রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

১৯৩

ফেঞ্চুগঞ্জে ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাজানো নাটক, অত:পর সহচর গ্রেফতার

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০১ ০১ ০৬  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মুহাম্মদ হাবিলুর রহমান জুয়েল, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে::  সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ছত্তিশ গ্রামের  তোতা মিয়ার ছেলে  পিকআপ চালক  মনসুর আহমদ (৩০) একই গ্রামের আকামত আলীর ছেলে উপজেলা আনসার ভিডিপির (পিসি) মোঃ শাহজাহানকে(৩৩) পূর্ব বিরোধিতার জেরে মাদকদ্রব্য সহ  ফাসাতে গিয়ে ২৫ পিস  ইয়াবা, সাত হাজার পাচশত টাকা ও  বিপুল পরিমাণ গাজাসহ গ্রেফতার হয়েছেন মাদক ব্যবসায়ী মনসুরের  সহচর আনিসুর রহমান বিন্নাস(২০) । ঘটনাটি ১৬ ই সেপ্টেম্বর  সোমবার  রাত প্রায় ১ ঘটিকার দিকে ঘটে৷ এজহার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ঐদিন বিকেল বেলা মনসুর তার সহচর বিন্নাসকে  দিয়ে শাহজাহানের বাড়িতে গোপনে ইয়াবা ও গাজা লুকিয়ে রাখায়। ঐ সময় শাহজাহান বাড়িতে  উপস্থিত ছিলেন না। রাতে মনসুর সিলেট (দক্ষিণ) জেলা গোয়েন্দা এস আই সৈয়দ ইমরোজ তারেককে অভিযোগ  জানান শাহজাহানের বাড়িতে মাদক রয়েছে। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ঐদিন রাতে শাহজাহানের বাড়িতে তল্লাশি করে কোন মাদকদ্রব্য না পেয়ে অভিযোগকারী মনসুরকে ফোন দেন এবং মনসুর মাদকের  বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণ করানোর জন্য তাৎক্ষণিক তার সহচর আনিসুর রহমান বিন্নাসকে (২০)ঘটনাস্থলে পাঠান। এবং সেখানে সে এসে ডিবি পুলিশকে খোঁজে বের করে দেয় ২৫ পিস ইয়াবা পেকেটের ভেতর থাকা নগদ সাড়ে সাত হাজার টাকা, বিপুল পরিমাণ গাজা ও আরও কিছু মাদকদ্রব্য। পুলিশ সেটিকে সাজানো নাটক আগেই বুঝে ফেলার কারনে তাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কি করে জানো এই জায়গায় ইয়াবা রাখা আছে? তখন বিন্নাসকে  পুলিশ আটক করলে সে প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেয় যে মনসুর তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছিল শাহজাহানের বাড়ির পাশে এসব রাখতে। তখন তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন।  এবং মনসুর বিষয়টি টের পেয়ে  এখনো পলাতক। মনসুর মামলার পলাতক আসামি বলে এজহারে উল্লেখ রয়েছে। (এম পি সি নং ৪৭৬/১৯)।  এ ব্যপারে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি মানহানির অভিযোগ করেছেন শাহজাহান। বিষয়টি অবগত হয়েছেন বলে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, এব্যপারে থানায় এসে মোহাম্মদ শাহজাহান একটি মৌখিক অভিযোগ করে গেছেন। তবে সু-নিদ্রিষ্ট প্রমাণ ও ডিবি পুলিশের নিকট আসামি থাকায় তাদের ডিবি পুলিশের রেফারেন্স না আসা পর্যন্ত  মনসুরকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না৷ তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। সিলেট (দক্ষিণ) শাখার গোয়েন্দা কর্মকর্তা সৈয়দ ইমরোজ তারেক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একটি গাড়ি নিয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ১নং সদর ইউনিয়নের ছত্তিশ গ্রামে ফোর্সসহ আসি। আসার পর অভিযোগকারীর কোন সন্ধান না পেয়ে তল্লাশি চালানোর পরও কিছু না পাওয়ায় অভিযোগকারীর সাথে যোগাযোগ করি এবং সে না এসে অন্য একজনকে পাঠায়(বিন্নাস) যার কারনে আমরা এটাকে সাজানো নাটক হিসেবে ভেবে নেই। যার প্রমান স্বরুপ গ্রেফতারকৃত বিন্নাস ছত্তিশ খায়রতি মসজিদের পাশের রাস্তা থেকে যেখানে শাহজাহান মিয়ার বাড়ি সেখান থেকে আমাদের মাদকদ্রব্যগুলো বের করে  দেয়। এবং উপস্থিত স্থানীয় লোকজনের স্বাক্ষী মোতাবেক আমরা জানতে পারি সে ও তার গডফাদার মনসুর দুজনেই দীর্ঘদিন থেকে মাদকের ব্যবসা করছে। আমরা প্রমানসাপেক্ষে তাকে গ্রেফতার করেছি। এর পূর্বেও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শাহজাহান মিয়ার উপর কয়েকবার হামলা করেছিল মনসুর বলে জানান শাহজাহান মিয়া৷ এর প্রমানসাপেক্ষে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় কয়েকটি জিডি করেছিলেন তার নিরাপত্তার জন্য।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর