বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

৪২৮

পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের সুরমা হোস্টেল মাদক ও অস্ত্রবাজদের আস্তানা

প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০১৯ ১৪ ০২ ১৫  

স্টাফ রিপোর্টার:: দক্ষিণ সুরমার ঐতিহ্যবাহি সিলেট পলিটেকনিক ইন্সিটিউটিটি এখন মাদক বিক্রেতা, মাদক সেবি ও অস্ত্রবাজদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। নামধারী কিছু ছাত্রলীগ নেতার ছত্রছায়ায় ইন্সিটিটিউটির কিছু শিক্ষার্থী সুরমা হোস্টেলে বসবাস করে প্রকাশ্যে শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় কিছু লোভী প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় চালিয়ে যাচ্ছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও দেশীয় মদের ব্যবসা। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কেউ কথা বললে তারা তাদের অস্ত্রের আস্তনা সুরমা হোস্টেলে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। ইন্সিটিটিউটে প্রবেশ করলে বুঝতে পারবেন কি ভাবে এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মাদকগ্রস্ত করা হচ্ছে। যদি কোন সাধারণ শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করে তারা তাকে তোলে নিয়ে মানসিক নির্যাতন ও মারধর করে যা অতিতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সমাধান করা হয়েছে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসে। পুলিশ প্রশাসনের তাদের প্রতি আচরণ দেখলে মনে হয় তারা তাদের নিরাপত্তারক্ষীবাহিনী। তাদের অনেক অপকর্মের কথা জানলেও চাকরির যাওয়ার ভয়ে বলতে পারেন না ইন্সিটিটিউটের শিক্ষকরা। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, যদি কোন শিক্ষকের সামনে অগ্নিঅস্ত্র রেখে কোন শিক্ষার্থী অযৌক্তিক দাবী করে তাহলে ঐ শিক্ষক প্রাণের ভয়ে সে যা বলবে শিক্ষক তা করবেন। উদাহরণ দিতে গিয়ে ওই শিক্ষক বলেন, এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে আলাপ করে কোন লাভ হয়নি। সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল পরিচালনা করার নিয়ম হচ্ছে হোস্টেল সুপারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে অফিস করবেন এবং তার মাধ্যমে হোস্টেলের সকল কার্যক্রম চলবে। অথচ এখানে ব্যতিক্রম নেই কোনো হোস্টেল সুপার এমনকি কোনো শিক্ষক সুরমা হোস্টেলে প্রবেশেরও অনুমতি নেই। শিক্ষকদের সাথে সুরমা হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের আচরণে মনে হবে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান চালান আর তাদের হাতের পুতুল হচ্ছেন অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের বাকি শিক্ষকরা।
দক্ষিণ সুরমা থানায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইন্সটিটিউটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন। এই সুরমা হোস্টেলের নামধারী ছাত্রলীগ নেতাদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় পড়াশুনা করছেন তারা। ভয় যেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিত্যসঙ্গী। বাবা-মা ও পরিবার অনেক স্বপ্ন নিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য পাঠিয়েছেন সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে। তাদের ছেলে পড়াশুনা করে ইঞ্জিনিয়ার হবে কিন্তু এখানে এসে মা-বাবা ও পরিবারের কথা ভুলে জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধে। ইন্সটিটিউটের সুরমা হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা জোরপূর্বকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাদকাগ্রস্ত হতে বাধ্য করছেন। শুধু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইন্সটিটিউিটের অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহ ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করছেন। যা পরে ২ ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়। বিগত কয়েকদিন আগে রাতের আধারে ইন্সিটিটিউটের মাছ বিক্রয় করে টাকা ভাগ করে নেন হোস্টেলের শিক্ষার্থী ও অধ্যক্ষ। আর সুরমা হোস্টেলের উন্নতিকরণের কথা বলে বার বার টাকা আত্মসাৎ করছেন হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা। সুরমা হোস্টেলের পরিবেশ খুব বেশি নোংরা। 
কলেজের এক ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী জানান, শুধু কাগজেপত্রে হোস্টেল সুপারের দায়িত্বে সরোজ কুমার হাওলাদার ও সহকারী সুপার এনামুল হকের নাম আছে কিন্তু কাজে নেই। তালিকভূক্তি ছাড়া প্রায় ২৫০জন শিক্ষার্থী এখানে বসবাস করে আসছেন। হোস্টেলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের নিয়মে জোরপূর্বকভাবে চলছে সুরমা ছাত্রবাস। এই বিষয়ে আলাপ করতে হোস্টেল সুপার সরোজ কুমার হাওলাদারের ব্যবহারিত মুঠোফোনে বারবার ফোন দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে আলাপ করতে ইন্সিটিটিউটের অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহকে বার বার ফোন দেওয়া হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেন নি।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর