বুধবার   ২৪ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬   ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০

৩৯৫৩

পুলিশের আলোচিত ডিআইজি মিজানের সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

প্রকাশিত: ২০ জুন ২০১৯ ২২ ১০ ১০  

ডেস্ক নিউজ:: পুলিশের আলোচিত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং একটি ব্যাংকের হিসাব ফ্রিজের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি দমন কমিশনের এ সংক্রান্ত পারমিশন মামলার শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। বুধবার দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

দুদকের প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান, আদেশ হওয়া সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ৫৫ লাখ টাকার ‘বেইলি রিটজ’ নামে একটি ভবনের চতুর্থ তলার অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাট এবং কার পার্কিং স্পেসসহ ৫৫.৫১ অযুতাংশ জমি, দুই কোটি ২০ লাখ টাকার কাকরাইলে একটি বাণিজ্যিক ফ্ল্যাট, দোকান, জমি। যার মূল্য মোট তিন কোটি ৪৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪৬০ টাকা। আর ধানমন্ডি সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ব্যাংক হিসাবে থাকা নগদ ১০ লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদের আবেদনে বলা হয়, ডিআইজি মিজান স্বনামে-বেনামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন মর্মে অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য গত ১৩ জুন দুদকের পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বৈধ আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদসমূহ বিক্রি ও স্থানান্তর করার চেষ্টা করছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়। অসাধু উপায়ে অর্জিত সম্পদ/সম্পত্তির বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তা বেহাত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারার বিধান মতে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না বিধায় রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। ফলে বৈধ আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ/সম্পত্তি ক্রোক/ফ্রিজ করার প্রার্থনা করা হলো।

বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসমূহ অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারার অধীন বর্ণিত অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসমূহ এই মুহূর্তে ক্রোক করা না হলে তা হস্তান্তর হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার সম্ভাবনা কম। ক্রোক করা সম্পত্তি যেন হস্তান্তর, বিক্রয় বা মালিকানাস্বত্ব বদল রোধের নিমিত্তে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারের নিবন্ধন পরিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, তেজগাঁও শিল্প এলাকার ঢাকা রেজিস্ট্রার কমপ্লেক্স, নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), ধানমন্ডি/মোহাম্মদপুর/গুলশান/সাভার/উত্তরাকে নির্দেশ দেয়া হলো।

আর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের বিষয়ে আদেশে উল্লেখ করা হয়, ধানমন্ডি শাখা সিটি ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজারকে হিসাবের ওপর অবরুদ্ধ আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থ তার অবরুদ্ধ হিসাবে জমা করা যাবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই উত্তোলন করা যাবে না।

মিজানের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এক নারীকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে বিয়ে করা, বিয়ে গোপন করতে প্রভাব খাটিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা, টেলিভিশন উপস্থাপিকা ও তার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে ৬৪ টুকরো করা, ওই নারীর নামে ফেসবুকে অশালীন ছবি ছড়ানোর অভিযোগ নিয়ে বারবার সংবাদ হয়েছে। সব শেষ দুর্নীতির মামলার তদন্ত নিজের পক্ষে নিতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার মতো কাজের কথা তিনি নিজে সদর্পে ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

ঘুষ কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও দুদক কর্মকর্তা খন্দকার এনামুল বাছিরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হচ্ছে তদন্ত। তবে ডিআইজি মিজান এখনো স্বপদে বহাল।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এক নারীকে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ উঠে ডিআইজির বিরুদ্ধে। গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে ওই বছরের শেষ দিতে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে সরিয়ে পুলিশ সদরদপ্তরে নেয়া হয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদরদপ্তর।

২০১৮ সালের শুরুর দিকে সে প্রতিবেদন জমা পড়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু সোয়া এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

মিজানুরের বিরুদ্ধে করা সংবাদ পাঠিকার অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে কমিটি প্রাণনাশের হুমকি ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগের সত্যতা পায়। কমিটির কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে ডিআইজি জানান, ওই সংবাদ পাঠিকা পরিকল্পিতভাবে তার আবেগের সুযোগ নিয়ে উস্কানিমূলক কথা বলে তাকে উত্তেজিত করেছেন। ফলে তিনি নিজে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে কিছু ‘অপ্রত্যাশিত’ শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। তবে তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান।

ওই সংবাদ পাঠিকার অভিযোগ, ‘চন্দ্র মল্লিকা’ ও ‘দেশী মাল’ নামে দুটি ফেসবুক আইডি খুলে সেখানে তার আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করা হয়। এর পেছনেও ডিআইজি মিজানের হাত থাকার অভিযোগ ছিল। সাইবার ক্রাইম ইউনিট এই অভিযোগের তদন্ত নিয়ে কিছু বলছে না।

এ ছাড়া গত বছরের ৩ মে অবৈধ সম্পদসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দুদক কার্যালয়ে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মিজানকে।

প্রাথমিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে মিজানুর রহমান ও তার প্রথম স্ত্রী সোহেলিয়া আনারের আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদের খোঁজ পায় দুদক। এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। আর এই সময় মিজান ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তিনি তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর