বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৭ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১৬৫২৯

দিরাইয়ের প্রেমিকজুটি পালিয়ে বিয়ের খেসারত দিচ্ছেন প্রেমিকের পরিবার

প্রকাশিত: ৭ জুন ২০১৯ ২২ ১০ ৫০  

এ টি এম তুরাব:: বুরহান উদ্দিন। বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার দাউদপুর গ্রামে। আর আঞ্জুমান শারমিন অর্না’র বাড়ি বুরহানের পাশ্ববর্তী গ্রাম রাধানগরে। দুজনের পরিচয় গত প্রায় আট বছরের। শারমিন ও বুরহান হাইস্কুলে পড়াকালিন সময়ে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। গোপনে ফোন আলাপ আর ডেইটিংয়ের মাধ্যমে চলে দুজনার মন দেওয়া নেওয়া।

দিন যতোই যাচ্ছে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ততই গভীর হতে থাকে। এভাবে প্রায় প্রায় আট বছর পেরিয়ে গেলো। একপর্যায়ে তাঁদের গোপন প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি দুই পরিবারেই জানাজানি হয়ে যায়। বুরহানের পরিবার বিয়েতে রাজি হলেও শারমিনের পরিবার কোনোভাবেই বুরহানের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে দেবে না। তাদের প্রেম পরিণয়ে রূপ দিয়েছি। এলাকায় মেয়েটির পরিবারের বেশ ক্ষমতার দপট রয়েছে। সেই তুলনায় ছেলের পরিবার শারমিনের পরিবারের কাছে অনেকা অসহায়।  
এদিকে শারমিনের জন্য তাঁর পরিবার পছন্দের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে প্রস্তুুতি নিচ্ছেন। শারমিন ও বুরহান দুজনেই সিদ্ধান্ত নিলেন পালিয়ে বিয়ে করবেন। আর মরতে হয় দু’জন এক সাথেই মরবো, তবুও একে অন্যর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। ছেলেমেয়ে দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুজনেই গেলেন আইনজীবীর কাছে। সম্পন্ন করলেন বিয়ের হলফনামা। 
জানা যায়, বাবার আদরের কলেজপড়–য়া মেয়ে আঞ্জুমান শারমিন অর্না একদিন হঠাৎ উধাও হয়ে গেলেন। খোঁজ করতে করতে জেনেছেন শারমিনের উধাও হওয়ার মূল কাহিনী, তা নিয়ে আর সন্দেহ রইল শারমিনের পরিবারের। মেয়েটি প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়েছে। মেয়ের বাবা চেঁচাতে লাগলেন। এমন লক্ষ্মী একটা মেয়ে এমন কাজ করতে পারে, তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন। কাজেই সব দোষ গিয়ে পড়ল বেচারা প্রেমিক বুরহান উদ্দিনের পরিবারের ওপর। তাঁর নাম ও পরিবারের অপর সদস্যদের নামে দিরাই থানায় একটি অপহরণের মামলা হলো। মেয়ের বাবা আমিনুল ইসলাম আমিন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব খাটিয়ে থানায় ধরে আনা হলো প্রেমিকের বড় ভাইয়ের দশ মাসের বাচ্চাসহ স্ত্রী আইভি রহমান, বড় বোনের ৯মাসের বাচ্চাসহ তামান্না বেগম ও বুরহানের ক্যান্সার আক্রান্ত চাচি লাইলি বেগমকে। পুরো একদিন তাদেরকে থানা হাজতে আটক রাখা হলেও পর দিন তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ ঘটনায় পুলিশ প্রেমিক বুরহানের চাচা ফরহাদ আহমদ ছানু ও চাচাতো ভাই ফয়ছল আহমেদকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করে দিরাই থানা পুলিশ। পরে তাদের শারমিনের বাবার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে বুরহানের আত্মীয় স্বজনদের বাড়ি অভিযান চালিয়ে তাদের হয়রানী করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 
আঞ্জুমান শারমিন অর্না প্রেরিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক, আমরা পালিয়ে কোন অপরাধ করিনি। আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। আমি স্বেচ্ছায় আমার হবু স্বামীর কাছে এসেছি। আমরা আইন সম্মতভাবে বিয়ে করেছি। যার হাত ধরে এতদূর এসেছি তাকে ফেলে রেখে আমি কোথাও যাব না। মরতে হয় স্বামীর সাথেই মরব। 
আমার বাবা আমিনুল ইসলাম আমিন অহেতুক মামলা দিয়ে আমাকে, আমার স্বামীসহ তার পুরো পরিবারকে হয়রানি করছে। বিনা বিচারে আমার চাচা শ্বশুর জেল খাটছে। দোষ আমরা করেছি, শাস্তি দিতে হয় আমাদের দিন। কেন আমার স্বামীর পরিবারকে দিচ্ছেন। মানবাধিকার আজ সুপ্রতিষ্ঠিত, তবে পবিত্র প্রেম করে বিয়ে করার জন্য আমাদের আর কত খেসারত দিতে হবে। দয়া করে শান্তিতে সংসার করার সুযোগ করে দিন।’ 
কলেজ পড়–য়া কন্যা আঞ্জুমান শারমিন অর্না (১৯) আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মুঠোফোনের এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন।  এসময় তিনি তার স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা অপহরণের মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান। আঞ্জুমান শারমিন অর্না’র ভিডিও বার্তাটি এই প্রতিবেদকের সংগ্রহে রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম নজরুল এর সাথে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল করলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নি। 
এরপর পরিচয় দিয়ে সরকারী মোবাইল নাম্বারে ম্যাসেজ দিলেও তিনি রেসপন্স করেন নি!

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর