শনিবার   ১৯ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ১৯ সফর ১৪৪১

৩৬৫

মধ্যবিত্তের দুয়ারে উপস্থিত খুশির ঈদ:ফাহাদ হোসাইন

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০১৯ ২৩ ১১ ২৩  

মধ্যবিত্তের দুয়ারে আবার  উপস্থিত খুশির ঈদ। মধ্যবিত্তের জীবনে আনন্দের উপলক্ষ খুব একটা আসেনা। মধ্যবিত্ত জীবনে তাই ধর্মীয় এবং সামাজিক উৎসবগুলোই আনন্দের প্রধান উৎস।  মধ্যবিত্ত সমাজ জীবনের পুরোটা সময় যুদ্ধ করে বাস্তবতার সঙ্গে।

পৃথিবীর সমস্ত কঠিন বাস্তবতা যেন তাদের ঘিরেই তৈরি হয়। এক অদৃশ্য দেয়াল ঘিরে  বর্তমানে মধ্যবিত্তের সব ব্যয় নির্বাহ করে সমাজে টিকে থাকাটাই কঠিন। বর্তমান বাজার বাস্তবতায় এ শ্রেণির মানুষের অবস্থা বেহাল।
যে কোন আনন্দ উৎসবের সাথে নতুন পোষাক বা কেনাকাটার একটা সম্পর্ক আছে। উৎসবের এই কেনাকাটা মধ্যবিত্তদের কাছে বজ্র আঁটুনির ফস্কা গেরোর মত।

পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকেই হোক কিংবা সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই হোক ঈদ আসলে মধ্যবিত্ত মানুষগুলো মার্কেটে ভীড় জমায়। বাইরে থেকে ঘুরে ঘুরে জিনিষপত্র দেখা, মনে মনে ভাবা নিশ্চয় সামনে আরো ভাল কালেকশন আসবে, তখন এই দোকানে আসব। হয়তো পছন্দের জিনিষে একটু হাত বোলানো, একটু স্পর্শ করা সবই ঈদকে সামনে রেখে কিছু সুন্দর কল্পনা ও বাস্তবতার তাগিদে হয়তো অনেকের এই কল্পনাটুকু বাস্তবে রুপ নেয়না। ঘুরে ফিরে কিছুটা অপুর্ণতা এবং সেই পুরনো

স্বপ্নে ফিরে যাওয়া, এইবার হয় নি, আগামীবার হবে। সন্তানের কান্না ভেজা চোখ, স্ত্রীর অভিমানী হাসি, একজন বাবার পরাজিত চেহারা, একজন স্বামীরহতাশার দৃষ্টি এসব্ই হয়তো মধ্যবিত্তের ঈদ ভাবনা, মধ্যবিত্তের ঈদ বাজার।ঈদ আসে, ঈদ চলে যায়। কিন্তু মধ্যবিত্তের ঈদ উদযাপনের কোন তারতম্য ঘটেনা।মধ্যবিত্তের সংজ্ঞা অনেকটা রবিন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মত।

তিনি বলেছিলেনযে গল্প শেষ হইয়াও হয়না শেষ তাহাই ছোট গল্প। তেমনি মধ্যবিত্তের সব ইচ্ছা আহলাদ পূরণ হয়েও অপূর্ণ থেকে যায়। এটা কিনলে ওটা কেনা হয় না। কিছু পেলামতো কিছু ছাড় দিলাম। সমাজের সংগে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে মধ্যবিত্তের সংসারে কাউকে না কাউকে অনেক কিছুই ছাড় দিতে হয়। মধ্যবিত্তের জীবন আসলে শাখেরকরাত-দুদিকেই কাটে।

সব রক্ষা করে বা নিয়ম মেনে চলার একমাত্র দায়িত্ব শুধুএই মধ্যবিত্তদের। সামাজিক প্রতিবন্ধকতাগুলো মেনে নেয়াই যেন মধ্যবিত্তের দিনাতিপাত। এভাবে প্রতিবছর সপ্নগুলোকে ভোকের ভিতরে পোষণ করে রাখেন।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর