বুধবার   ২৪ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬   ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০

১৮০

কোম্পানীগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দী ১০০টি গ্রাম

আকবর রেদওয়ান মনা, কোম্পানীগঞ্জ::

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৯ ১৭ ০৫ ২৪  

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ধলাই নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে । বৃষ্টি না থামায় শুক্রবারও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে উপজেলার নিচু এলাকাগুলো। ফলে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উপজেলা সদরের সাথে প্রত্যন্ত গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দী হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।
ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে উপজেলা সদরের মাঠ, টিএনটি রোড ও কোম্পানীগঞ্জ গ্রামের রাস্থাসহ গ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সড়ক।

এদিকে ভারতের মেঘালয়ে ভারি বর্ষণ ও বৃষ্টিপাতের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ধলাই নদীর অববাহিকায় পানি বৃদ্ধির কারণেই উপজেলার সবকটি হাওর তলিয়ে গেছে। যার ফলে কৃষকের ব্রীজ তলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।  পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধির ফলে উপজেলা সদর হাইস্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তলিয়ে গেছে।

ধলাই নদী দিয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির কারণে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর, পশ্চিম ইসলামপুর, উত্তর রণিখাই, দক্ষিণ রণিখাই, তেলিখাল ও ইইছাকলস ইউনিয়নের প্রায় ৮০ ভাগ গ্রামের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হয়ে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাড়ী ঘর প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি গোচারণ ভূমি পানি বন্ধী হওয়ায় গো-খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদের পানি বাড়ছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি ও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ১০০টির বেশি গ্রামের মানুষ। উপজেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া প্রায় ৬০টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী জানান, ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছি। উপজেলার সকল আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। বন্যা মোকাবেলায় উপজেলার সকল দফতর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হচ্ছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর