রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৪ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

১২৯৫

অতিদরিদ্রদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনসার ও মতিউর`র বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ১৪ ০২ ০০  

ডেস্ক রিপোর্ট:: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্যের বিরুদ্ধে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী-চাকরিজীবীদের নাম ঢুকিয়ে তাদের মাধ্যমে টাকা  উত্তোলন করে সেই টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিনিধি। সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ঐ ইউপি সদস্যের সাথে হাত মিলিয়ে তিনি নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। ইউপি সদস্যের নাম আনসার আলী। 

তিনি কান্দিরপথ গ্রামের আনফর আলীর পুত্র। আর তার সহযোগির নাম মতিউর রহমান। তিনি দেবাইরবহর গ্রামের জমসেদ আলীর পুত্র। খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেব বাজারে বিশাল মুদি দোকান বরবন গ্রামের ইর্শাদ আলীর পুত্র আরব আলীর। প্রতিদিন ২/৩ জন কর্মচারি কাজ করেন দোকানটিতে। অথচ সেই আরব আলী নিয়মিত অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন। প্রকল্পের কাজ চলাকালীন নিয়মিত উপস্থিত থেকে দৈনিক দু’শো টাকা হারে মজুরিও গ্রহন করছেন। তিনি নিজে বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইউপি সদস্য আনসার আলীর কাগজপত্রে তাই  উল্লেখ করা হয়েছে। এই ইউনিয়নের সাহেব বাজার ঈদগাহ থেকে চান্দাই পর্যন্ত রাস্তার কাজে গত বছর ১৭ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত যে ৮০ জন অতিদরিদ্র মানুষ অংশগ্রহন করেছেন ও দৈনিক দু’শো টাকা হারে মজুরি নিয়েছেন তাদের মধ্যে শুধু আরব আলীই নয়, আছে স্কুলের অফিস সহকারি, মাদ্রসার শিক্ষকসহ ও আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীর নাম। সাহেব বাজার সুন্নিয়া হাফিজি মাদ্রাসার শিক্ষক হাফিজ আব্দুল মালিক। তার এক ভাই একই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের প্রধান, আরেক ভাই স্কুল শিক্ষক এবং অপর এক ভাই সাহেব বাজারেরই ব্যবসায়ী। অথচ তার নামও আছে অতি দরিদ্রদের তালিকায়। 

তাকেও কাগজে কলমে বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিত উপস্থিত ও মজুরি নেওয়ার বিষয়টি দেখিয়েছেন ইউপি সদস্য আনসার আলী। অথচ সরজমিনে সাহেব বাজার গেলে আরব আলীর মতো আব্দুল মালিকও অস্বীকার করেছেন টাকা নেয়া বা কাজে উপস্থিতির ব্যাপারে। তারা জানিয়েছেন, আনসার আলী গরিব মানুষের জন্য ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করবেন, এ সংক্রান্ত কমিটিতে তাদের মতো মানুষ থাকা প্রয়োজন, তাই তাদের নাম কমিটিতে রাখা হয়েছে ইত্যাদি বুঝিয়ে তাদের সম্মতি আদায় করেছেন। ২ বার তারা ব্যাংকের চেকে সই দিয়েছেন। তবে নিজেরা কোন টাকা পাননি বা এ ধরণের কোন কাজে তারা কখনোই অংশগ্রহন করেন নি বলেও দাবি করেছেন। শুধু আরব আলী বা আব্দুল মালিকই নয়, একইভাবে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে নাম রয়েছে সাহেব বাজারের আরো ৪ জন ব্যবসায়ীর। তারা হলেন রেহান ভেরাইটিজ স্টোরের মালিক রেহান উদ্দিন, গাড়ির পার্টস ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম শুক্কুর, ইসলাম সিএনজি অটো-ইনিঞ্জনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক ইসলাম উদ্দিন ও তার ভাই রফিক টেলিকমের মালিক রফিক উদ্দিন। 

তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তবে ইউপি সদস্য আনসার আলী তাদের নানাভাবে বুঝিয়ে তালিকায় তাদের নাম দিয়েছেন। তারা কেউ কাজ করা বা মজুরি নেয়ার কথা স্বীকার করেন নি। তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাদের কেউ কেউ কাজে হাজির না হয়েও টাকা পেয়েছেন, আর বেশিরভাগের নাম ব্যবহার করে টাকা আত্মসাত করছেন ইউপি সদস্য আনসার আলী ও তার সহযোগি মতিউর রহমান। মতিউর স্থানীয় একটি পত্রিকার এয়ারপোর্ট থানা প্রতিনিধি পরিচয়ে গোটা এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও স্থানীয়রা জানান। আর তাকে সবসময় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন আনসার আলী। তারা পরস্পরের যোগসাজসে প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীদের নাম তালিকায় দিয়ে সেই টাকা দুজন মিলে আত্মসাত করছেন। এমনকি মতিউর রহমান একজন প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী হলেও অতিদরিদ্রদের তালিকায় নিজের নাম তালিকাভূক্ত করে ভূয়া হাজিরা দেখিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী দৈনিক দু’শো টাকা হারে মজুরি নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে বিশ^স্ত একাধিক সূত্র। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি সুপারভাইজার হিসাবে কাজ করেছি। সেটি দরিদ্র বা অতিদরিদ্রের কোন ব্যাপার নয়। আর নানা অপকর্মের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি মহল ঈর্ষন্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবীদের নাম কেন এমন প্রশ্নের জবাবে খাদিমনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনসার আলী বলেন, এসব আপনাকে কে বলেছে? তা জানানো যাবেনা জানালে তিনি বলেন, সরকার যে টাকা দেয় তাতে শ্রমিক পাওয়া যায়না। আমি কিছু নিজের মানুষকে তারিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের মাধ্যমে টাকা তুলে অন্যান্য শ্রমিককে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, কারো টাকা আত্মসাত করেছি এমন কোন অভিযোগ কোনদিন তার নামে উঠেনি। কেউ তুলতে পারবেনা। তালিকাটি যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে খাদিমনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেন নি। 

সাহেব বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও অতি দরিদ্র স্থানীয় কয়েকজন অধিবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই মেম্বার আমাদের কাজ না দিয়ে ধনীদের নাম দিয়ে টাকা দিচ্ছে, নিজেও আত্মসাত করছে। তালিকার ৮০ জনের মধ্যে অন্তত ৪০ জনের বেশি আছেন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী। তারা তালিকাটি দ্রুত সংশোধন ও অসৎ আনসার আলী এবং তার সহযোগি মতিউরের বিরুদ্ধে দ্রæত আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। - সূত্র: নিউজ মিরর

Dream Sylhet
ড্রীম সিলেট
ড্রীম সিলেট
এই বিভাগের আরো খবর