রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

১১৩৪

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র শাহাদাতে কারবালা মাহফিল

ইমাম হুসাইন (রা:)’র আদর্শ ধারন ও ওলামা ক্রিমিনালদের বয়কট করা সময়ের দাবী

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ০০ ১২ ৪৫  

সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, ইউএসএ:: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ কেন্দ্রিয় কমিটির উদ্যোগে পবিত্র শাহাদাতে কারবালা মাহফিল গত ১৫ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ জুবায়ের আহমদের সভাপতিত্বে এবং সহ সভাপতি মাওলানা আতাউর রহমানের পরিচালনায় এ মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন রাহবারে আলম, মাওলা হুজুর, হযরত, চট্রগ্রামের গাউছিয়া হক মঞ্জিল মাইজভান্ডার দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ম: আ:)।
মাহফিলে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও তাফসির করেন নর্থ ব্রঙ্কস জামে মসজিদ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের খতীব মাওলানা মোহাম্মদ মাসহুদ ইকবাল। পবিত্র না’ত শরিফ পাঠ করেন মাওলানা ফয়সল নেওয়াজ, সৈয়দ মুস্তানজিদ বিল্লাহ রাব্বানী বদরপুরি, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন এবং হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।
মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামীক চিন্তাবিদ আহলে বায়ত মিশন কমপ্লেক্সের খতিব ড. আল্লামা আনসারুল করীম আল আজহারী। আরো বক্তব্য রাখেন ব্রঙ্কসের মসজিদ নূর উল হুদা জামে মসজিদের ইমাম ও প্রিন্সিপাল আল্লামা মুদ্দাসির হুসাইন নক্সবন্দী ক্বাদরী এবং ফুলতলী জামে মসজিদের খতীব আল্লামা মুফতি ড. সৈয়দ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইউএসএ’র মহাসচিব আলহাজ্ব মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
প্রধান অতিথি বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী বলেন, ১০ ই মহররম অসংখ্য গঠনাবলীর মধ্যে সবচেয়ে মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক গঠনা হল কারবালা ময়দানে ইমাম হুসাইন (র:)’র শাহাদাত বরণ। ইমাম হুসাইন (রা:) নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাতানত করেন নি। সত্য, ন্যায় ও হকের পক্ষে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। কারবালার যুদ্ধ ছিল একদিকে অন্যায়, অসত্য ও জুলুম, অন্যদিকে ন্যায়, সত্য ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। ইমাম হুসাইন (রা:) আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন, শত বাধা বিপত্তি, জুলুম, অত্যাচার, অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। ১০ ই মহররম কারবালার ঐতিহাসিক গঠনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইমাম হুসাইন (রা:)’র আদর্শ ধারন করে বিশ্বের মুসলমানদের সকল প্রকার বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অতীব প্রয়োজন।
সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী বলেন, নতুন প্রজন্মকে কারবলার শিক্ষা ও সঠিক ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নত যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ কাজটি করা সহজ।
আলহাজ্ব সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী আরো বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হল ইসলামের একমাত্র সঠিক আকিদা। পরিপূর্ণ ইমানদার হতে হলে আমাদেরকে ইমাম হুসাইন (রা:)’র আদর্শ ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারি হতে হবে। বর্তমান বিশ্বে নির্যাতিত, অত্যাচারীত মুসলিম দেশ বিশেষ করে ইয়ামান ও কাশ্মিরের মুসলামানদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মুসলমানদের ভিন্ন ভিন্ন দলে উপদলে বিভক্তি এবং বিভিন্ন ধরনের মতানৈক্য থেকে বিরত থাকতে হবে। কুরআন সুন্নাহ নির্দেশিত কল্যাণমূলক খোদাভীরুতার কাছে পরস্পর সহযোগী হতে হবে। মন্দ ও সীমা লঙ্ঘনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।  
ড. আল্লামা আনসারুল করীম আল আজাহারী বলেন, শাহাদাতে কারবালা হক্বের পক্ষে সকল বাতেল ফেরকা ও ধর্মদ্রোহী মতবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের শিক্ষা দেয়। অভিশপ্ত এজিদবাদের কাছে মাথানত না করে কোরআন সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ গঠন করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন : হে নবী, আপনি বলে দিন আমি তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না, একমাত্র আমার বংশধর (আহলে বায়ত) তথা নিকট আতœীয়দের প্রতি মুহব্বত ও ভালবাসা ব্যতিত। আহলে বায়ত এর প্রতি ভালবাসাই ঈমান। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি আহলে বায়তের প্রতি ভালবাসা ফরজ করে দিয়েছেন।
নবী করিম (সা:) ইরশাদ করেন, ইমাম হাসান (রা:) ও ইমাম হুসাইন (রা:) উভয়ে জান্নাতের যুবকদের সর্দার। বর্তমানে একধরনের নামধারী ওলামা কেরাম কুরআন হাদিসের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ইসলামের নামে আইন আমল ও ফতোয়ার বাড়াবাড়ি খোদার আইনের ছদ্মনামে নিজেদের ফেরাউনি প্রভূত্ব সৃষ্টিকারী বাতেল ফেরকা ইসলাম ও মুসলিম মিল্লাত সমগ্র মানবতাকে মহাবিপন্ন করে তুলেছে। এরা ওলামা ক্রিমিনাল। শাহাদাতের কারবালার শিক্ষা তাদের মধ্যে নেই। এই সব ওলামা ক্রিমিনালদের বয়কট করা সময়ের দাবী।
বক্তারা আরো বলেন, কোরআন হাদিসের নির্দেশীত পথে চলার মাধ্যমে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি লাভ সম্ভব। ছাহাবায়ে কেরাম হলেন সত্যের মাপকাঠি এবং নক্ষত্র তুল্য। 
বর্তমানে পবিত্র মহররম মাস আসলেই এক শ্রেণীর আলেম মাঠে ময়দানে, মসজিদে এবং মিডিয়ায় সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে কুৎসা রটনায় লিপ্ত থাকে। তারা হজরত আমীরে মুয়াবিয়া (র:) সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দেয়। অথচ ছহিহ হাদিস শরিফ ও ওলামায়ে কেরাম (আরব, আজম) সকলে একমত পোষন করেন যে, হজরত আমীরে মুয়াবিয়া (রা:) সম্পর্কে দোষারোপকারীরা জাহান্নামী। তারা ইসলামি গন্ডির বাইরে। তাদের সাথে চলাফেরা করা, খাওয়া-দাওয়া নাজায়েজ। আল্লাহ আমাদেরকে আহলে বায়তদের ভালবাসা ও মুহাব্বত করার তৌফিক দান করুন। 
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা সৈয়দ জুবায়ের আহমদ প্রধান অতিথি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী সহ সকল অতিথি ও মুসল্লীবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ছালাতু সালাম, ক্বিয়াম, বিশেষ মুনাজাত ও তবারক বিতরণের মাধ্যমে পবিত্র মাহফিল শেষ হয়। দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন ড. আল্লামা আনসারুল করীম আল আজহারী।
মাহফিলে নিউইয়র্ক ছাড়া ও পাশ্ববর্তী বিভিন্ন স্টেট থেকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, গাউছিয়া কমিটি, গাউছিয়া হক কমিটির বিপুল সংখ্যক আশেকান অংশ নেন। অনেক মহিলা শ্রোতাও মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, আলহাজ্ব মোহাম্মদ আসলাম হাবীব, মাওলানা সৈয়দ মঈনুল হক, মোহাম্মদ ওমর ফারুক, মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী, মোহাম্মদ মুরাদুল আলম, মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী, মোহাম্মদ দিদার, আলহাজ্ব মাহাবুবুর রহমান, মোহাম্মদ শামিম তালুকদার, মোহাম্মদ শাহা আলম, মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ নাদের, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ তাহিম চৌধুরী, মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান, মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, আলহাজ্ব সাইদুর রহমান দস্তগীর, মোহাম্মদ শাহাজাহান, মোহাম্মদ মফিজ, মোহাম্মদ এসকান্দর, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, মোহাম্মদ খায়রুল বশর, আহমদ কবির, সৈয়দ আব্দুল মতিন, মোহাম্মদ আকিকুর রহমান ফারুক, মোহাম্মদ বদরুল হক, গিয়াস আহমেদ, নুরু, সাবের আহমেদ, শাহা জাকারিয়া প্রমুখ।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর