বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

৬৭৯

ফেঞ্চুগঞ্জের চানপুর পয়েন্টে ব্রীজ ভাড়ার নামে লক্ষ টাকা আত্মসাৎ 

প্রকাশিত: ৮ আগস্ট ২০১৯ ২০ ০৮ ২৮  

মুহাম্মদ হাবিলুর রহমান জুয়েল::  বুধবার দুপুরে সরজমিন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চানপুর পয়েন্টের টুলবক্সের কাছে ব্রীজ পার হয়ে বিকল্প রাস্তা ধরে চানপুর, ডাইকের বাজার, দনারাম, মানিকোনা যাওয়ার রাস্তায় টিন দ্বারা নির্মিত বিশেষ টুলবক্সের ভেতরে গিয়ে দেখা গেল তিনজন মানুষ ও তিনটি চেয়ার এবং একটি টেবিল রাখা। কিন্তু সেখানে নেই কোন রশীদ বই বা কাগজপত্র। 
প্রশ্ন করলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, আমরা এখান থেকে ব্রীজ ভাড়া সংগ্রহ করি। কিন্তু প্রশ্ন ছিল 'ব্রীজ ভাড়ার রশীদ কোথায় ' উত্তর দিলেন এটার কোনো প্রয়োজন হয় না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখা গেল কয়েকটি গাড়ি আটকিয়ে টাকা আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু কোন রশীদ দেওয়া হচ্ছেনা৷ সেখানে থাকা একজন ব্যক্তি চেয়ারে বলে আছেন তার হাতে টাকা এনে দেওয়া হচ্ছে৷ তিনি তা গুনে পকেটে ডুকাচ্ছেন। 

আবারও প্রশ্ন- এই টাকাগুলো আপনারা কি করেন?
উত্তর আসল টুলবক্সে নিয়ে জমা দেই৷ কিন্তু রশীদ দেওয়া হয় না৷ কত টাকা দেন তারও কোন হিসেব নেই৷ তাহলে এই অর্থের কি কোন হিসাব আছে৷ নাকি এই অর্থ কোন ব্যক্তির পকেটে ঢুকে। অবশ্য সেব্যপারে তারা মুখ খুলতে নারাজ৷ আবার কে বা কারা এর লিজ নিয়েছে তাদের নাম বলতেও তাদের আপত্তি। 

টাকার হিসাব চাইলে তাদের উত্তর - আমাদের এখানে কয়টি গাড়ি যায় তা আমাদের জানা আছে। সেজন্য আমাদের কোন হিসাবের প্রয়োজন হয় না। আবার রশীদ বই দেখতে চাইলে একটি কুড়িয়ে পাওয়া রশীদের কপি দেখালেন। কিন্তু তাদের কাছে কোন রশীদ বই বা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। 

আবার টুলবক্সে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। সেখানে ঠিকই গাড়ির টুল ফি সঠিকভাবে আদায় করা হচ্ছে কিন্তু ফেঞ্চুগঞ্জ ফেরিঘাটের কোন গাড়ির টুল ফি নাকি লাগে না৷ এজন্য কোন চুক্তি আছে কিনা তাও বলেননি কতৃপক্ষ।

টুলবক্সের দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার মনসুর আলী জানান, এখানে ভালবাবেই টুল ফি আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু ফেরিঘাটের কোন গাড়ির টুল ফি লাগে না। কেন লাগেনা তার উত্তর তিনি এড়িয়ে গেলেন।  জানালেন মাঝে মাঝে এখানে নাকি হামলা হয় - অর্থ লুটপাট করে কতিপয় একটি মহল। 
এর ইজারা তিন বছরের জন্য নাকি আনা হয়েছে। 

মূল ইস্যু চানপুর পয়েন্টের অর্থের ব্যপারে কেউ কিছু জানেন না। এমনকি তিনি জানালেন এই অনিয়মের ব্যপারে নাকি পুলিশ সহ প্রায় সরকারি কর্মকর্তা জানেন। 

এক হিসাবে দেখা গেছে এই রশীদবিহীন অনিয়মের কারণে প্রতি বছর সরকার প্রায় এক কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর