মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

২৬৯

প্রশাসনের বাঁধা অমান্য করে চলছে বালু সিন্ডিকেটের কারবার

প্রকাশিত: ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৩ ০১ ২২  

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি:: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বালু উত্তোলনের জন্য চিহ্নিত অবৈধ সিন্ডিকেট কুশিয়ারা নদীর উপর নির্মিত কুশিয়ারা সড়ক সেতুর দক্ষিন পারে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন, মজুদীকরণ কাজ আবার শুরু করেছেন। বালু উত্তোলন ও মজুদীকরণের কোর বৈধ অনুমোদন, লীজ বা সরকারের কোন রাজস্ব ব্যতিত এ সিন্ডিকেট তাদের কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। বালু আনলোড পয়েন্টে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা এবং চানপুর-মানিককোনা সড়কে রোড ক্রসের নামে অপরিকল্পিত এবং সড়ক বিভাগের কোনরুপ অনুমোদন ছাড়াই ইচ্ছামত সড়কের ক্ষতি করে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতায় সরবরাহ পাইপ লাইন বসানোয় এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ক্ষতি, জনসাধারনের সুবিধা বিবেচনায় গত ২৭ আগষ্ট তারিখ ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সরেজমিনে একটি অভিযান পরিচালনা করে সরবরাহ পাইপ অপসারন করেন । অফিসার ইনচার্জ এর এরুপ পদক্ষেপে জনমনে স্বস্থি নেমে আসে এবং প্রশাসনের ভূমিকা ব্যাপক প্রসংসিত হয়। 

উল্লেখ্য যে, উক্ত স্থানে ইতোপূর্বে একাধিকবার উপজেলা ও থানা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা, আটক ইত্যাদি ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কিছু দিনের মধ্যে সিন্ডিকেট আবার সক্রিয় হয়ে যায়। একই স্থানে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা, জরিমানা, আটকের ঘটনার  পরও এ অবৈধ চক্র না থামায় সকল মহলকে হতবাক করেছে। জনশ্রুতি রয়েছে যে, বিভিন্ন দপ্তর, রাজনৈতিক আশ্রয়দাতাদের ভাগ-বাটোয়ারায় বেশকম হলেই অভিযান করে ভাগবাটোয়ারার অংশ নিশ্চিত করা হয়। 

ওসি নিজে অভিযান পরিচালনার মাত্র ১ সপ্তহের মধ্যে আবার ঐ সিন্ডিকেট তাদের কাজ শুরু করলে প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়টি পুরো উপজেলা ব্যাপী হাসির খোরাক হিসেবে নিয়েছেন। জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে ১ সপ্তাহের মধ্যে কি এমন ঘটে গেল যে সম্পূণ অবৈধ কাজটি রাতের আধারে হালাল হয়ে গেল?

সরেজমিন বিভিন্ন ব্যক্তি, সুশীল সমাজ, প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের সাথে আলাপ করলে কেউই এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজী নয় দেখা যায়। নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে যেসকল তথ্য পাওয়া গেল, তাতে জানা যায় যে, স্থানীয় সরকারদলীয় কিছু নেতা, বিএনপির চিহ্নিত কয়েকজন নেতা এ সিন্ডিকেটে রয়েছেন। সরেজিমনে তাদেরকে স্পটেওে একত্রে কাজ করতে দেখা যায়।

খোজ নিয়ে জানা যায় যে, সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ এ তিন উপজেলার কোথাও কুশিয়ারা নদীতে সরকারী বালুমহাল লীজ হয়নি। এমনকি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় কুশিয়ারা নদী বালুমহাল নামে একটি মহাল থাকলেও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি মহামান্য হাইকোর্টে পরিবেশ ক্ষতির বিষয় উল্লেখ করে রীট মামলা করলে বিজ্ঞ উচ্চ আদালত ঐ বালুমহালটির ইজারার সকল কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। ফলে, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট হতে আর কোন ইজারাও প্রদান করা হয়নি।

ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কোন বৈধ সরকারী বালুমহাল না থাকা সত্তেও প্রশাসনের নাকের ডগায় ইউএনও অফিসের ঠিক বিপরীত দিকে কিভাবে কোথা হতে এখানে বালু উঠে সে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। 

বিভিন্ন সুত্রে আরো জানা যায় যে, রাতের আধারে কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন অংশ হতে বালু উত্তোলন করে দিনে আনলোড করা হয়। 

যেখানে কুশিয়ারা নদীর পরিবেশ ক্ষতির কারনে উচ্চ আদালত একটি সরকারী বালুমহাল ইজারা স্থগিত করেছেন সেখানে কুশিয়ারা নদী হতে আবার বালু উত্তোলনের বিষয়টি নদীর পারে বসবাসকারী জনসাধারনের আতংক সৃষ্টি করেছে। 

এ সিন্ডিকেট প্রতিদিন গড়ে ২ থেকে ৩ লক্ষ সিএফটি বালু উত্তোলন করে নদী পথে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন এবং মজুদ করছেন। এতে প্রতিদিন সরকার বিপুল পরিমানে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছেন এবং একই সাথে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও মজুদের ফলে পরিবেশের অপুরনীয় ক্ষতি হচ্ছে।

অপরিকল্পিত হাউজিং ব্যবসার নামে ফেঞ্চুগঞ্জে অবাধে চলছে কৃষি জমি ভরাট ও খাল, কালভাট ইত্যাদির উৎসমুখ ভরাট। সরেজমিন দেখা যায় চানপুর-সিলেট রোডের কয়েকটি স্থানে একাধিক কালভাটের নিচের অংশ ভরাট করে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। 

কিছু কালভার্টের নিচে নামমাত্র ছোট পাইপ বসানো হয়েছে যা সহজে পানি প্রবাহকে বাধাগ্রস্থ করে। যত্রতত্র হাউজিং না করা, কৃষি জমি ভিন্ন কাজে ব্যবহার না করার বিষয়ে সরকারের শীষ মহলের নির্দেশনা থাকার পরও ফেঞ্চুগঞ্জে নির্দেশ মানা হচ্ছে না।

সিন্ডিকেটের খুটির জোর বিষয়ে অনুসন্ধানে পুরো সরেজমিন কাজটি দুদিন ব্যাপী করা হয়। ঘুরে ফিরে জানা যায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের এলাকায় ক্লীন ইমেজ থাকলেও সংসদ সদস্যের বলয় ঘেষা নেতাকর্মী  এমপি সাহেবের কাছের লোক পরিচয়ে একটি ভয়ের আবহ তৈরী করে বিএনপি ঘরানার কিছু নেতা কর্মী নিয়ে একটি শক্ত বলয় সৃষ্টি করে সব দিক ম্যানেজ করছেন। 

সিন্ডিকেটের এসকল অবৈধ কাজ বন্ধ করা, জনসাধারনের চলাচলের সুবিধা করে দেয়া তথা জানমালের নিরাপত্তার জন্য এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর