বুধবার   ২৪ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬   ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০

৯০

কুলাউড়ায় ট্রেন দূর্ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে ডুকরে কাঁদছেন

এ টি এম তুরাব::

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০১৯ ১২ ১২ ০৮  

 সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাঘামী উপবন এক্সপ্রেস মৌলভীবাজারে কুলাউড়ার বরমচালে ট্রেনের বগি ছিটকে পড়ে দূর্ঘটনায় পতিত হয়। এঘটনায় দুইজন শিক্ষার্থীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু। আর এই দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের দেখতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে ভিড় করেছে হাজার হাজার মানুষ। হাসপাতালগুলোতে এসেছেন রেলে থাকা যাত্রীদের স্বজনেরা। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে এসে অনেকেই হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ ঘটনায় স্বজনদের আহাজারীতে ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠছে। চারিদিকে শোনা যাচ্ছে কান্নার রোল। কেউ কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন। কেউ স্বজনকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। একজন আরেকজনকে সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এক কথায় বলা যায় আহতদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস। এ যেন এক হৃয়বিদারক দৃশ্য।স্থানীয় সরকারী হাসপাতাল, বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতাল ও ওসমানী হাসপাতাল আহত ও তাদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস। সকাল থেকে বিকেলে নিহতদের পরিবার পরিজনের কান্নায় হাসপাতালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এমন একজনকে হাসপাতালে সামনে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে দেখা যায়। তার নাম আবদুর রহমান। তার ছোট ছেলে ফাহমিন। আব্দুর রহমান বলেন, আমার ছেলে রোববার ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করে। রাতে শুনেছি ট্রেন এক্সসিডেন্ট হইছে। সাথে সাথে ছেলেকে ফোন দিলে সে ফোন ধরেনি। এরপর রাতেই ঘটনাস্থলে গেলে খুঁইজ্যা থাকলেও পাইনি। কুলাউড়া হাসপাতালে গিয়েছি সেখানেও পাইনি। ছেলের ফোন বন্ধ, তাই খুঁইজ্যা খুঁইজ্যা ওসমানী মেডিকেল এসে তাকে খুঁইজ্যা পাইছি।’ দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন অদিতী সরকার (৩২)। ভেঙে গেছে তার কোমর। ঘাড় মচকে গেছে ইমরান আহমদের। সার্জিরী বিভাগে থাকা খয়রুল হক (৫০) আঘাত আরও গুরুতর। ক্যাজুয়ালটি বিভাগে থাকা রোকেয়া (৩৪) নিলুৎফল জখম হয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার বুকে রক্ত জমে গেছে। টুকরো হয়ে গেছে সুজনের পা।
এ দিকে দূর্ঘটনায় নিহতদের দুইজন সিলেট নার্সিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার ও ফাহমিদা ইয়াসমিন ইভা। সানজিদার বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার ভানদরখোলা গ্রামের মো. আকরাম মোল্লার মেয়ে ও ইভার বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুরের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আব্দুল বারীর মেয়ে   
রোববার রাতে জরুরী কাজের জন্য ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ছাড়েন তারা দুই বন্ধবী। কিন্তু তাদের আর ঢাকা যাওয়া হলো না, যাত্রা পথেই ঘাতক ট্রেন তাদের জীবনের প্রদীপ নিভিয়ে দিলো। অকালে চলে যেতে হলো তাদেরকে না ফেরার দেশে। গতকাল সোমবার ঘড়িয় কাটায় বিকাল সাড়ে ৩টা। অ্যাম্বুলেন্সযোগে সানজিদা আক্তারের মরদেহন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে পৌঁছে। এরপর সানজিদার মরদেহ তার প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেট নার্সিং কলেজে ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হলে সহপাঠী, শিক্ষকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রিয় সহপাঠী জন্য বুকভাঙা আর্তনাদ আর সানজিদাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন তাঁর অনেক সহপাঠী। বিলাপ করছিলেন, ‘আল্লাহ আমাদের বান্ধবীকে নিয়ে গেছেন, ও আল্লাহ আমাদের বন্ধবীকে পরপাওে সুখে রাখো, শান্তিতে রাখো। তাকে জান্নাত দান করো।’ তাঁদের সান্ত¡না দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন নিহতের প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা।
এরপরে ওসমানী হাসপাতালে তার মরদেহকে গোসল করানো হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় সানজিদার প্রথম জানাজা তার চিরচেনা প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিলেট নার্সিং কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের মরচ্যুয়ারিতে রাখা হয়। সানজিদা আক্তারের বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার ভানদরখোলা গ্রামের মো. আকরাম মোল্লার মেয়ে। আজ মঙ্গলবার সকালে সানজিদার পরিবারের সদস্যদের তাকে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুত্র জানিয়েছে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচালে ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে মোট ২৮ জনকে। এরমধ্যে ২৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল বাড়ি ফিরেছেন। আহতদের প্রায় সকলেই অনেকটা শংকামুক্ত। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কিছুক্ষণ পরপরই আহত রোগিরা চিকিৎসা নিতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন, আতিক (৪৫), খয়রুল হক (৫০), নিলুৎপল (৪০), সুজন চন্দ্র দেব (৪২), রেজাউল করিক (৩০), দয়াল দাশ (৩৮), মঈনউল ইসলাম (২০), ফিরোজ আহমদ (২৬) সুজন (২৩), জাহাঙ্গীর (৫৫), মোশাহিদ (৫৫), মোস্তফা (৬০), ইমরান আহমদ, মকবুল হোসেন (৬০), ইলিয়াস (৪৫), জামিল (৪৭), মোঃ শরিফ (২৩), হুমায়ুন কবির (৪৮), জাহিদুল (১৮), আব্দুর মান্নান (৫০), সেলিম রেজা (৪৫), অদিতী সরকার (৩২), খাদিজা (৫০), রোকেয়া (৩৪)। 
    এ দিকে মৌলভীবাজার কুলাউড়ায় রেল দুর্ঘটনায় রেলওয়ের চিফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্বাঞ্চল) মো. মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর