সোমবার   ১৯ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৩ ১৪২৬   ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৫১৭

অবৈধভাবে গরু নিয়ে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে দু’দিনে ৮ জন গুলিবিদ্ধ

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০১৯ ০১ ০১ ৫৮  

আলিম উদ্দিন, কানাইঘাট থেকে:: কানাইঘাটের ডনা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে দু’দিনে ৮ জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় কানাইঘাট থানায় ১২ জন চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে মামলা হলেও গত রবিবার রাতে লোভাছড়ার আপা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দু’জন চোরাকারবারী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় বিজিবি’র পক্ষথেকে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলি উপেক্ষা করে প্রতিদিন হাজার হাজার গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসার প্রতিযোগীতা শুরু হয়েছে বলে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন। 
স্থানীয়রা জানান ভারত থেকে প্রতিদিন কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকা দিয়ে হাজার হাজার গরু মহিষ আসার কারনে এলাকার গ্রামীন রাস্তা-ঘাট ও ফসলাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। কেউ চোরকারবারীদের বিরদ্ধে কথা বললে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে স্থানীয়দের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে চোরাকারবারীরা মোটা অংকের দৈনিক ও সাপ্তাহিক উৎকুচ বিজিবি’কে দিয়ে তাদের এ অবৈধ গরু মহিষের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ডনা বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে স্থানীয় ১২ জন চোরাকারবারীর বিরুদ্ধে কানাইঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১২৪/১১২, তাং- ২৬/০৫/২০১৯ইং। মামলায় লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউপির এরালীগুল গ্রামের রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উক্ত মামলায় একই ইউপির রাতাছড়া গ্রামের চোরাকারবারী আবুল কালাম, সাদ্দাম হোসেন, লোকমান হোসেন, আফতাব উদ্দিন, আবু মিয়া, কাছারীপাড়া গ্রামের ফরিদ উদ্দিন, পাতিছড়া গ্রামের সোহাগ উদ্দিন, পানিছড়া গ্রামের সাহাব উদ্দিন, মাদারপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিন সহ ১২ জনকে আসামী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে ডনা সীমান্ত দিয়ে চোরাকারবারীরা ভারত থেকে গরু মহিষ নিয়ে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের উপর চোরকারবারীরা হামলা করলে বিএসএফ’র গুলিতে দু’দিনে অন্তত ৮ জন চোরকারবারী গুলিবিদ্ধ হন। এতে আহত চোরাকারবারীরা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সিলেটের কয়েকটি ক্লিনিকে গিয়ে ভর্তি হলে সেখানে বিজিবি ১ জন চোরাকারবারীকে আটক করে। এছাড়া অন্যান্য চোরকারবারীদের আটকের জন্য বিজিবি’র নজরধারী রয়েছে বলে জানা গেছে। 
অপরদিকে গত রবিবার রাত অনুমান সাড়ে ৮টায় লোভাছড়া এলাকার আপা সীমান্তে বড়গ্রামের সুলতান নামের এক গরু ব্যবসায়ীর শতাধিক গরু মহিষের একটি চালান সীমান্তের অপার থেকে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসতে বিএসএফ’র গুলিতে বড়গ্রামের আব্দুল মতিনের পুত্র মিনহাজ উদ্দিন (২০) ও সাউদ গ্রামের আব্দুর রকিবের পুত্র মুসলিম উদ্দিন (২৮) গুরুতর আহত হন। এছাড়া মুলাগুল কোনাপাড়া গ্রামের কুটি মিয়ার পুত্র সুহেল আহমদ (২২) কে গুরুতর আহত অবস্থায় বিএসএফ তাকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে ভারতের জোয়াই ক্যাম্পের তত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে তার মামা বাংলাটিলা গ্রামের সহিদুর রহমান জানিয়েছেন। 
এছাড়া অপর গুরুতর আহত দু’জনের মধ্যে মিনহাজ উদ্দিন সিলেটের টিলাগড়স্থ একটি ক্লিনিকে এবং মুসলিম উদ্দিন সিওমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় লোভাছড়া বিজিবি’র পক্ষথেকে চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লোভাছড়া বিজিবি’কে ম্যানেজ করার নামে বড়গ্রামের সুলতান আহমদ ভারত থেকে চোরাইপথে নিয়ে আসা প্রতিটি গরু থেকে ৫ শত টাকা ও মহিষ থেকে ১ হাজার টাকা বিজিবি’র নামে উৎকুচ আদায় করে বলে স্থানীয় ভাবে অভিযোগ রয়েছে। তাই উক্ত ঘটনার পরও প্রতি রাতে সুলতান আহমদের গরু মহিষ লোভাছড়ার কালীজুরী ও নুনগাং এলাকা দিয়ে লোভানদী পার হয়ে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ী, ফসলাদি ও ক্ষেতের জমি নষ্ট করে উপজেলার সড়কের বাজারে নিয়ে বিক্রি করে বলে জানা গেছে।
এদিকে বড়গ্রামের সুলতান আহমদের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি জানান, ঐ দিনের গরু মহিষ গুলো তার ছিলোনা এবং তিনি বিজিবি’কে কোন উৎকুচ দিয়ে গরুর ব্যবসা করেন না। তিনি বলেন, ভারতের আপা সীমান্ত হয়ে ভালুকমারা-ডাউকেরগুল, সাউদগ্রাম-বড়গ্রাম দিয়ে তিনি গরু মহিষ দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে আসেন। এতে তাকে কেউ কখনো বাঁধা দেয়না। আর বিজিবি’র পক্ষে উৎকুচ আদায় প্রসংঙ্গে তিনি বলেন, একই এলাকার ফুল মিয়ার পুত্র সাহাব উদ্দিন উক্ত উৎকুচ আদায় করে বলে তিনি জানান।
এদিকে লোভাছড়া বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার জাকারিয়া বলেন, গত রবিবার রাতে আপা সীমান্ত এলাকায় চোরাইপথে ভারতীয় গরু মহিষ আনতে গিয়ে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে দু’জন আহত ও একজন বিএসএফের হাতে আটকের ঘটনাটি আমার জানা নেই। এছাড়া লোভাছড়া বিজিবি’র ক্যাম্প এলাকায় কারা ভারতীয় গরু মহিষের চোরাকারবারী এ বিষয়টিও আমি জানি না। আর বিজিবি’র নামে উৎকুচ আদায়ের ব্যাপারে আমি খোঁজ নিচ্ছি। এরকম ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেয়া হবেনা বলে জানান তিনি।
 

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর