সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১১৩

কমলগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমুহে স্লিপের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ! 

আসহাবুর ইসলাম শাওন,কমলগঞ্জ:: 

প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০১৯ ১৯ ০৭ ০৮  

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন গাইড লাইন (স্কুল লেভেল ইমপ্রোভমেন্ট প্ল্যান, স্লিপ) এর কাজে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। অপ্রতুল সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাদের কারণে তদারকি সম্ভব না হওয়ায় কাজ ও মালামাল ক্রয় না করেই যার যার মতো ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার গুণগত মান ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, বিদ্যালয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন গাইড লাইন (স্লিপ) এর জন্য শিক্ষার্থী অনুপাতে উপজেলার সবকটি বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার, ৭০ হাজার ও ১ লাখ টাকা হারে সরকারিভাবে বরাদ্ধ আসে। এই বরাদ্ধের সাথে সাথে প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের খেলনার জন্য আরো ১০ হাজার টাকা হারে বরাদ্ধ আসে। বরাদ্ধকৃত এসব প্রকল্পের কাজ ও মালামাল ক্রয় করে ৩০ জুনের মধ্যে শিক্ষা অফিসে ভাউচার প্রদান করার কথা। তবে বাস্তবে কমলগঞ্জ উপজেলায় এসব কাজে ব্যাপক অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে।
এসএমসি সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে স্লিপের ভাউচার প্রস্তুত করে শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে একই প্রতিষ্ঠানের ভাউচার এমনকি শিক্ষকদের নিজস্ব তৈরি ভাউচারও রয়েছে। ৩০ জুন পেরিয়ে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিখন সামগ্রী, খেলাধুলা ও নীতিমালায় নির্ধারিত মালামাল সামগ্রীর আংশিক ক্রয় করে রেখেছেন। যে কেউ আসলে এগুলো দেখিয়ে ধামাচাপা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা এসব মালামাল ক্রয় করেননি। উপজেলার সতিঝিরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষকরা স্লিপের বরাদ্ধের খবরই জানেন না বলে জানান। ৬০ হাজার, ৮০ হাজার ও ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্ধের বিপরীতে সর্ব্বোচ্ছ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার খরচ দেখিয়ে অবশিষ্ট টাকার কোন হিসেব নেই। খরচের ওই টাকার বিপরীতে পুরো টাকার ভাউচার আগেই প্রস্তুত করে শিক্ষা অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকরা মিলে যৌথভাবে এসব বরাদ্ধের টাকার বড় অংশ ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলে এসএমসির কয়েকজন সদস্য অভিযোগ তোলেন। শ্রীসূর্য্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকটি খাতে উপজেলার সর্ব্বোচ্ছ ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা আসলেও কাজের সাথে বাস্তবের কোন মিল পাওয়া যায়নি। এমনকি স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরাও বিদ্যালয় উন্নয়নের এসব বরাদ্ধের সংবাদও জানেন না। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর প্রধান শিক্ষিকা তার স্বামীকে খবর দিয়ে এনে খরচের কিছু অগোচালো নমুনা দেখান। তবে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের স্বামী শরিফ মিয়া স্কুল কমিটির কেউ নন, শিক্ষকও নন অথচ বিদ্যালয়ের কাজের সব দায়িত্ব তিনি পালন করছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, উপজেলার কয়েকজন প্রধান শিক্ষক শিক্ষা অফিসে সার্বক্ষনিক আসা যাওয়া ও যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তারাই শিক্ষা অফিস ও সবক’টি বিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং ভাউচার তৈরি করে ব্ল্যাঙ্ক ভাউচার প্রধান শিক্ষকদের সরবরাহ করছেন। ফলে সবকটি বিদ্যালয়ের একই ভাউচার দেখা যায়।
কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি অসমঞ্জু রায় বলেন, বরাদ্ধের সব কাজ মোটামোটি সবকটি স্কুলে সম্পন্ন হয়েছে। বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য টাকা উত্তোলন করে আগাম ভাউচার দেয়া হয়েছিল। তবে এখন মেশিন ক্রয় স্থগিত থাকায় এই টাকা রয়েছে। অভিযোগ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন ৩০ জুনের মধ্যে স্লিপের টাকার কাজ শেষ হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলায় আমরা ২জন কর্মকর্তার পক্ষে ১৫২টি বিদ্যালয় তদারকি করা খুবই কঠিন। ৬ জন সহকারি শিক্ষকের পদে আছেন মাত্র ১জন। তাছাড়া সরকারি নানা প্রোগ্রাম, অফিসিয়েল কাজ, স্কুল পরিদর্শন, প্রশিক্ষণ সবই করাতে হচ্ছে। কয়েকটি স্কুলে ঘুরে স্লিপের বরাদ্ধকৃত টাকার কাজ দেখা গেছে। যেগুলোতে এখনও সম্ভব হয়নি তাদের মালামাল ক্রয় ও কাজ না করে উপায় নেই। 
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর