সোমবার   ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২৩ মুহররম ১৪৪১

৮৭৫

ফেঞ্চুগঞ্জে দফায় দফায় হামলা, যুবতীকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা

প্রকাশিত: ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১ ০১ ০৮  

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি:: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯জন। ঘটেছে মধ্যরাতে যুবতীদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা! 
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়ার মধ্যযুধিষ্ঠিপুর গ্রামে। একাধিক সুত্র জানায়,গ্রামের তারেক মিয়া ও শাহাব উদ্দিন মিলে মাছ শিকারের জন্য একটি নৌকা কিনেন। একই গ্রামের গৌস মিয়া সেই নৌকাটি লাকড়ি আনার জন্য তারেক মিয়ার কাছ থেকে চেয়ে নেন।
দুপুরে গৌস মিয়ার ছেলে রুহানকে নৌকা দেখে ক্ষেপে যান শাহাব উদ্দিন। তিনি নৌকার অপর মালিক তারেক মিয়াকে জানালে তারেক মিয়া বলেন, নৌকা আমিই দিয়েছি। কোন ক্ষতি হলে আমি বুঝব। এরপর শাহাবুদ্দিন চলে এসে নৌকায় থাকা রুহান কে গালাগালি করে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। রুহানের মা ও বাবা এসে রুহান কে ছাড়িয়ে নিতে চাইলে শাহাব উদ্দিন গংরা লাঠি, দা দিয়ে হামলা করেন। এতে গৌস মিয়া উনার স্ত্রী ও মা আহত হোন। দায়ের কোপ থেকে বেচে যায় ছোট্ট রুহান। নৌকার মালিক তারেক মিয়া সহ স্থানীয় লোকজন মারামারি আটকিয়ে গৌস মিয়াদের হাসপাতালে পাঠাবার ব্যবস্থা করেন।
পথিমধ্যে আবার সংঘবদ্ধ হামলা চালায় শাহাব উদ্দিন গং। গৌস মিয়ার আত্মরক্ষার জন্য পালটা হামলা চালালে উভয় পক্ষের ৯জন আহত হোন। ঘটনার মধ্যস্থতাকারী ফয়সল আল মামুন বলেন, আমরা শাহাব উদ্দিন কে মারামারি কারন জিজ্ঞেস করতে গেলে আমাদের উপরও হামলা চালায়! হামলার শিকার গৌস মিয়া গং রা বলেন, দিনে আমাদের উপর ২দফা হামলা করে বাড়িঘরে আক্রমণ করা হয়েছে। বাড়ির যুবতী মেয়েদের লাঞ্চিত করা হয়েছে। পরে মধ্যরাতে আবারো অনুমান ৭টি মোটরসাইকেল যোগে ভাড়াটে গুন্ডা এনে এনে বাড়িতে হামলা চালায় শাহাবুদ্দিন গং। গুন্ডারা বাড়ির যুবতী মেয়েদের তুলে নিয়ে যাওয়ার জোরজবরদস্তি চাকায়। বাচার জন্য তখন বাড়ির লোকজনের চিৎকারে পাশের হাকালুকি হাওরের জেলেরা এগিয়ে এলে গুন্ডারা পালিয়ে যায়। এ অবস্থায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঘটনায় আমরা খুব ভয়ের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছি। ফয়সলরা ভয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না বলে জানান। এ ব্যাপারে নৌকার মালিক তারেক মিয়া সত্যতা স্বীকার করে জানান, নৌকা আমি দিয়েছি সে চুরি করে নেয় নি। তাও শাহাব উদ্দিনরা কেন হামলা করলো বুঝিনি। দ্বিতীয় দফা হামলার ব্যাপারে তিনি বলেন, হ্যা ঘটনা সত্য, হাসপাতালে যাওয়ার পথে আবারো হামলা করে শাহাবুদ্দিন গং তখন ধরাধরি করতে যেয়ে আমি নিজেও আহত হই!
তিনি আরো জানান, মধ্যরাতে তৃতীয় দফা হামলার ব্যাপারে তিনি ফোন পেয়ে সকালে এসে দেখেন, গৌস মিয়ার বাড়ির বেড়া,টিন কোপানো!
একটি গ্রামের ভিতর এত সন্ত্রাসীকান্ড মেনে নিতে পারছেন না কেউ ই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক যুব নেতা বলেন, মারামারি ঘটনা শালিসে বা পুলিশে সমাধান হবে কিন্তু গ্রামের ভিতরে মধ্যরাতে ভাড়াটে গুন্ডা এনার ঘটনা আতংকজনক। বিষয়টা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।
এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাসার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর