মঙ্গলবার   ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ১ ১৪২৬   ১৭ মুহররম ১৪৪১

২৭৪

কারা পুলিশের পরিত্যক্ত কোয়াটার ছিনতাইকারীদের নিরাপদ ‘আস্তানা’

ছোট-বড় দুটি গ্রুপে বিভক্ত অপরাধীরা টার্গেট ভোরের যাত্রীরা রয়েছে দেশীয় অস্ত্রের মজুদ

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০১৯ ১৫ ০৩ ০৮  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এমদাদুল হক মান্না:: সিলেট নগরীতে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা বন্দরবাজারস্থ কারা পুলিশের পরিত্যক্ত কোয়াটার। চুরি, ছিনতাই, মাদক কেনা-বেচা থেকে শুরু করে সকল অপকর্ম চলে এই সরকারি কোয়াটার ঘিরে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় এটিকে ঘাটি হিসেবে ব্যবহার করছে অপরাধীরা। ছিনতাই ও চুরিসহ নানা অপকর্মের টাকার ভাগভাটোয়ারা হয় এখানে। নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকায় পুলিশের নাকের ডগায় দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে অপরাধীরা। নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে পুলিশ। এতে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।  
জানা গেছে,  প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে ছিনতাইকারীর একটি চক্র। সন্ধ্যা নামার পর থেকে ছোট ও বড় দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অপারেশন চালায়। টার্গেট পথচারী ও রিকশার যাত্রীরা। আর বড় টার্গেট ভোর বেলা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বন্দরবাজার আসা যাত্রীরা। এই চক্রের সাথে টোকাই ও হরিজন সম্প্রদায়ের উঠতি বয়সীরা। 
সূত্র জানায়, ছিনতাইকারীরা কৌশলে সাধারণ মানুষকে কারা পুলিশের পরিত্যক্ত কোয়াটারের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয় তারা। তাছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থান ছিনতাই করা টাকা ও মোবাইলসহ বিভিন্ন মালামাল ভাগভটোয়ারা হয় এই কোয়াটারের ভেতরে। এমনকি পরিত্যক্ত প্রত্যেকটি ঘরের ভেতরে বিপুল পরিমাণে দেশীয় অস্ত্র মজুদ রেখেছে চক্রটি। এসব অস্ত্র দিয়ে জিম্মি করে পথচারীদের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে তারা। 
স্থানীয়রা জানান, এই চক্রটি মুলত ছোট-বড় দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ছিনতাই করে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। ছিনতাইকারী কালা মানিকের নিয়ন্ত্রণে বড় গ্রুপে রয়েছে শফিক, বোরহান ও বেলালসহ অর্ধশতাধিক যুবক। তাছাড়া তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আরো বেশ কিছু কিশোর। যারা সংঘবদ্ধভাবে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। 
এদের মধ্য ছোট গ্রুপের টার্গেট রিকশার যাত্রীরা। রিকশার পেছন থেকে মানিব্যাগ ছিনতাই। তাছাড়া মোটরসাইকেলে থাকা যাত্রীদের ব্যাগ ছিনতাই করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। তারা একাধিকবার জনগণের হাতে ধরা খেলেও বয়সে ছোট থাকায় মানবিক কারনে ছাড়া পেয়ে যায়। ফলে এরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন অপকর্মে। এছাড়া বড় গ্রুপ বড় বড় ধরনের ছিনতাই করে এবং ছোটদের তাদের আশ্রয় দিয়ে থাকে। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গা থেকে কৌশলে আস্তানায় নিয়ে আসে পথচারী, যাত্রী ও ব্যসায়ীদের। এখানে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। তাছাড়া মাদক কেনা-বেচাও করে বড় গ্রুপের সদস্যরা। 
এমনকি চুরি-ছিনতাইয়ের টাকা ভাগভাটোয়ারার সময় দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে তারা নিজেরা। এতে অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। নিরাপত্তার স্বার্থে কেউ মুখ খুলছেন না।  
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এসব ছিনতাইকারীরা প্রতিনিয়ত কাউকে না কাউকে ধরে নিয়ে আসে এবং তাদের কে না না হুমকি দিয়ে জোরপুর্বক সব কিছু রেখে দেয়। অনেক সময় তারা তাদের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেও তারা এরকম একটি ছিনতাইর ঘটনা ঘটায়। এই দৃশ্যটি মোবাইলে ধারণ করেন স্থানীয় যুবক। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার পর তারা আবার আস্তানা দখল করে নেয়। 
এ ব্যাপারে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কামাল জানান, জানান কারা পুলিশের পরিত্যক্ত বাসস্থান থাকায় এখানে কিছু ছিনতাইকারী আশ্রয় নিয়েছে। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছি। কিন্তু ওই পরিত্যক্ত ঘরগুলো অনেক ময়লা আবর্জনা আর কাদা হওয়ায় আমরা প্রবেশ করার আগে ও তারা পালিয়ে যায়। তবে আমরা আমাদের অবস্থান থেকে থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান  কোনো অপরাধীই পুলিশের কাছ থেকে ছাড় হবেনা। ছিনতাইকারীরা যত শক্তিশালী হোক না কেনো আমরা জিরো টলারেন্স এ তা প্রতিহত করব। আমি ইতোমধ্যে কোতয়ালী থানার ওসি কে তা বলে দিচ্ছি এবং আজকালের মধ্য আমরা বড় ধরনের একশনে যাবো।
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর