বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

৯৮৯

জৈন্তাপুরে লেবু চাষে সাবলম্বী প্রায় দুইশত পরিবার

মোঃ সোহাগ আহমদ, জৈন্তাপুর থেকে::

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০১৯ ২২ ১০ ২৪  

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জৈন্তিয়ার জারা লেবুর কদর এখন দেশ বিদেশে। সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় জারা লেবু চাষ করে প্রায় ২শ কৃষক পরিবার এখন স্বাবলম্বী। শুধু তাই নয় এ এলাকার উৎপাদিত জারা লেবু দেশের বাজার ছেড়ে এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।যার ফলে বদলে যাচ্ছে কৃসকদের ভাগ্যের চাকা।পাশাপাশি আন্যান্য ফসরের চেয়ে লেবুর আবাদ লাভবান হওয়ায় জ্বারা লেবু চাষের দিকে ঝুকছে অন্যান্য কৃষক।এসব এলাকার ভ’মি টিলা শ্রেণী হওয়াতে লেবু চাষের জন্য খুবি উপযোগী। জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুর বাজার, হরিপুর বাজার, জৈন্তা বাজার ও ফতেহপুর বাজারে জারা লেবুর জন্য সিলেটের মানুষের কাছে  এক পরিচিত নাম।এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা খেকে ব্যাপারিরা জারা লেবু ক্রয় করতে আসে।উন্নত প্রক্রিয়া জাত করে ব্যাপারিরা ইউরোপ,আমেরিকা, সিংঙ্গাপুর, কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, আরব আমিরাত সহ মধ্য প্রাচ্যার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে।
সরেজমিন ২টি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখাযায়, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর, হরিপুর, বাগেরখাল, শিকারখাঁ, উৎলারপার, চিকনাগুল ইউনিয়নের উমনপুর, পানিছড়া, ঠাকুরের মাঠি, নিজপাট ইউনিয়নের কালিনঞ্জি বাড়ি ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বানিগ্রাম এলাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে টিলা শ্রেণীর ভ’মিতে বাণিজ্যিক ভাবে লেবু চাষ হচ্ছে। অন্য যেকোন ফসলের চেয়ে তিন গুন ফলন বেশি হওয়ায় এবং বাজারে এর চাহিদা বেশি থাকায় ক্রমেই লেবু চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছে এলাকার কৃষক পরিবার গুলো। এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক এখন অন্যান্য ফসল চাষ বাদ দিয়ে অধিক মুনাফার আশায় জারা লেবু চাষের দিকে ঝুকছে।এ সব এলাকার অধিকাংশ নাগরিকের অন্য কোন পেশা না থাকায় জ্বারা লেবু চাষে দিনদিন বেড়েই চলেছে লেবুর বাগান তৈরীর প্রতিযোগিতা। এতে যেমন এলাকার বেকারত্ব দূর হচ্ছে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে এসব গ্রামের সাধারণ লোকজন। এক সময় এসব জমি বছরে পর বছর অনাবাদী থাকতো এখন এসব জমির কদর অন্য সম জমির চেয়ে কয়েক গুন বেড়ে গেছে। জারা লেবুর কলম করা চারা রোপনের ২ বছর পর থেকেই ফলন আসতে শুরু করে। তবে এই গাছ গুলো ৫ বছরের অধিক সময় হলে রোগ আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।জারা লেবুর বৈশিষ্ট হলো এটি খুব সুস্বাধু টক জাতীয় ফল। এসব লেবু দেখতে কুমড়ার মতো। এ লেবুর রস তেমন না থাকলে ও তা খেতে খুব সুস্বাদু।
বাগেরখাল গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বারের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান,জারা লেবু চাষের জন্য আমাদের এলাকাটি খুবি উপযোগি ভ’মি। আমাদের পূর্ব পুরুষরা জারা লেবু চাষ করেছেন শুধু নিজ পরিবারের জন্য, আমরা এখন তা বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করতে শুরু করেছি।
বাগেরখাল গ্রামের কৃষক সামছুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ দিন থেকে আমি লেবু চাষ করে আসছি।বিগত দিনে সার ও কিটনাসক পেলে ও এখন আর আমার ভাগ্যে তা ঝুটে না। আমরা যদি ভালো জাতের চারা ও প্রশিক্ষন পেতাম তাহলে লেবুর উৎপাদন দিগুণ বৃদ্ধি পেতো।
ঠাকুরে মাঠি গ্রামের লেবু চাষি মনির আহমদ জানান, সাড়ে ৪ বিগা জমিতে ২বছর থেকে লেবু চাষ করতেছি। প্রতিদিন আমার বাগানে ৫ জন শ্রমিক পরিচর্যার জন্য নিয়োজিত রয়েছে।চলতি মৌসুমে এ বাগান থেকে ১ লক্ষ টাকা মুনাফা হয়েছে। সরকার যদি আমাদের মতো প্রকৃত চাষিদের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা ও রোগ বালাই প্রতিরোধের জন্য কিটনাষক এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ করলে চাষিরা যেমন উপকৃত হবে সরকার ও জারা লেবু বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।
এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মমর্তা ড. মাহমুদুল হাসান নজরুল প্রতিবেদককে বলেন, জৈন্তাপুরের মাটি ও আবহাওয়া লেবু চাষের জন্য খুব উপযোগী এলাকা। এখানে রয়েছে উচু নিচু টিলা বৃষ্টি পানি সহজেই গাছের গুড়ায় জমে থাকতে পারে না, এজন্য এ এলাকাটি লেবু জাতিয় ফসল কম খরচে বেশী উৎপাদন করা যায়। একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৩ আউন্স পরিমান লেবুর রস খেলে ভিটামিন সি’র ঘাটতি পুরণ হয়ে যায়, অনেক জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এই ফল থেকে।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর