক্স ৪৪ কোটি ০৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি হস্থান্তরের উপর কর ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, ইমারত নির্মাণ ও পুনঃ নির্মাণের উপর কর ২ কোটি টাকা, পেশা ব্যবসার উপর কর ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, বিজ্ঞাপনের উপর কর ১ কোট ২০ লক্ষ টাকা, বিভিন্ন মার্কেটের দোকান গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের ফি ও নবায়ন ফিস  বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা, ঠিকাদারী তালিকাভুক্তি ও নবায়ন ফিস  বাবদ ২৮ লক্ষ টাকা, বাস টার্মিনাল ইজারা বাবদ আয় ৬০ লক্ষ টাকা, খেয়াঘাট ইজারা বাবদ ২০ লক্ষ টাকা, সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি ও দোকান ভাড়া বাবদ ৯০ লক্ষ টাকা, রাস্তা কাটার ক্ষতিপূরণ বাবদ আয় ১০ লক্ষ টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে আয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা, পানির সংযোগ লাইনের মাসিক চার্জ বাবদ বছরে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, পানির লাইনের সংযোগ ও পুনঃসংযোগ ফিস বাবদ ১ কোটি টাকা, নলকুপ স্থাপনের অনুমোদন ও নবায়ন ফি বাবদ ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আয় ধরা হয়েছে। সম্মানীত নগরবাসী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য বকেয়া পাওনা পরিশোধ করলে বাজেট বছরে সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব খাতে  ৭৯ কোটি ৪২ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। 
সরকারী উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারী বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী খাতে ১০ কোটি টাকা, অন্যান্য প্রকল্প মঞ্জুরী বাবদ ১ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২০০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর ১১টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ৩৪ কোটি টাকা, ভারতীয় অনুদানের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় জমি অধিগ্রহণ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, দক্ষিণ সুরমা শেখ হাসিনা শিশু পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১ কোটি টাকা,  বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ প্রকল্প খাতে ৫  কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশন এসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণ/ক্রয় খাতে ৫০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন স্থাপন খাতে ২ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের প্লাষ্টিক রিসাইক্লিন প্লান্ট স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, এম. সাইফুর রহমান কলেজ নির্মাণ প্রকল্প খাতে ৫ কোটি টাকা, কুমারপাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের নগর মাতৃসদন ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার স্থাপন খাতে ১০ কোটি টাকা, লালমাটিয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড উন্নয়ন খাতে ৬০ কোটি টাকা, পানি শোধনাগার এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রয় প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানেটারী ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় এমজিএসপির সহায়তায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৬৫ কোটি টাকা,  উৎপাদন নলকূপ স্থাপন খাতে ২ কোটি টাকা, পানির লাইন স্থাপন খাতে ৩ কোটি টাকা, ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর গণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প ২ কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্প খাতে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা, ইউনিসেফের অর্থায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক পরিসেবা কাঠামো শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বাবদ ৯০ লক্ষ টাকা, নগরীর বস্তি সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ৫০ লক্ষ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্রকল্প লালদিঘী বঙ্গবন্ধু মালটিপ্লান কমপ্লেক্স নির্মাণ, পৌরবিপনীতে আইসিটি ভবন নির্মাণ, ধোপাদিঘীতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে আয় বাবদ মোট ৭৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 
বাজেটে রাজস্ব খাতে মোট ৬৭ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে। তন্মধ্যে সাধারণ সংস্থাপন খাতে ২৯ কোটি ০৭ লক্ষ টাকা, শিক্ষা ব্যয় খাতে ৪ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা, সামাজিক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধি ও মুক্তিযোদ্ধাদের অনুদান খাতে ২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালী ব্যয় খাতে ১০ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ খাতে ২০ লক্ষ টাকা, বৃক্ষ রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় খাতে ২০ লক্ষ টাকা, মোকদ্দমা ফি ও পরিচালনা ব্যয় খাতে ৩০ লক্ষ টাকা, জাতীয় দিবস উদযাপন খাতে ব্যয় ২৫ লক্ষ টাকা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন খাতে ব্যয় ১ কোটি টাকা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি ব্যয় খাতে ২০ লক্ষ টাকা, মেয়র কাপ ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্ণামেন্ট ব্যয় বরাদ্দ ৫০ লক্ষ টাকা, মেয়র কাপ ব্যাডমিন্টন টুর্ণামেন্ট ব্যয় বরাদ্দ ১০ লক্ষ টাকা, রিলিফ/ জরুরী ত্রাণ ব্যয় বরাদ্দ ২৫ লক্ষ টাকা, আকষ্মিক দুর্যোগ/বিপর্যয় ব্যয় বরাদ্দ ২৫ লক্ষ টাকা, রাস্তা আলোকিতকরণ ব্যয় বরাদ্দ ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা, কার্যালয়/ভবন ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ১ কোটি টাকা, নিরাপত্তা/ সিকিউরিটি পুলিশিং ব্যয় খাতে ৩০ লক্ষ টাকা, অনান্য ব্যয় খাতে ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ এবং পানি সরবরাহ শাখার সংস্থাপন ব্যয় সহ পানির লাইনের সংযোগ ব্যয়, পাম্প হাউজ, মেশিন, পাইপ লাইন মেরামত ও সংস্কার সহ মোট ১২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বাজেটে রাজস্ব খাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যয় বাবদ মোট ৫২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তন্মধ্যে রাস্তা নির্মাণ, রাস্তা মেরামত/সংস্কার, ব্রীজ/কালভার্ড নির্মাণ, ব্রীজ/কালভার্ড মেরামত/ সংস্কার, ড্রেুন নির্মাণ/ মেরামত, সরঞ্জাম যন্ত্রপাতি ও সম্পদ ক্রয়, সিটি কর্পোরেশনের ভবন নির্মাণ/মেরামত, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ষ্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ ও সংস্কার, ঢাকায় সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব লিয়াজো অফিস/ফ্ল্যাট ক্রয়, কসাই খানা নির্মাণ/ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাজার, কবর স্থান/শশ্মান ঘাট/ঈদগাহ উন্নয়ন, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষায় গ্যারেজ নির্মাণ, সিটি কর্পোরেশনের যানবাহন রক্ষণাবেক্ষনে ওয়ার্কসপ নির্মাণ, হাট বাজার উন্নয়ন, বাস টার্মিণাল  সংস্কার ও উন্নয়ন,  সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পাঠাগার নির্মাণ, নাগরিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, গভীর নলকূপ স্থাপন, নারীদের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ, এমজিএসপি প্রকল্পের রক্ষনাবেক্ষন কাজের নিজস্ব অর্থ ব্যয়, সিটি কর্পোরেশনের জন্য এ্যাম্বুলেন্স ক্রয় সহ ইত্যাদি ব্যয় উল্লেখযোগ্য।    
এছাড়া সরকারী উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী খাতে ২০ কোটি টাকা, সরকারী বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরী খাতে ১০ কোটি টাকা, অন্যান্য প্রকল্প মঞ্জুরী বাবদ ১ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ২০০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর ১১টি ছড়া সংরক্ষণ ও আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ৩৪ কোটি টাকা, ভারতীয় অনুদানের সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নত পরিবেশ ও শিক্ষার মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, দক্ষিণ সুরমায় জমি অধিগ্রহণ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, দক্ষিন সুরমায় শেখ হাসিনা শিশু পার্কে রাইড স্থাপন প্রকল্প খাতে ১০ কোটি টাকা, সিলেট মহানগরীর যানজট নিরসন ও সৌন্দর্যবর্ধন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প খাতে ১ কোটি টাকা,  বিভিন্ন ছড়া খনন ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ প্রকল্প খাতে ৫  কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশন এসফল্ট প্লান্ট স্থাপন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে জমি অধিগ্রহণ/ক্রয় খাতে ৫০ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ফিলিং স্টেশন স্থাপন খাতে ২ কোটি টাকা, সিটি কর্পোরেশনের প্লাষ্টিক রিসাইক্লিন প্লান্ট স্থাপন খাতে ৫ কোটি টাকা, এম. সাইফুর রহমান কলেজ নির্মাণ প্রকল্প খাতে ৫ কোটি টাকা, কুমারপাড়ায় সিটি কর্পোরেশনের নগর মাতৃসদন ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার স্থাপন খাতে ১০ কোটি টাকা, লালমাটিয়ায় ডাম্পিং গ্রাউন্ড উন্নয়ন খাতে ৬০ কোটি টাকা, পানি শোধনাগার এর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বোতলজাত করে বিক্রয় প্রকল্পের জন্য ১০ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্যানেটারী ল্যান্ড ফিল্ড নির্মাণ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকা, এমজিএসপির সহায়তায় দক্ষিণ সুরমায় আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পে ৬৫ কোটি টাকা,  উৎপাদন নলকূপ স্থাপন খাতে ২ কোটি টাকা, পানির লাইন স্থাপন খাতে ৩ কোটি টাকা, ২৭টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর গণের স্থায়ী অফিস স্থাপন প্রকল্প ২ কোটি টাকা, এমজিএসপি প্রকল্প খাতে বরাদ্দ ৫ কোটি টাকা, ইউনিসেফের অর্থায়নে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক পরিসেবা কাঠামো শক্তিশালীকরণ প্রকল্প বাবদ ৯০ লক্ষ টাকা, আরবান প্রাইমারী হেল্থ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প ৫০ লক্ষ টাকা, নগরীর বস্তি সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প খাতে ৫০ লক্ষ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব প্রকল্প লালদিঘী বঙ্গবন্ধু মালটিপ্লান কমপ্লেক্স নির্মাণ, পৌরবিপনীতে আইসিটি ভবন নির্মাণ, ধোপাদিঘীতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় বাবদ মোট ৭৪ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। 
বাজেট তৈরীতে এবার সহযোগিতা করেছেন অর্থও সংস্থাপন কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর জনাব তাকবির ইসলাম পিন্টু ও সদস্য কাউন্সিলর জনাব রাশেদ আহমদ, কাউন্সিলর বেগম নাজনীন আকতার কনা, কাউন্সিলর জনাব এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জল, কাউন্সিলর জনাব সোহেল আহমদ রিপন এবং সদস্য সচিব প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা জনাব আ.ন.ম. মনছুফ। তারা যে সময় ও শ্রম দিয়েছেন সেজন্য তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
সাংবাদিক ও সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ, 
বাজেট বক্তৃতা হচ্ছে গেল বছরের কর্মতৎপতা এবং নতুন বছরের স্বপ্ন ও কর্মপরিকল্পনার বিবরণ। বাস্তবায়নে অতীতের মতো আপনাদের সহযোগিতা পাব- এ বিশ্বাস আমার আছে। বিগত দিনে আমি সরকার এবং দলমত নির্বিশেষে নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা পেয়েছি। এবারও ইনশাল্লাহ এর ব্যতিক্রম হবে না। 
আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন, সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, সিলেটপ্রেমী ব্যক্তিত্ব, মরহুম এম সাইফুর রহমানের সাথে একনিষ্ঠভাবে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, যা ছিল আমার জীবনের এক পরম পাওয়া। সেই সুবাদে তাঁর কাছ থেকে আমি রাজনৈতিক মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠে উন্নয়ন কাজে মনোনিবেশ করার বিষয়টি রপ্ত করেছি। সিটি কর্পোরেশনও দলমত নির্বিবেশে সকলের। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমি এবং আমার সম্মানিত কাউন্সিলরবৃন্দ কাজ করে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিগত দিনে আমার দায়িত্ব পালনকালে সিলেট প্রেমী আরেক ব্যক্তিত্ব, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আমাকে যেভাবে আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন সেজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। 
রাজনৈতিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সিলেটের কৃতি সন্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মাহবুব আলী এমপিসহ দলমত নির্বিশেষে সিলেটের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিলেটের সুধীজনসহ সর্বস্তরের জনগণ সিলেটের উন্নয়নে একাত্ব ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের বন্ধনে চির আবদ্ধ থাকবেন-আমি সেই প্রত্যাশা করি। আমি মনে করি সিলেটকে আরও আধুনিক করে গড়ে তুলতে আমাদের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
সমাজের দর্পণ আপনারা। সেই সুবাদে আমার কাজগুলোও আপনারা দেখছেন। কখনো ত্রুটি-বিচ্যুতি হলে আপনাদের পর্যবেক্ষণ থেকে সেটাও তুলে ধরছেন। এটাই সহযোগিতা। আগামীর সিলেট বিনির্মাণে আপনারা যারা স্বতঃফূর্তভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সেইসব প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্মানিত সাংবাদিকদের প্রতি আমি অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। 
আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে সুন্দরতর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় এখানেই আমার বক্তব্য শেষ করছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

(আরিফুল হক চৌধুরী)
মেয়র, সিলেট সিটি কর্পোরেশন।


 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর