বৃহস্পতিবার   ১৭ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ২ ১৪২৬   ১৭ সফর ১৪৪১

১২৯৬

অভিভাবক শূণ্য হচ্ছে সিলেটের আওয়ামী লীগ

সুলতান সুমন::

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০১৯ ২৩ ১১ ৩৫  

ক্রমেই রাজনৈতিক অভিভাবক শূণ্য হচ্ছে সিলেট আওয়ামী লীগ। একেক করে পরকালে পাড়ি জমাচ্ছেন সিলেটের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা। এক সময় এসকল রাজনৈতিক নেতারা নের্তৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে শুরু করে বিভাগ বা জেলা পর্যায়ে। বিভিন্ন সময় নানা দপ্তরের মন্ত্রীও ছিলেন তারা। তাছাড়া সিলেট আওয়ামী লীগের অনেক বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদরা মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও রেখেছেন অসামান্য অবদান।

বুধবার (১৪ আগষ্ট) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক আ,ন,ম,শফিকুল হক। ১৯৭৫ পরবর্তী সিলেটের আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে শক্তহাতে দলের হাল ধরে ছিলেন তিনি ।

২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো.আজিজুর রহমান। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে সিলেটের ছাত্র গণজাগরণের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে সিলেট-২ (বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আজিজুর রহমান বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

সিলেট আওয়ামী লীগ রাজনীতির প্রাণ পুরুষ ও র্কর্ণধার ছিলেন ইফতেখার হোসেন শামীম ।  ২০১২ সালের ১১মে ভারতে চিকিৎসা শেষে ঢাকা থেকে সিলেট আসার পথে দয়ামির নামক স্থানে ভোর ৫টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৭১সালে সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। তাছাড়া সিলেট জেলা আওয়াম লীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। আর সিলেটের ১আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১সালে নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থী মরহুম খন্দকার আব্দুল মালিকের কাছে পরাজিত হন।

দীর্ঘ দিন শারীরিক অসুস্থতার পর ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে মৃত্যু বরণ করেন সাবেক রেলমন্ত্রী ও সিলেটের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এই মৃত্যুতে সিলেটের রাজনীতিতে দেখা দেয় নেতৃত্ব শূন্যতা। ২০০১ সালে সাবেক স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মৃত্যু মাধ্যমে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিলো সুরঞ্জিত সেনগুপ্ততে এসে তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর-মাঝখানে চলে গেছেন দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এনামুল হক মোস্তফা শহীদ ও সৈয়দ মহসিন আলীসহ আরো কয়েকজন জাতীয় নেতা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সিলেট বিভাগের নেতাদের মধ্যে আব্দুস সামাদ আজাদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী স্পিকার, শাহএএমএস কিবরিয়া অর্থমন্ত্রী ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
সিলেটের অন্যান্য জাতীয় নেতাদের মধ্যে ২০০১ সালে সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল আব্দুস সামাদ আজাদ, ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়ান ফরিদ গাজী,, ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সৈয়দ মহসিন আলী, ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এনামুল হক মোস্তফা শহীদ মারা যান। আর ২০০৪ সালের ২৭ হবিগঞ্জের নিজ এলাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন শাহএএমএস কিবরিয়া।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক মায়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুও পূর্বে তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।
সিলেট আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, যে সকল বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা মৃত্যুবরণ করেছেন।তাদের অভাব কোনভাবে পূরণ হওয়ার মতো নয়। এসকল বর্ষিয়ান রাজনৈতিক নেতাদেরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছেন । তা কখনও ভুলার নয়।

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর